নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশের জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক:
দেশের প্রধান জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এমন তথ্য জানায়।
বার্তায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। ফলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোগুলোতে অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়।
দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর উল্লিখিত স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।
এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো-যোগ করা হয় বার্তায়।
দেশের প্রধান জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এমন তথ্য জানায়।
জাতীয়
ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামী ফয়সালসহ দু’জন ভারতের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (৯ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের পর তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান শেষে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (৯ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “ওরা আমাদেরকে এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম করেনি।” একই বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। সেদিন জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ শেষে রিকশায় করে যাওয়ার সময় পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর একই রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি গুলি চালান এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা। হত্যাকাণ্ডের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।
আন্তর্জাতিক
ইরানের তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা, মার্কিন সেনা আটকের দাবি ইরানের
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করার দাবি করেছে ইরান। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
শনিবার রাতে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী শহর কারাজসহ একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের কয়েকটি তেলের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে, এসব জ্বালানি মজুত কেন্দ্র ইরানি সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাই সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ তেহরানের শাহর রেই এলাকায় একটি তেল ডিপোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ডিপোর কাছেই রয়েছে শহরের প্রধান তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার প্রভাবে আশপাশের বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক, পানির পাইপলাইন এমনকি কিছু হাসপাতাল ও স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার ভোরে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দর ও তেল ডিপো এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা গেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কাছে খবর এসেছে যে কয়েকজন আমেরিকান সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছে।”
তবে এই দাবি নাকচ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ভিত্তিহীন গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোই এখন ইরানি প্রশাসনের প্রধান কৌশল।” আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও ইরানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি দিয়ে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না।” বিবিসি জানিয়েছে, তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একাধিক শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহত করছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
এই সংঘাতের আরেকটি ঘটনায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইডিএফ বলছে, ইরানের কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের কমান্ডারদের লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন শিশুসহ ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই যুদ্ধে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করার দাবি করেছে ইরান। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
এই সংঘাতের আরেকটি ঘটনায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইডিএফ বলছে, ইরানের কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের কমান্ডারদের লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস
অনলাইন ডেস্ক:
আজ ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবস (পূর্বনাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস) প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে এ দিবসটি পালিত হয়।
সারা বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন হয়ে থাকে। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।
এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লাঠিয়াল বাহিনীর দমন-পীড়ন।
১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মেলা, ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৗশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দিবসটি উপলক্ষে এলজিইডি ভবনে আগামীকাল সোমবার দুপুরে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারীর নিরাপত্তা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার নারী উন্নয়ন শক্তির প্রশিক্ষণ কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটির আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস), ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি), ইয়াং উইম্যান ফর ডেভেলপমেন্ট রাইট এন্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) এবং ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এম্প্লয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিডব্লিউইএবি)।
আজ ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবস (পূর্বনাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস) প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে এ দিবসটি পালিত হয়।
জাতীয়
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু; প্রস্তুতি সম্পন্ন
অনলাইন ডেস্ক:
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের কর্মশালা শেষে জানিয়েছেন, “সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জনগণকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আমরা আমাদের এই আইন বিভাগকে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদকে পরিপূর্ণ মাত্রায় কীভাবে কাজে লাগাতে পারি এবং সরকারি দল হিসেবে সংসদ নেতার পক্ষ থেকে সংসদকে সব সময় জীবন্ত রাখার যে দায়িত্বগুলো আমাদের আছে, সেটা আমরা কীভাবে করতে পারি-সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।”
প্রশিক্ষণের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে বিকেলে চতুর্থ সেশনের মধ্য দিয়েই আমাদের এই কর্মশালা সমাপ্ত হবে।”
