ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক; ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই নয় -প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে আইন ও ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
লিগ্যাল এইড ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “অ্যাক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।”
তিনি আরও জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের ভেতরের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।
বক্তব্যে তিনি নিজ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনি এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা শুধু আর্থিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে কারাগারে ছিলেন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে সমতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ ধরনের বক্তব্য বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সামনে আনে, তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয়
মাঠে থাকা সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরার সময় জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের প্রয়োজন ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি কোস্টগার্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের প্রশংসাও করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাঠে থাকা সেনা সদস্যরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচনসহ বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের মোতায়েন করা হয়েছিল।
এর আগে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছিল। সেই সময় নির্ধারিত দায়িত্ব শেষে ধাপে ধাপে ফেরানোর কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি।
জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্তব্য ব্রিফিংয়ে জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই। তবে অতীতে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের চিঠি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার একটি নিয়মিত বিষয়।
কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক জানান, গত এক বছরে নদীপথে বাহিনীর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাহিনীতে এখনো জনবল সংকট রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, কোস্টগার্ড (সেবা) পদক এবং প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, কোস্টগার্ডের জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের প্রয়োজন ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করা হবে।
জাতীয়
আজ থেকে রাজধানীর ১১টি পাম্পে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে রাজধানীর ১১টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব পাম্পে কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধন ছাড়া জ্বালানি দেওয়া হবে না। জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর নির্বাচিত ১১টি ফিলিং স্টেশনে এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। শাপলা চত্বর, মহাখালী, উত্তরা, তেজগাঁও, মিরপুর, গাবতলী ও কালশী এলাকার কয়েকটি পাম্প এই তালিকায় রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এবার বাধ্যতামূলক পর্যায়ে যাচ্ছে উদ্যোগটি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারবেন। মোবাইলে সংরক্ষণ কিংবা প্রিন্ট কপি সঙ্গে রেখেও জ্বালানি নেওয়া যাবে। আইফোন ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি যাদের স্মার্টফোন নেই, তারাও প্রিন্ট করা কিউআর কোড ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ‘ঘ’ সিরিজের নিবন্ধনও উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ফুয়েল পাস চালুর লক্ষ্য শুধু জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করা। এর আগে ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপ চালু হয়। পরে ২১ এপ্রিল ঢাকার কয়েকটি স্টেশনে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এবার সেই পরিসর বাড়ল।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, কিউআর কোডভিত্তিক এই ব্যবস্থায় সরবরাহ পর্যবেক্ষণ সহজ হবে, অনিয়ম কমবে এবং দীর্ঘ লাইনের চাপও কমতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু পাম্পে অপেক্ষার সময় কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ব্যবহারকারীদের একাংশ সার্ভার জটিলতা ও তেলের সীমা নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, “সার্ভার ডাউন” থাকলে নিবন্ধন ও ব্যবহার দুটোতেই ভোগান্তি হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের কাছে সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে জ্বালানি সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।
জ্বালানি খাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার এই নতুন ধাপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজধানীতে সফল হলে এটি দেশজুড়েও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে রাজধানীর ১১টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব পাম্পে কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধন ছাড়া জ্বালানি দেওয়া হবে না। জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
‘যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে: যশোরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।’
জামায়াতের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সাথে ঢাকার বাইরে মিটিং করে তারা জনগণের জন্য কখনো কাজ করে না। যারা ৭১, ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয সতর্ক থাকতে হবে।

আজ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সোমবার বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হাজার থেকে লাখ লাখ, এরপর লাখ লাখ থেকে কোটিতে পৌঁছাবে। এছাড়া বন্ধ অনেক কল-কারখানা কয়েক মাসের মধ্যে চালু করবে সরকার। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেস্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে এবার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একইসাথে তিনি বলেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করবে, এমন কাজ করতে দেয়া হবে না। কোনো টিকিট বিক্রি নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বিএনপি সরকার।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে জনগণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভাল রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’
মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারাদেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দিব যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এখন তিনি শার্শার উলশি খাল খননের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ১২টায় শার্শায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। এরপর দুপুর ২টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।
সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’
নারী প্রধান পরিবারের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা আমাদের ওয়াদা রেখেছি। মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করব সকল গ্রাম, দেশের সকল গ্রামে সকল মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মায়ের কাছে প্রতি নারী পরিবারের প্রধানের কাছে আমরা মাসের পক্ষ থেকে ইনশাল্লাহ আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের দেখভাল করতে পারে, তাদের সন্তানের পড়াশোনা দেখাশুনা করতে পারে ভাল করে। তাদের সন্তানকে দু-চারটি ভাল ফল খাওয়াতে পারে যাতে করে তারা মা-বোনেরা একই সাথে সেই আড়াই হাজার টাকা থেকে ছোট ছোট উদ্যোক্তা গ্রহণ করতে পারেন-হাঁস পালন, মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালন এরকম কাজের মাধ্যমে যাতে মা-বোনদের একটা নিজের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হয় সেটি আমরা করতে চাই।’
কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক কল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক কল-কারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রফতানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেইসব দেশের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রফতানিতে গতি আনতে পারবো।
তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে-মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।
জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর দুপুর ২টায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই; তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হসপিটালটি যখন হবে, স্বাভাবিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ রোগীর ব্যান্ডেজ, ওষুধ বা অপারেশন থিয়েটারের যেসব বিষয় থাকে সেগুলো প্রোভাইড করা হবে। হয়তো দেখা যাবে রোগীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে; কিন্তু সরকারেরও একটা ক্যাপাসিটি আছে। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে প্রিভেনশনটার ওপর জোর দেবো। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করবো যাতে বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে কিভাবে দূরে রাখা সম্ভব। তাছাড়া আমরা চেষ্টা করছি প্রাইভেট পার্টনারশিপ। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকলে চিকিৎসার সুবিধা থেকে অনেককে বঞ্চিত হতে হয় বা হাসপাতালের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী সম্ভব হয় না। তাই যেটা করতে চাচ্ছি প্রথম পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং গুরুতর বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী প্রেরণ করা। সরকারের পক্ষ থেকেই আমরা সেই খরচ বহন করবো।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যশোরে ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলো।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।


এরপর দুপুর ২টায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই; তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।
রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি গবেষক হত্যা: তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সিএনএন জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ, তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় শেষবার দেখা যায় ২৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে। ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজের খবর জানানো হয়। পরে ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ পুলিশকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। কখনও তিনি দাবি করেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে সেদিন দেখেননি। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য সামনে আসার পর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রক্তের আলামত, ১৬ এপ্রিলের একটি কেনাকাটার রসিদ এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণের তথ্যও পেয়েছেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে বলেছেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস।” তাদের দাবি, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত। মঙ্গলবারের প্রি ট্রায়াল শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হবে।
নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো শনাক্ত না হলেও হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণের জলপথ থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। যদিও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
নিহত জামিল আহমেদ লিমন পরিবেশ ও জলাভূমি গবেষণায় কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী গবেষক ছিলেন। পরিবার বলছে, তারা শুধু সত্য জানতে চায়।
লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার, মরদেহ দেশে পাঠানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতাও চেয়েছে তারা।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট, মৃত্যু গোপন এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মামলাটি আরও গুরুতর মোড় নিয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সিএনএন জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ, তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় শেষবার দেখা যায় ২৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে। ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজের খবর জানানো হয়। পরে ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ পুলিশকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। কখনও তিনি দাবি করেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে সেদিন দেখেননি। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য সামনে আসার পর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রক্তের আলামত, ১৬ এপ্রিলের একটি কেনাকাটার রসিদ এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণের তথ্যও পেয়েছেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে বলেছেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস।” তাদের দাবি, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত। মঙ্গলবারের প্রি ট্রায়াল শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হবে।
নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো শনাক্ত না হলেও হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণের জলপথ থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। যদিও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
নিহত জামিল আহমেদ লিমন পরিবেশ ও জলাভূমি গবেষণায় কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী গবেষক ছিলেন। পরিবার বলছে, তারা শুধু সত্য জানতে চায়।
লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার, মরদেহ দেশে পাঠানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতাও চেয়েছে তারা।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট, মৃত্যু গোপন এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মামলাটি আরও গুরুতর মোড় নিয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।
আন্তর্জাতিক
ফ্যামিলি কার্ডের পর ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
রান্নার জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সহায়তায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি এবার মা-বোনদের হাতে এলপিজি কার্ড পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রান্নাবান্নার কষ্ট শহর-গ্রাম সব জায়গার নারীদেরই বহন করতে হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, “এলপিজি গ্যাস মা-বোনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ওয়াদা করেছি, সেই ওয়াদা রাখব। দেশের সব মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।”
উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে তিনি সরকারের বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। জানান, শুধু এই খাল নয়, সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য রয়েছে, যাতে কৃষি, সেচ, স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গতি আসে।
নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি এবং নারীপ্রধান পরিবারকে আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে। “আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে অনেক বন্ধ কারখানা চালু করা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তার ভাষায়, “জনগণের সমর্থন নিয়ে যতদিন দায়িত্বে থাকব, দেওয়া প্রতিটি জবান অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করব।”
খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের কর্মসূচি ব্যাহত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই এলপিজি কার্ড ঘোষণা গৃহস্থালি ব্যয় ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবার ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রান্নার জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সহায়তায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয়
বর্তমান সরকার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমালো ৬ মাস
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এরপর এই বিশেষ মর্যাদা আর বহাল থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্তে ড. ইউনূসের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব ছাড়ার পর যে মেয়াদে ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকার কথা ছিল, তা ছয় মাস কমে যাচ্ছে।
১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের আওতায় তাকে এসএসএফ সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই মেয়াদ আর পূর্ণ এক বছর থাকছে না।
১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। এর পর থেকেই ড. ইউনূস এসএসএফ নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সেই সুবিধা বহাল থাকবে।
সরকারি সূত্র বলছে, এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় তার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং প্রয়োজন হলে দেশ-বিদেশ সফরেও নিরাপত্তা সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে নতুন মেয়াদ শেষে এসব বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটবে।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা ও প্রোটোকল পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক শীর্ষ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কাঠামো নিয়ে নতুন করে নীতিগত পর্যালোচনার ইঙ্গিতও থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তে। তবে সরকারিভাবে এমন ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। এখন সেই মেয়াদ ছয় মাসে নামিয়ে আনা নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এরপর এই বিশেষ মর্যাদা আর বহাল থাকবে না।
১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের আওতায় তাকে এসএসএফ সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই মেয়াদ আর পূর্ণ এক বছর থাকছে না।
১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। এর পর থেকেই ড. ইউনূস এসএসএফ নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সেই সুবিধা বহাল থাকবে।
সরকারি সূত্র বলছে, এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় তার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং প্রয়োজন হলে দেশ-বিদেশ সফরেও নিরাপত্তা সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে নতুন মেয়াদ শেষে এসব বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটবে।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা ও প্রোটোকল পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক শীর্ষ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কাঠামো নিয়ে নতুন করে নীতিগত পর্যালোচনার ইঙ্গিতও থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তে। তবে সরকারিভাবে এমন ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। এখন সেই মেয়াদ ছয় মাসে নামিয়ে আনা নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয়
দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা: জঙ্গি হামলার শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য নাশকতার গোয়েন্দা সতর্কতার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময়ই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি সতর্কতামূলক চিঠিকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই চিঠিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠি পাওয়ার পর বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি জোরদার করা হয়েছে টার্মিনাল, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাতেও।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত হয়নি। তারপরও আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট ওঠানামা করে না, সেগুলোতেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলার চেষ্টা করতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে। এসব বিমানবন্দরে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটির পাশাপাশি এপিবিএন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। নতুন সতর্কতার পর তাদের কার্যক্রমও আরও সমন্বিত করা হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, তবে আমরা মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্য না থাকলেও প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য নাশকতার গোয়েন্দা সতর্কতার পর দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বিমানবন্দরগুলো সব সময়ই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি সতর্কতামূলক চিঠিকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই চিঠিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্রসহ স্পর্শকাতর অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠি পাওয়ার পর বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি জোরদার করা হয়েছে টার্মিনাল, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাতেও।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত হয়নি। তারপরও আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট ওঠানামা করে না, সেগুলোতেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলার চেষ্টা করতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে। এসব বিমানবন্দরে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটির পাশাপাশি এপিবিএন, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। নতুন সতর্কতার পর তাদের কার্যক্রমও আরও সমন্বিত করা হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে, তবে আমরা মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করি।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্য না থাকলেও প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয়
চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যা মামলা; তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্ধারিত সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নতুন এই সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও বিচারপতি সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তদন্ত শেষ করতে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল এই দিনেই।
শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানান, “সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন করতে আরও কিছুদিন সময় প্রয়োজন।” একই সঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট দিতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির ও মঞ্জিল মোরশেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করার আবেদন জানান। তবে আদালত অগ্রগতি প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেন।
এই মামলার তদন্তে ইতোমধ্যে একাধিকবার সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে র্যা বকে সরিয়ে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ, সিআইডি ও রযাকেবের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই টিম বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্ধারিত সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নতুন এই সময়সীমা নির্ধারণ করেন।
আলোচিত খবর
সকল পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরেই শেষের পরিকল্পনা; এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সেশনজট কমাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, সরকার পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই ডিসেম্বর হোক পরীক্ষার মাস, জানুয়ারি থেকে শুরু হোক নতুন শিক্ষাবর্ষ। এতে অপেক্ষার সময় কমবে, সেশনজটও হ্রাস পাবে।” শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা ঠিক নয়। টেলিগ্রাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই জরুরি। তার ভাষায়, “একটি সংবাদ প্রকাশের আগে সেটি ভেরিফাই করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।”
গুজব ছড়ানো এবং যাচাইহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বলেন, “যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে।”
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গুজবের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমরা সন্তুষ্ট।” তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেশনজট কমানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষা ক্যালেন্ডারে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সেশনজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সেশনজট কমাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয়
আলোচিত তনু হত্যা মামলা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হয়। এ সময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে আমরা আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো এখন যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলায় এটিই প্রথম কোনো গ্রেপ্তার, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে তনু হত্যাকাণ্ডকে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন-অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পর তদন্তে গতি আসে এবং পরবর্তীকালে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হয়। এ সময় ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক।
আলোচিত খবর
দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত: ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নিবন্ধন ছাড়ালো ৩ কোটির উপরে
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ তিন কোটিরও বেশি মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে অঙ্গীকার করেছেন। ইরানে শুরু হওয়া জন-অংশগ্রহণমূলক প্রচারণা ‘জান ফিদা বারয়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা গতরাতে ৩ কোটি অতিক্রম করেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইমাম রেজা (আ.) ও হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল (২৩ এপ্রিল) দেশপ্রেমিক জনতার ৩ কোটি সদস্যের একটি বাহিনী ইরানকে রক্ষার শপথ নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই রেকর্ডের মাধ্যমে ৩ কোটি মানুষ প্রিয় ইরানের জন্য আত্মোৎসর্গ করতে এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতাবা খামেনেয়ির নির্দেশ মেনে চলতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, ‘জানফেদা’ (আত্মোৎসর্গ) প্রচারণা শুরু হয়েছিল চাপানো যুদ্ধের তৃতীয় পর্বের সময় শত্রুর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ জেহাদে স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে। প্রচারণাটি ইরানের দেশপ্রেমিক জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এজন্য একটি নিবন্ধন ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যা এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই ব্যবস্থায় এখনো মানুষ নিবন্ধন করছেন, যার ফলে আজ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩ কোটি এক লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে।
এই কর্মসূচির প্রতীকী গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে নাম নিবন্ধন করেন। যুদ্ধে অংশ নিতে নাম লেখানোর পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক বক্তব্যে বলেন, “গর্বিত ইরানিরা জীবন উৎসর্গ করতে নিবন্ধন করেছেন। আমিও আমার জীবন ইরানের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
ইরানি গণমাধ্যমে এটিকে জনগণের সঙ্গে নেতৃত্বের সংহতির বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই একই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বিস্ময়কর সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এর মাধ্যমে শত্রুরা উপলব্ধি করবে যে, অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়লে ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলে।#
