এটি ঢাকার সাধারণ দৃশ্য -বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতে ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিত, আসছে নতুন ২ আউটলেট
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিষ্কার করছে। তার ভাষায়, “এসব কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।”
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল ঠেকানো যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলের তিনটি আউটলেট দিয়ে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহিত করতে বক্স কালভার্ট ও ৮ ফুট ব্যাসের বড় নর্দমা নির্মাণকাজও চলছে।
ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব এলাকায় ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি সরাতে ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয়
যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট নিরসনে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
নিজ বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর সরকার।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ, এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করলেও শুষ্ক মৌসুমে সামান্য দূরত্বের জমিতেও কৃষক সেচের পানি পান না। এই সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা আছে সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিবরণ দিয়ে এরপর সরকারপ্রধান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ কার্ডের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ঐতিহ্যগত শিল্পের বাইরে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
একইসঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকেও যেন তরুণ প্রজন্ম একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেজন্য আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মূল শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ বা খেলাধুলাকে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস ভার্সন চালু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে বা প্রবাসে থাকাকালীন যেসব প্রাত্যহিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি বা রিলিফ দিতে সরকার একটি যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ওপর কাজ করছে।
এরপর জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়ে জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে, যা জানলে গা শিউরে ওঠে। আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও রিনিউবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট নিরসনে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ, এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করলেও শুষ্ক মৌসুমে সামান্য দূরত্বের জমিতেও কৃষক সেচের পানি পান না। এই সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা আছে সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিবরণ দিয়ে এরপর সরকারপ্রধান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ কার্ডের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ঐতিহ্যগত শিল্পের বাইরে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
একইসঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকেও যেন তরুণ প্রজন্ম একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেজন্য আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মূল শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ বা খেলাধুলাকে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস ভার্সন চালু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে বা প্রবাসে থাকাকালীন যেসব প্রাত্যহিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি বা রিলিফ দিতে সরকার একটি যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ওপর কাজ করছে।
এরপর জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়ে জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে, যা জানলে গা শিউরে ওঠে। আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও রিনিউবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।
জাতীয়
হাদি হত্যা মামলার রহস্য: ১৭ বার সময় নিয়েও শেষ হয়নি পুনঃতদন্ত; নতুন তারিখ ১৫ জুলাই!
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। ঢাকার আদালত মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ করার জন্য সিআইডিকে আরও সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৭তম বারের মতো পিছিয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিল করা অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রোববার (১৪ ডিসেম্বর) হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
পরে সোমবার (৬ জানুয়ারি) গোয়েন্দা পুলিশ মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করাও হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। ঢাকার আদালত মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ করার জন্য সিআইডিকে আরও সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৭তম বারের মতো পিছিয়েছে।
আলোচিত খবর
৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় বিতর্ক: 'এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি'—সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা ব্যয়ের পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয়ের বিল ও ভাউচার যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এ কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' অনুযায়ী মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ কিংবা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে। তবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, পরে সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে সব বিল, রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয় এবং একাধিকবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর হৃদস্পন্দনে জটিলতা ধরা পড়ে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড 'ক্যাথেটার অ্যাবলেশন' নামের একটি জটিল অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করে। দেশে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় তাঁকে আবুধাবির একটি মার্কিন হাসপাতাল ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, প্রথম দফায় থাইল্যান্ডে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেখানে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্রের দেয়ালে জমাট রক্ত থাকায় আগে সেটির চিকিৎসা করতে হবে, এরপর অস্ত্রোপচার সম্ভব। পরে হজের দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে ফিরে আসেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, হজ শেষে অসুস্থতা বাড়লে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি আবার থাইল্যান্ডে যান এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচার করান। এ সময় হাসপাতালের বিল বাবদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। যদিও প্রকৃত বিল আরও বেশি ছিল, তবে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু ছাড় পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সরকার শুধু হাসপাতাল, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের বিল পরিশোধ করেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর ব্যয়, হোটেল ভাড়া, খাবার এবং যাতায়াতের খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার বিল, ভাউচার ও রসিদ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা যাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সততা ও নিষ্ঠা বজায় রেখে কাজ করেছেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা তসরুপ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম বৈধ ও আইনসম্মত বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে জনমনে অযথা সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের তীব্র নিন্দাও জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' অনুযায়ী মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ কিংবা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে। তবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, পরে সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে সব বিল, রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচিত খবর