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের কর্মশালা শেষে জানিয়েছেন, “সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
জাতীয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে উত্তরবঙ্গের ফুলজোড়–করতোয়া নদী রক্ষায় বিক্ষোভ সমাবেশ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
উত্তরবঙ্গের ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর দূষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তরুণ জলবায়ু ও পরিবেশকর্মীরা। আজ অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল। কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা প্রায় অর্ধশত আদিবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুরাও অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সন্তোষ সিং বাবু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক মোছা. রুকু খাতুন প্রমুখ। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান। জলবায়ু কর্মী সিয়াম সিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আন্দোলনকারীরা শিল্পবর্জ্যের বিষয়ে জরুরি তদন্ত, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নদী রক্ষায় কাজ করা পরিবেশকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আদিবাসী প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, শিল্পকারখানার দূষণে নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভূমি দখল ও শিল্প দূষণের কারণে বহু পরিবার ইতিমধ্যে সংকটে পড়েছে বলেও তারা জানান।
প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলজোড় নদীর দুই তীরে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার কয়েক লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য নদীটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পবর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের পরিবারের মালিকানাধীন এসআর কেমিক্যালস ও মজুমদার প্রোডাক্টসসহ কয়েকটি শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফুলজোড় ও করতোয়া নদী মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে।
পরিবেশকর্মীরা বলেন, ফুলজোড় ও করতোয়া নদী রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নদী, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে।
সমাবেশে অংশ নেয়া সিরাজগঞ্জের তরুণ পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “নদী আমাদের জীবনপ্রবাহ। নদী দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, আমাদের জীবিকাও হারাব। নদী নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “নদী জীবন্ত সত্তা। কিন্তু শিল্পবর্জ্যের দূষণ আমাদের নদীগুলোকে ধ্বংস করছে এবং বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের নদীগুলো আমাদের জীবিকা ও পরিবেশের মূল ভিত্তি। একটি নদী দূষিত হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় এলাকায় নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রে পড়ে। তরুণ ও স্থানীয় জনগণ একত্র হয়ে নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে।”
কর্মসূচির এক পর্যায়ে আশপাশের কয়েকজন রিকশাচালক এগিয়ে এসে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। তারা নদী রক্ষার গান গেয়ে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের একজন বলেন, “নদী শুধু পানি নয়, নদী আমাদের জীবনের অংশ। নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব।”
২০১৯ সালে হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে এর অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। আন্দোলনকারীরা বলেন, এই আইনি স্বীকৃতি বাস্তবে কার্যকর না হলে নদী রক্ষা সম্ভব হবে না।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফুলজোড় নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। এর প্রতিবাদে ২৪ ফেব্রুয়ারি ধানগড়ায় মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একই দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার কোম্পানির সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) ও আলী রেজা বিশ্বাস (৫০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন সোমবার দুপুরে তাদের বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয় এবং বিকেলে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
উত্তরবঙ্গের ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর দূষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তরুণ জলবায়ু ও পরিবেশকর্মীরা। আজ অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল। কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা প্রায় অর্ধশত আদিবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুরাও অংশ নেন।
সমাবেশে অংশ নেয়া সিরাজগঞ্জের তরুণ পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “নদী আমাদের জীবনপ্রবাহ। নদী দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, আমাদের জীবিকাও হারাব। নদী নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার কোম্পানির সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
জাতীয়
সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতারের আয়োজনে যোগ দিয়ে বললেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ইফতারের আগে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা। এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি।
স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুদৃঢ় রাখা, নারীদের আরো বেশি ক্ষমতায়ন ও উৎসাহ প্রদান এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একসঙ্গে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমমর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।
ইফতার অনুষ্ঠানে এসে আমন্ত্রিত অথিতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে বসে ইফতার করেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ধর্মপাল বীরাককোডি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতারের আয়োজনে যোগ দিয়ে বললেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয়
শর্ত সাপেক্ষে মোটরসাইকেলে পেট্রোল-অকটেন নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০: বিপিসি’র প্রজ্ঞাপন জারী
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ভুগছে জ্বালানি সংকটে। বিশ্বের এমন সংকট কালে বাংলাদেশেও চিন্তা বাড়ছে। শর্ত মেনে সরকার নির্ধারিত পরিমাণেই এবার কিনতে হবে তেল। জ্বালানি ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন, সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, এখন থেকে বাইকে সর্বোচ্চ ২ লিটার ও প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল-অকটেন কিনতে পারবে।
আজ শুক্রবার দেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসণ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ভোক্তা ডিলার/ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