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ তিন কোটিরও বেশি মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে অঙ্গীকার করেছেন। ইরানে শুরু হওয়া জন-অংশগ্রহণমূলক প্রচারণা ‘জান ফিদা বারয়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা গতরাতে ৩ কোটি অতিক্রম করেছে।
আন্তর্জাতিক
এমপি’দের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নয়, সরকারি গাড়ির প্রস্তাব হাসনাত আবদুল্লাহর
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নয়, বরং সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করেন, তার আগের বক্তব্য নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেটি নিরসন করতেই তিনি সংসদে বিষয়টি আবার তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আমরা নেব না, প্লট সুবিধাটিও নেব না।” সংসদের সদস্যরা এ বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্যদের কাজের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যেভাবে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ি ব্যবহার করেন, একইভাবে এমপিদেরও একটি নির্দিষ্ট সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তার ভাষায়, “সরকারি মালিকানাধীন একটি গাড়ি যতদিন এমপি থাকবেন, ততদিন ব্যবহার করবেন, এতে অতিরিক্ত খরচও লাগবে না।”
বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, সংসদ সদস্যদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাদের নিজস্ব কোনো সরকারি গাড়ি নেই। এই বাস্তবতায় সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রস্তাবটি যৌক্তিক বলেই মনে করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার বিষয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, এটি একটি অনন্য নজির।
সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নয়, বরং সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাতীয়
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের তালিকা প্রকাশ: মনোনয়ন পেলেন ১৩ জন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সোমবার (২০ এপ্রিল) জোটের পক্ষ থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে জামায়াত থেকে ৮ জন এবং শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে আরও ৫ জন মনোনয়ন পেয়েছেন।
জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংরক্ষিত আসনে এবার নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলীয় ও জোটগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। জামায়াতের মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার।
জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমও তালিকায় আছেন। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে জুলাইয়ের শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের নাম, যাকে একটি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জোট।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন পটভূমি বিবেচনায় রেখে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একজন নেতা বলেন, “এবার আমরা এমনভাবে মনোনয়ন দিয়েছি, যাতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর হয় এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ সংসদে কথা বলার সুযোগ পায়।”
প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জোটটি সাধারণ আসনে জয় পাওয়ার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩টি আসন পেয়েছে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে এই আসনগুলো বণ্টন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় দলীয় নেত্রীদের পাশাপাশি সামাজিক প্রতীকী গুরুত্ব থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি জোটের কৌশলগত বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে সংসদে তাদের ভূমিকা কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সোমবার (২০ এপ্রিল) জোটের পক্ষ থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে জামায়াত থেকে ৮ জন এবং শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে আরও ৫ জন মনোনয়ন পেয়েছেন।
রাজনীতি
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে আরও ১৯ জেলায় ‘ফুয়েল পাস’ নিবন্ধন শুরু
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে ‘ফুয়েল পাস’ সিস্টেমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে আরও ১৯ জেলায় এই অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যেসব জেলায় নিবন্ধন শুরু হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম। জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, কিউআর কোডভিত্তিক এই ‘ফুয়েল পাস’ মূলত একটি ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম। এর মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, নজরদারি বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে ৯ এপ্রিল রাজধানীতে সীমিত পরিসরে এই অ্যাপ চালু করা হয়। শুরুতে তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদ গেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সেবা চালু করা হয়। পরে ১৮ এপ্রিল আরও কয়েকটি জেলা ও মহানগরে পাইলট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।
জ্বালানি খাতে এই উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সংকটও ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি না পাওয়া এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ সামনে আসে। এমন প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা আনতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে যায় সরকার।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে অপচয় কমবে এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে সংকটের সময় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে ‘ফুয়েল পাস’ সিস্টেমের আওতা বাড়ানো হচ্ছে।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি ও চাপের কারণে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসছে না ইরান
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি, অবস্থান পরিবর্তন এবং সামরিক চাপের কারণে আলোচনা এগোনোর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই বলে মনে করছে তেহরান। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নৌ অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
ইরনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসায় আগের আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তাদের মতে, এসব আচরণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কোনো স্থিতিশীল সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ইরানের দাবি, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, “অযৌক্তিক দাবি এবং নৌ অবরোধ বহাল রেখে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তিতে না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক মন্তব্যে বলেন, “চুক্তি না হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং এএফপি জানিয়েছে, আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ইরান এ ধরনের বৈঠককে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে ওয়াশিংটন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে আলোচনায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে, যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত করছে। বিশেষ করে সামরিক উপস্থিতি এবং অবরোধের মতো বিষয়গুলো আলোচনার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক
শিগগিরই সাংবাদিকদের ১০ম ওয়েজ বোর্ড, সংসদে জানালেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সাংবাদিকদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ১০ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও পেশাগত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আজ রোববার (১৯ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের গেজেট ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একাধিক রিট বিচারাধীন রয়েছে। এসব আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নতুন করে ১০ম ওয়েজ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।” এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা সহায়তা সেল গঠন, হামলা বা ডিজিটাল হয়রানির ঘটনায় আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সহায়তা।
তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জরুরি কল্যাণ সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার।
গণমাধ্যম খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল রয়েছে ৪টি। বেসরকারি খাতে ৫৫টি চ্যানেল অনুমোদন পেলেও পূর্ণ সম্প্রচারে রয়েছে ৩৭টি। এই মুহূর্তে নতুন কোনো টিভি চ্যানেল অনুমোদনের অপেক্ষায় নেই বলেও জানান তিনি।
এছাড়া সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে প্রেস কাউন্সিল আইনকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একটি অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ১০ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও পেশাগত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের গেজেট ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একাধিক রিট বিচারাধীন রয়েছে। এসব আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নতুন করে ১০ম ওয়েজ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয়
গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ বাড়ছে, সোমবার থেকে নতুন হার কার্যকর
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেন ২০ শতাংশ বেশি হারে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোক্তা ও ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে নতুন হারে জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে, ফলে সারাদেশে সব ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়ার পরপরই বাজারে চাহিদার চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ সামাল দিতে সরবরাহ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। বিপিসির এই সিদ্ধান্তে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, সোমবার (২০ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে ডিজেল ও পেট্রোল ১০ শতাংশ এবং অকটেন ২০ শতাংশ বেশি হারে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এর আগে বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে, ফলে সারাদেশে সব ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। কেরোসিন ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়ার পরপরই বাজারে চাহিদার চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ সামাল দিতে সরবরাহ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। বিপিসির এই সিদ্ধান্তে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয়
ইরানের জব্দ হওয়া শত বিলিয়ন ডলার ঘিরে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন
আশরাফুর রহমান, তেহরান থেকে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত ইস্যু। আর তা হলো- বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘিরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা এই প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, জব্দ সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে এটি এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
১৯৭৯: সংঘাতের সূচনা
ইরানের সম্পদ জব্দ হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ ঘোষণা করে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেন। এই পদক্ষেপ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে একটি কার্যকর ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও করপোরেশনগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে শুরু করে, যা দেশটির অর্থনীতিকে দ্রুত বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়।
আলজিয়ার্স চুক্তি: আংশিক মুক্তি
১৯৮১ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে কিছু সম্পদ ছাড় দেওয়া হয়। তবে পুরো অর্থ ফেরত আসেনি। উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন আইনি দাবি ও ক্ষতিপূরণের নামে আটকে রাখা হয়।
এই অভিজ্ঞতা ইরানের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাসের জন্ম দেয়—বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে।
নিষেধাজ্ঞার বিস্তার ও সম্পদ বৃদ্ধি
পরবর্তী দশকগুলোতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। এর ফলে তেল বিক্রির আয়সহ বিপুল সম্পদ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জমা হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ইরানের বার্ষিক জ্বালানি রপ্তানি আয়ের প্রায় তিন গুণ—যা একটি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
কোথায় আছে এই অর্থ ?
ইরানের এই সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এবং এর সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন এবং জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এ ছাড়া কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, সেটিও কার্যত অচল। ইউরোপে লুক্সেমবার্গে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জব্দ রয়েছে।
এই অর্থের বড় অংশই তেল বিক্রির আয়, যা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
কাতার চুক্তি ও পুনরায় অচলাবস্থা
২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি লেনদেনে মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আঞ্চলিক উত্তেজনার পর সেই অর্থে ইরানের প্রবেশাধিকার আবার স্থগিত করা হয়, যা এই ইস্যুর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।
জেসিপিওএ: আশার জানালা, দ্রুত বন্ধ
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। এতে ইরান কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আংশিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হয় এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
‘জব্দ সম্পদ’ কী এবং কেন ?