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতই ছিল প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই ওই নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। তাই দেশের হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, কেবল লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় সেখানে ডায়ালাইসিস হয়, এটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের দিন সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাব এবং কক্ষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংসদে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের ঘটনার তুলনা টেনে আনা সমালোচনারও জবাব দেন। তিনি বলেন, “ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল বিদ্যুতের কারণে দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীনের ঘটনা অবহেলার। আপনারা কেউ সেখানে যাননি, অথচ সংসদে এসে কথা বলছেন।”
নবজাতকদের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মন্ত্রী বলেন, “ছয়টা শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ, জানালা বন্ধ, কোনো অক্সিজেন ছিল না। ১৬ থেকে ১৭ জন মা কাঁদছিলেন, ছোটাছুটি করছিলেন, কিন্তু একজন ডাক্তারও আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে পর্যন্ত যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। “দুইজন চিকিৎসক একমত হয়েছেন, অবহেলা ও অক্সিজেনের অভাবেই বাচ্চাগুলোর মৃত্যু হয়েছে,” বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপও ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ভবনের ভেতর বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন প্লাস্টিক বর্জ্য রাখা হয়েছে যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা স্বজন বাঁচতে পারবেন না।”
সরকার মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। প্রতিটি বিষয়কে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের পকেটের খরচ কমে।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই ওই নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। তাই দেশের হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় সেখানে ডায়ালাইসিস হয়, এটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের দিন সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাব এবং কক্ষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংসদে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের ঘটনার তুলনা টেনে আনা সমালোচনারও জবাব দেন। তিনি বলেন, “ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল বিদ্যুতের কারণে দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীনের ঘটনা অবহেলার। আপনারা কেউ সেখানে যাননি, অথচ সংসদে এসে কথা বলছেন।”
নবজাতকদের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মন্ত্রী বলেন, “ছয়টা শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ, জানালা বন্ধ, কোনো অক্সিজেন ছিল না। ১৬ থেকে ১৭ জন মা কাঁদছিলেন, ছোটাছুটি করছিলেন, কিন্তু একজন ডাক্তারও আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে পর্যন্ত যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। “দুইজন চিকিৎসক একমত হয়েছেন, অবহেলা ও অক্সিজেনের অভাবেই বাচ্চাগুলোর মৃত্যু হয়েছে,” বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপও ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ভবনের ভেতর বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন প্লাস্টিক বর্জ্য রাখা হয়েছে যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা স্বজন বাঁচতে পারবেন না।”
সরকার মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। প্রতিটি বিষয়কে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের পকেটের খরচ কমে।
জাতীয়
প্রস্তাবিত বাজেট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে: প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌছাবে। তিনি এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মৎস্য খাতে ৬০৪ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের মাধ্যমে দুই খাতের উৎপাদন, আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এতে দেশীয় খামারিরা উপকৃত হয়েছেন।
মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
তিনি পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশে কৃষি খাতের মতো কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতি এ খাতে শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানান।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও এ বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের হাতে পৌছে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, টাঙ্গাইলে আধুনিক ট্রেন সার্ভিস চালু এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ এখন ঐক্যের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফল বিদেশ সফর নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের ইতিবাচক বক্তব্য জাতির জন্য ঐক্যের বার্তা বহন করে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মৎস্য খাতে ৬০৪ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের মাধ্যমে দুই খাতের উৎপাদন, আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এতে দেশীয় খামারিরা উপকৃত হয়েছেন।
মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
তিনি পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশে কৃষি খাতের মতো কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতি এ খাতে শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানান।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও এ বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের হাতে পৌছে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, টাঙ্গাইলে আধুনিক ট্রেন সার্ভিস চালু এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ এখন ঐক্যের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফল বিদেশ সফর নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের ইতিবাচক বক্তব্য জাতির জন্য ঐক্যের বার্তা বহন করে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয়
এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ: হান্নান মাসুদকে ডেপুটি স্পিকার
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে কথা বলার সুযোগ চেয়ে আসন থেকে দাঁড়িয়ে পড়েন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। এ সময় সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যপ্রণালির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বসুন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।
আজ রোববার (২১ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আব্দুল হান্নান মাসুদ।
তখন স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “হান্নান মাসুদ আপনি বসুন। সংসদে কথা বলার জন্য আপনি যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, দিস ইজ নট দ্য নর্মস। মাননীয় সদস্য, দয়া করে আপনি বসুন।”
তবে ডেপুটি স্পিকারের একাধিক অনুরোধের পরও হান্নান মাসুদ দাঁড়িয়ে থাকেন এবং কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “হান্নান মাসুদ এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। আপনি আপনার সিটে বসুন।”
প্রত্যক্ষদর্শী সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর হান্নান মাসুদ নিজের আসন ছেড়ে দুই হাত উঁচিয়ে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে সাধারণত স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্যের হঠাৎ দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে ডেপুটি স্পিকারের মন্তব্য সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলাকালে কথা বলার সুযোগ চেয়ে আসন থেকে দাঁড়িয়ে পড়েন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ। এ সময় সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যপ্রণালির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বসুন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।
জাতীয়
হরমুজ সংকটের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান! মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন অধ্যায় নাকি আরও বড় সংঘাতের সূচনা?