দেশের জনগণের ভয়/আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ/ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশাকরা যাচ্ছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে’-উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি বাইক ২ লিটার, প্রাইভেটকার ১০ লিটার, জিপ/মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার, পিকাপ/লোকাল বাস (ডিজেল) ৭০-৮০ লিটার ও দূরপাল্লার ট্রাক/বাস (ডিজেল) সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল কিনতে পারবে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী
১. ফিলিং স্টেশন হতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।
২. ফিলিং স্টেশন হতে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিলের মূল কপি জমা প্রদান করতে হবে।
৩. ডিলাররা উপরোক্ত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে। কোনভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ভুগছে জ্বালানি সংকটে। বিশ্বের এমন সংকট কালে বাংলাদেশেও চিন্তা বাড়ছে। শর্ত মেনে সরকার নির্ধারিত পরিমাণেই এবার কিনতে হবে তেল। জ্বালানি ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন, সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, এখন থেকে বাইকে সর্বোচ্চ ২ লিটার ও প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল-অকটেন কিনতে পারবে।
১. ফিলিং স্টেশন হতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।
২. ফিলিং স্টেশন হতে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিলের মূল কপি জমা প্রদান করতে হবে।
৩. ডিলাররা উপরোক্ত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে। কোনভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না।
জাতীয়
রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের দগ্ধ ১০ জন
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন- রুবেল (৩০), তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাইপ্রবাসী এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং রুবেল (৩৫)।
কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে আজ শুক্রবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসার লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গেছে। এছাড়া এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, রুবেলের (৩০) ৩২ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, দেলেরা খাতুনের ১৪ শতাংশ, রুবেলের (৩৫) ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ এবং আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে। যাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রয়োজনে তাদেরও আইসিইউতে নেওয়া হতে পারে।
রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
জাতীয়
উত্তরবঙ্গের ফুলজোড় ও করতোয়া নদী রক্ষায় ঢাকায় তরুণদের প্রতিবাদ
উত্তরবঙ্গের ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর দূষণের প্রতিবাদে রাজধানীতে শিল্পবর্জ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হলেন তরুণ জলবায়ু ও পরিবেশকর্মীরা।
০৫ মার্চ, ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শতাধিক তরুণ অংশ নেন। কর্মসূচির আয়োজন করে পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল।
আন্দোলনকারীরা শিল্পবর্জ্যের বিষয়ে জরুরি তদন্ত, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নদী রক্ষায় কাজ করা পরিবেশকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলজোড় নদীর দুই তীরে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার কয়েক লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য নদীটির ওপর নির্ভরশীল। শিল্পবর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের পরিবারের মালিকানাধীন এসআর কেমিক্যালস ও মজুমদার প্রোডাক্টসসহ কয়েকটি শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফুলজোর, করতোয়া ও বাঙালি নদী মারাত্মক দূষণের শিকার।
সিরাজগঞ্জের তরুণ পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “নদী আমাদের জীবনপ্রবাহ। নদী দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা শুধু পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, আমাদের জীবিকাও হারাব। নদী নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, “নদী জীবন্ত সত্তা। কিন্তু শিল্পবর্জ্যের দূষণ আমাদের নদীকে বিধ্বস্ত করছে এবং বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের নদীগুলো আমাদের জীবিকা ও পরিবেশের মূল ভিত্তি। একটি নদী দূষিত হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় এলাকায় নয়, গোটা বাস্তুতন্ত্রে পড়ে। তরুণ ও স্থানীয় জনগণ একত্র হয়ে নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে।”
২০১৯ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ বা আইনি ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। মানুষ বা প্রাণীর মতো নদীরও বেঁচে থাকার ও আইনি অধিকার রয়েছে। এই রায়ের ফলে নদী দূষণ বা দখলের বিরুদ্ধে নদী নিজের নামে মামলা করতে পারবে এবং নদী রক্ষা কমিশন এর অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবাদ আয়োজক অঙ্কিতা সাহা বলেন, “যদি নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে তাকে ক্ষতি করা মানে একটি আইনি সত্তাকে ক্ষতি করা। নদীর অভিভাবক জাতীয় নদী কমিশন ঘুমাচ্ছে, কিন্তু উল্টো নদী রক্ষায় যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নদী রক্ষা আন্দোলনে তরুণদের সংহতি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ বার্তা দিয়েছে যে তারা নদী, পরিবেশ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।”
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে ফুলজোড় নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। প্রতিবাদ ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি ধানগড়ায় মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একই দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক সমাজ, ফুলজোড় নদী রক্ষা আন্দোলন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’ এবং ভূমিহীন সংগঠন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এই কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এসআর কেমিক্যাল ও মজুমদার কোম্পানির সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নামে শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। থানা–পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই মামলা রেকর্ড করেছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকা থেকে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) এবং সীমাবাড়ি বাজার এলাকার আলী রেজা বিশ্বাস (৫০)। সোমবার দুপুরে তাদের বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয় এবং বিকেলে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে বাকি পরিবেশ কর্মীরা হয়রানির মুখে রয়েছেন এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
পরিবেশকর্মীরা দাবি করছেন, নদী রক্ষা আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং তারা নদী, পরিবেশ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সবসময় সচেতন ও সক্রিয়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে।

জাতীয়