ফ্রোজেন অ্যাসেট বা জব্দ সম্পদ বলতে বোঝায় এমন অর্থ বা সম্পদ, যা কোনো দেশ, ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনি বা রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয় না। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব সম্পদ আটকে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব সম্পদ জব্দ করার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা কাজ করেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এটি ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে।
অর্থনীতিতে প্রভাব
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে রয়েছে। তেল রপ্তানি কমেছে, বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে এবং শিল্প খাতে আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জব্দ সম্পদ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশের সমান। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অর্থ ছাড় হলে ইরান মুদ্রার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।
তেল, পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নেও এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিকল্প পথ: ক্রিপ্টো ও কৌশলগত অভিযোজন
নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার, যেখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
যদিও এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়, তবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে একটি সীমিত বিকল্প তৈরি করতে সহায়তা করেছে এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আংশিকভাবে কমিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও নতুন সমীকরণ
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আবার সামনে এসেছে। বিশ্বে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, যা একে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর বানিয়েছে।
ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে আলোচনায় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা জব্দ সম্পদ মুক্তির প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে এবং কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইসলামাবাদ আলোচনা ও অচলাবস্থা
১০ এপ্রিলের আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্টভাবে বলেন, আলোচনা শুরুর আগে জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।
২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই ইস্যু আবার আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
কূটনৈতিক বার্তা ও অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সম্পদ মুক্ত করে, তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা—যা ইরানের ওপর চাপ কমানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, যেকোনো সিদ্ধান্তই ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে।
সংঘাতের বহুমাত্রিক বাস্তবতা
৪৭ বছরের এই অর্থনৈতিক সংঘাত দেখিয়েছে যে, জব্দ সম্পদের প্রশ্ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি ক্ষমতা, আস্থা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রতিফলন। ইরানের জন্য এটি জাতীয় সম্পদের পুনরুদ্ধারের লড়াই আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি উপায়।
এই বাস্তবতায়, জব্দ সম্পদের ভবিষ্যৎ শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নির্ধারণ করবে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।*
লেখক: ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় (আইআরআইবি) কর্মরত সাংবাদিক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত ইস্যু। আর তা হলো- বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘিরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা এই প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, জব্দ সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে এটি এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
ইরানের সম্পদ জব্দ হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ ঘোষণা করে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেন। এই পদক্ষেপ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে একটি কার্যকর ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৮১ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে কিছু সম্পদ ছাড় দেওয়া হয়। তবে পুরো অর্থ ফেরত আসেনি। উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন আইনি দাবি ও ক্ষতিপূরণের নামে আটকে রাখা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিস্তার ও সম্পদ বৃদ্ধি
পরবর্তী দশকগুলোতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। এর ফলে তেল বিক্রির আয়সহ বিপুল সম্পদ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জমা হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
ইরানের এই সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এবং এর সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন এবং জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এ ছাড়া কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, সেটিও কার্যত অচল। ইউরোপে লুক্সেমবার্গে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জব্দ রয়েছে।
২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি লেনদেনে মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আঞ্চলিক উত্তেজনার পর সেই অর্থে ইরানের প্রবেশাধিকার আবার স্থগিত করা হয়, যা এই ইস্যুর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। এতে ইরান কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আংশিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হয় এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
ফ্রোজেন অ্যাসেট বা জব্দ সম্পদ বলতে বোঝায় এমন অর্থ বা সম্পদ, যা কোনো দেশ, ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনি বা রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয় না। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব সম্পদ আটকে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব সম্পদ জব্দ করার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা কাজ করেছে।
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে রয়েছে। তেল রপ্তানি কমেছে, বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে এবং শিল্প খাতে আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
বিকল্প পথ: ক্রিপ্টো ও কৌশলগত অভিযোজন
নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার, যেখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আবার সামনে এসেছে। বিশ্বে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, যা একে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর বানিয়েছে।
১০ এপ্রিলের আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্টভাবে বলেন, আলোচনা শুরুর আগে জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সম্পদ মুক্ত করে, তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা—যা ইরানের ওপর চাপ কমানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
৪৭ বছরের এই অর্থনৈতিক সংঘাত দেখিয়েছে যে, জব্দ সম্পদের প্রশ্ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি ক্ষমতা, আস্থা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রতিফলন। ইরানের জন্য এটি জাতীয় সম্পদের পুনরুদ্ধারের লড়াই আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি উপায়।
লেখক: ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় (আইআরআইবি) কর্মরত সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক
সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।
হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুতে এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুপুরে চাচার সাথে হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে রহমত উল্লাহ তার বাবার সাথে হাওরে থাকাকালীন বজ্রপাতের শিকার হয়।
এই ঘটনায় আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামে এক হাঁসের খামার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে বজ্রপাতের সময় তিনি কাজ করছিলেন।
এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান ট্রলিতে তোলার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। জামালগঞ্জে বজ্রপাতে তোফাজ্জল হোসেন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জন এবং রংপুরে ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় ১ জন করে মোট ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় খোলা জায়গায় কাজ করার সময় কৃষকদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।






















