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, লেবানন সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং একটি সম্ভাব্য স্থায়ী সমঝোতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ রোববার (২১ জুন, ২০২৬) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে শুরু হওয়া এ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং শীর্ষ নিরাপত্তা, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা। রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
কয়েকদিন আগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর পর এ আলোচনা শুরু হলো। ওই সমঝোতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির রূপরেখা তৈরির কথা রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তবে আলোচনার শুরুতেই নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালি ইস্যু। রয়টার্স বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জলপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
আলোচনায় যোগ দেওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আমরা অগ্রগতি দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি “সমগ্র ও স্থায়ী চুক্তি” অর্জনের আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে কাজ করার জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি ফলোআপ গ্রুপও কাজ করবে।
আলোচনার আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাসিস বলেন, “চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও সুইজারল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমেইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ঘোষিত যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এমনকি ইসরায়েলে পরিচালিত এক জরিপে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনার ফলাফল হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, লেবানন সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং একটি সম্ভাব্য স্থায়ী সমঝোতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর পর এ আলোচনা শুরু হলো। ওই সমঝোতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির রূপরেখা তৈরির কথা রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তবে আলোচনার শুরুতেই নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালি ইস্যু। রয়টার্স বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জলপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
আলোচনায় যোগ দেওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আমরা অগ্রগতি দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি “সমগ্র ও স্থায়ী চুক্তি” অর্জনের আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে কাজ করার জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি ফলোআপ গ্রুপও কাজ করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমেইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ঘোষিত যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এমনকি ইসরায়েলে পরিচালিত এক জরিপে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনার ফলাফল হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ, রূপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!
মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!
সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সহস্র অজুত লক্ষ জনতার ঢল! খুলনা মহানগরী সর্বত্রো যেন ১১ দলীয় জোটের দখলে। খুলনা বিভাগের উত্তর অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মাগুরা, এই জেলার সর্বশেষ উপজেলা হলো শ্রীপুর উপজেলা। এই উপজেলার বরিশাট গ্রাম থেকে সমাবেশে এসেছিলো ৫৫: বছর বয়সী প্যারালাইসে অসুস্থ্য মোঃ শহীদুল ইসলাম। মোঃ শহীদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শাহাদত বরণ কারী ইদ্রিস আলী মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার পুর্বেই তার পিতা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হন! তিনি বলেন এই প্রচন্ড গরমে এসেছিলাম খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে, এসে দেখি সমাবেশ তো না এ যেন জনসমুদ্র! মাগুরা শহর থেকে এসেছিলেন ইন্জিনিয়ার মুজাহিদ, উনি বলেন আমি বহুদিন যাবৎ খুলনায় আসা-যাওয়া করি, অনেক মিটিং সিটিং দেখেছি,কিন্ত এত লোক আর দেখিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সাবেক এম পি মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক বাংলাদেশের রুপকার আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান এম পি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এল ডি পি'র চেয়ারম্যান বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ, এন সি পি'র মুখ্য সংগঠক মোঃ নাসিরুউদ্দিন পাটয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!