এবারের ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ঈদের ছুটি, যা চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ফলে এবার মোট সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। ওই সময়সূচি অনুযায়ী ২১ মার্চ ছিল সাধারণ ছুটি। এছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পর ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে ছুটি রয়েছে। ফলে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে টানা ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের ছুটি কার্যকর হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ঈদের ছুটি, যা চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ফলে এবার মোট সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জাতীয়
গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিলকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্মাননা পাচ্ছে।
সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ, যিনি হানিফ সংকেত নামে পরিচিত, এবং বশির আহমেদ মরণোত্তরভাবে এই সম্মাননা পাচ্ছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জোবেরা রহমান লিনু এবং পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।
সমাজসেবা ও জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এস ও এস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, মো. সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মাহেরীন চৌধুরী মরণোত্তরভাবে সম্মাননা পাচ্ছেন। জনপ্রশাসনে অবদানের জন্য কাজী ফজলুর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া সম্মাননা পাচ্ছেন। পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য আবদুল মুকিত মজুমদার, যিনি মুকিত মজুমদার বাবু নামে পরিচিত, স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জাতীয়
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে হবে তাকেই হত্যা করা হবে: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক:
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যাকে নিযুক্ত করা হোক না কেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাকে ‘নির্মূল’ করার চেষ্টা চালাবে।
আজ ০৪ মার্চ, ২০২৬ বুধবার কাটজ এর বিবৃতির বরাতে আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায় কাটজ স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানি সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর নিযুক্ত এমন কোনো নেতা, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্র ও মুক্ত বিশ্বকে হুমকি দেওয়া এবং নিজ দেশের জনগণকে নিপীড়ন করা অব্যাহত রাখবেন, তিনি আমাদের জন্য নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেই নেতার নাম কী বা তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন, তা আমাদের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।
এই বিবৃতির মাধ্যমে ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, খামেনি-পরবর্তী ইরানের শাসনব্যবস্থায় যারাই শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের প্রত্যেককেই প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হবে।
ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, ইরানকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখা এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাবে।
কাটজ আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যাতে তারা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত চার দিনে তেহরানে ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যাকে নিযুক্ত করা হোক না কেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাকে ‘নির্মূল’ করার চেষ্টা চালাবে।
আন্তর্জাতিক
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রকাশ করে শিগগিরই অভিযান: মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক:
আজ ০৪ মার্চ, ২০২৬ বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বললেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রকাশ করে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অপরাধী দমনে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যেই ঢাকা শহরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী এবং দাগি আসামিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে (নির্মোহ) এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত অপরাধী পার না পায়।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সাঁড়াশি অভিযান ঢাকা থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তালিকাভুক্ত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সকল সচেতন নাগরিক আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী খুব দ্রুতই এই অভিযান শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
আজ ০৪ মার্চ, ২০২৬ বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বললেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রকাশ করে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
জাতীয়
সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা চালাল ইরান
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো-এর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার এই স্থাপনাতেই অবস্থিত।
আজ বুধবার সকালে সেখানে আবারও ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে সৌদি সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রাস তানুরার শোধনাগারে একটি ড্রোন আঘাত হানে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি ড্রোন হামলা বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরামকোর বৃহত্তম পরিশোধনাগার ওই স্থাপনায় রয়েছে।
এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে, গত সোমবারও সৌদি আরামকোর রাস তানুরার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া আরও দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
পরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরামকো।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো-এর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার এই স্থাপনাতেই অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, নিহত বেড়ে ৭৮৭