রাজনীতি
টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান. বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কবি আল মুজাহিদী আর নেই
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের সাহিত্যপ্রেমী মানুষের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সে সময় তাঁর কিডনি কার্যকারিতা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছিল।
টাঙ্গাইলের মাটি থেকে জাতীয় অঙ্গনে ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। তাঁর পুরো নাম হিশাম আল মুজাহিদী। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সম্পাদনায় সাহিত্যপাতা হয়ে উঠেছিল নবীন ও প্রবীণ লেখকদের অন্যতম আশ্রয়স্থল।
মুক্তিযোদ্ধা ও বহুমাত্রিক সাহিত্যস্রষ্টা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্য—বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তাঁর বিচরণ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, আলবাট্রাস এবং কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি। এছাড়া উপন্যাস, ছোটগল্প ও শিশুসাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং আরও বহু সম্মাননা।
শোকের ছায়া সাহিত্যাঙ্গনে
আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারালো। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অপূরণীয় শূন্যতা
টাঙ্গাইলের গর্ব, বাংলা সাহিত্যের এক নিবেদিত প্রাণ সাধক এবং সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নাম আল মুজাহিদীর প্রস্থান দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করলো। তাঁর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, চিন্তা ও আদর্শ বেঁচে থাকবে পাঠকের হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে।
বাংলা সাহিত্য হারালো এক মহীরুহকে, টাঙ্গাইল হারালো তার এক কৃতী সন্তানকে।
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সে সময় তাঁর কিডনি কার্যকারিতা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্য—বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তাঁর বিচরণ।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং আরও বহু সম্মাননা।
আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারালো। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
টাঙ্গাইলের গর্ব, বাংলা সাহিত্যের এক নিবেদিত প্রাণ সাধক এবং সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নাম আল মুজাহিদীর প্রস্থান দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করলো। তাঁর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, চিন্তা ও আদর্শ বেঁচে থাকবে পাঠকের হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে।
জাতীয়
পুশইন, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবেই মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) ও টিওবি নির্মাণের মাধ্যমে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে তিনি সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিয়মিত ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
সরকারের এই উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতীয়
যানজট কমাতে রাজধানীর বাইরে সরানো হবে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে নগরীর অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনালের বাস ডিপো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে রাজধানীর বাইরে অথবা উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বাসের অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
সভায় নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যানজট কমানোর পাশাপাশি রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে রাখায় ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাইল বাংলাদেশ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখে। পরে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরের বিষয়টি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোট ভার্বালের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করে। এরপরও বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
আজ ১৫ জুন, ২০২৬ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একই দিনে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বৈঠকে ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন সরকারি প্রতিনিধিকে এভাবে আটকে রাখা দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ঘটনাটিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বনির্ধারিত সফর ও আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা বিরল এবং এটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ ১৮ জানায়, ইমিগ্রেশন নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণে জাহেদ উর রহমানকে সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল। যদিও পরে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সফর বাতিল করেন।
বর্তমানে বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে অনুসন্ধান ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
জাতীয়
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে আলোচনা স্থগিত, উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কথিত অবৈধ পুশইন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনের সময় সংকটের কারণে আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত পুশইন কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাব জমা দেন।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের মূলতবি শাখা থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, রোববার প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের কার্যসূচি অনুযায়ীও বিষয়টি তালিকাভুক্ত ছিল। তবে রোববার সকালে প্রকাশিত নতুন কার্যসূচি থেকে প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত" এটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে, এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো?" একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, প্রস্তাবটি আবার কবে আলোচনার জন্য সংসদের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নোটিশটি তার কাছেও রয়েছে এবং এটি কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, "বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।"
সংসদে এই আলোচনা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিষয়টি দলীয় নয়, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে দ্রুত সংসদীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য।
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কথিত অবৈধ পুশইন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনের সময় সংকটের কারণে আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত পুশইন কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাব জমা দেন।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের মূলতবি শাখা থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, রোববার প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের কার্যসূচি অনুযায়ীও বিষয়টি তালিকাভুক্ত ছিল। তবে রোববার সকালে প্রকাশিত নতুন কার্যসূচি থেকে প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত" এটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে, এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো?" একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, প্রস্তাবটি আবার কবে আলোচনার জন্য সংসদের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নোটিশটি তার কাছেও রয়েছে এবং এটি কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, "বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।"
সংসদে এই আলোচনা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিষয়টি দলীয় নয়, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে দ্রুত সংসদীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য।
জাতীয়
অবশেষে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানো নিয়ে তোলপাড়
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এছাড়া তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালে তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব এবং বিদেশে থাকা কিছু সম্পদের ওপরও জব্দ ও অবরোধ আরোপ করা হয়। দুবাইয়ে তার পরিবারের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশও আদালত দিয়েছিল।
দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে একটি বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্য হলে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার জন্য সরকার কী ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিষয়টির পূর্ণ সত্যতা জাতির সামনে স্পষ্ট হবে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, দুদক কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলোচিত খবর
দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে, এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে: গভর্ণর মোস্তাকুর রহমান
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন-গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি। গভর্নর বলেন, “আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।”
‘শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি’-উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন। আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
রাজনীতি
বেনাপোলে এসেই ভারত-বাংলাদেশ এক এক হওয়ার কথা বললেন নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে আগমন করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে একটি বৃহৎ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।
তিনি বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতন্ত্রে অনেক ইস্যু থাকে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী, আমাদেরও (ভারতে) গণতন্ত্র শক্তিশালী। দুই দেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র মিলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হয়ে যায়। এজন্য দুই দেশের মিলেমিশে থাকাটা দরকার। এজন্য আমার যা দায়িত্ব আছে, আমি নিশ্চয়ই পালন করবো। কিন্তু আপনাদেরও সাপোর্ট থাকা দরকার। দুই দেশের মানুষ মিলে যে শক্তি হবে সেটাই আসল শক্তি। ওই শক্তিটা পুরো পৃথিবী যেন দেখে ঠিক আছে। ভারত আর বাংলাদেশে যা ট্যালেন্ট আছে, মিলেমিশে থাকলে পৃথিবী চালানো সম্ভব।
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে আগমন করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে একটি বৃহৎ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।
আলোচিত খবর
গত দেড় দশকের বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি—স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন. দেড় দশক ধরে দেয়া বাজেটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তিনি আরো বলেন, নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপচয়নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই আগামী দিনের প্রকল্প ও ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি মূল মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘প্রতিটি প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি (ব্যয়ের যথাযথ মূল্য), রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের প্রতিফল), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা-এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিচ্ছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন. দেড় দশক ধরে দেয়া বাজেটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তিনি আরো বলেন, নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
জাতীয়
আজ থেকে দোকানপাট-বিপণিবিতান-শপিংমল খোলা রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দেশজুড়ে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এতদিন সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও নতুন নির্দেশনায় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় মিলছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। সমিতির নেতারা জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন এই সময়সূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এরপরই তা সারাদেশে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত আসে।
এই সময়সূচি পরিবর্তনের আগে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর আবার আগের নিয়মে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, আজ থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে।” তিনি এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এই সময় বাড়ানোর ফলে বিক্রিবাট্টা বাড়বে এবং ক্রেতারাও স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষদের জন্য সন্ধ্যার পর কেনাকাটার বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার সময় নির্ধারণে নতুন এই সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে।
দেশজুড়ে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এতদিন সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও নতুন নির্দেশনায় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় মিলছে।
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তিস্তা ব্যারেজ ও সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা: উপদেষ্টা জাহেদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সরকার বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ রয়েছে নয়াদিল্লির। তার ভাষায়, “৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, এখন সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। তাই এখন যে পুশ ইন হচ্ছে সেটা ইচ্ছাকৃত হচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এই সমস্যা সহসাই সমাধান হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হবে নির্দলীয়। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার তাতে বাধা দেবে না। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নাম বা পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, “যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে কারও ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না।”
ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদী নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজের আদলে তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে আসা পানি ধরে রেখে শুষ্ক সময়ে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ উদ্যোগ প্রকল্প আকারে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা এলাকায় ব্যারেজ বা রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হবে।
দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ধাপে ধাপে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বর্তমানে মাত্র আটটি উপজেলায় ১০১ শয্যার সুবিধা রয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলেও জানান তিনি। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতি ও অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সমন্বয়ের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম কম রয়েছে।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজারে বর্তমান ধরনের সংকট দেখা যায়নি, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হয়েছিল।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেওয়া এসব বক্তব্য আগামী দিনের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সরকার বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।























