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। সংস্থাটি বলছে, চার দিন ধরে চলা হামলায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এএফপি জানিয়েছে, রেড ক্রিসেন্টের মাঠপর্যায়ের দলগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হতাহতের তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেছে তারা। সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি স্থানে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানেও বিস্ফোরণের খবর দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাঁও দাবি করেছে, সংঘাতের তৃতীয় দিনেই নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন বেসামরিক এবং ১ হাজার ৩০০ জন ইরানি বাহিনীর সদস্য।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেন, “ইরানের নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।” তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, “হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শনিবার সকালে এই যৌথ হামলা শুরু হয়। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। সংস্থাটি বলছে, চার দিন ধরে চলা হামলায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাঁও দাবি করেছে, সংঘাতের তৃতীয় দিনেই নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন বেসামরিক এবং ১ হাজার ৩০০ জন ইরানি বাহিনীর সদস্য।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেন, “ইরানের নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।” তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ দাবি করেছে, “হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শনিবার সকালে এই যৌথ হামলা শুরু হয়। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই।
আন্তর্জাতিক
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা— নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং হাইফা বন্দরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে ‘অনিশ্চয়তায় ঘেরা’ বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহু ও বিমানবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে এই হামলার বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি আইআরজিসি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা বলেছেন, সোমবার জেরুজালেমের আকাশে একের পর এক নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায়।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে, সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ওই অঞ্চলজুড়ে সার্বভৌম ভূখণ্ডে ইরান এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফন ডার লিয়েন বলেন, আমাদের উত্তেজনা প্রশমন এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং হাইফা বন্দরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা দিলো চীন
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন পূর্ণ সমর্থন জানায়। পাশাপাশি ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় পাশে থাকবে বেইজিং।
ওয়াং ই অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা যেন আর বৃদ্ধি না পায় এবং এই সংঘাত যেন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে আলাদা এক ফোনালাপে ওয়াং ই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চীন প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে আলাপে ওয়াং ই বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব আজ ‘জঙ্গলের আইন’-এর দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কোনো পরাশক্তি শুধু সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই দিয়ে অন্য দেশের ওপর নির্বিচার হামলা চালাতে পারে না।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটিকে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই ফিরিয়ে আনতে হবে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।
আন্তর্জাতিক
চাঁদপুর জেলার মতলবে পরকীয়ায় শ্বাশুড়িকে খুন, পুত্রবধূ ও প্রেমিক আটক
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর বাড়ি ঘরে ঢ়ুকে শ্বাশুড়ি পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে শ্বাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পাশের বাড়ির প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠু (৩০) বিরুদ্ধে। তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা এবং দস্যুতা মামলা দায়ের করেছেন।
আজ রবিবার (১ মার্চ-২০২৬) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত প্রদীপ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
প্রথমে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে পরকীয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিকল্পিত হত্যার তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হালিমা আক্তার ও মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে ইটালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হন।
এরপর মিঠু হালিমাকে ব্যবহার করে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করতে চেষ্টা করেন। হালিমা রাজী না হলে মিঠু তার স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে ভয় দেখায় এবং হালিমাকে পরিকল্পনায় সহায়তা করতে রাজী করানো হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে মিঠুন গোপনে প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর মিঠু পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করেন।
পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্য হালিমাকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার খবর পান। পরে ঘরে ঢ়ুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেছেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না।
পরকীয়ার জেরে হালিমা আক্তার তার মাকে হত্যা করেছে এবং পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর বাড়ি ঘরে ঢ়ুকে শ্বাশুড়ি পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
আলোচিত খবর
সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল ?
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার সময় ইরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং অন্যান্য শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তা।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। শনিবার সকালে কমপ্লেক্সে বৈঠক হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। এর ফলে হামলায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, “আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা করা হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের কমপ্লেক্সে।”
অভিযান ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে শুরু হয়। বিমানসংখ্যা কম হলেও ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল ছিল। তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় খামেনি পাশের ভবনে ছিলেন, অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি আঘাতের শিকার হন। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘমাসের পরিকল্পনা ও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযান চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এ ধরনের হামলা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য গভীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা এবং পরিকল্পনার ফলেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
এই হামলার পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “বিদ্যালয়ে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার সময় ইরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং অন্যান্য শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তা।























































