উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান তার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব মিলিতভাবে প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এ বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ নির্বাচন আমাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রার সূচনা করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন ছিল। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে- জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাবো।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ; কতোটা বাস্তবসম্মত?
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো।
২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তারেক রহমান: রয়টার্সের প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে থাকার পর দেশে এসে বিএনপির চেয়ারম্যান হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। আর এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাঝেই তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এই আলোচিত নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
যদি জনমত জরিপগুলো সত্য হয় তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে সময়ই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখেন তারেক রহমান। সে সময় বীরের মতো তাকে স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি।
অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতেই আছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, খেলনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পের প্রচারের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছরের সময়কাল প্রবর্তনের কথা বলেছেন।
তারেক রহমান তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে যে, তিনি বলেছেন তিনি আসলে সেভাবে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি।
নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি না আমরা ঢাকায় অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
দৃশ্যপট পরিবর্তন তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।
দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও মামলা থাকলেও এগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশোধ কারো জন্য কী বয়ে আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ থেকে পালাতে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য তাকে ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলায় অনেকেই নিহত ও আহত হন। তবে তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান।
লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় তিনি তার দলের একের পর এক দুর্দশা দেখেছেন। তার দলের সিনিয়র নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এই আলোচিত নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়লাভ করতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
যদি জনমত জরিপগুলো সত্য হয় তবে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী মৃদুভাষী এই নেতার ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। তিনি ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তার চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সে সময়ই তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে পা রাখেন তারেক রহমান। সে সময় বীরের মতো তাকে স্বাগত জানানো হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তিনি।
অপরদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতেই আছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি এবং শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ হাসিনা ছিলেন নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, খেলনা এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পের প্রচারের মাধ্যমে পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে দুই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ বছরের সময়কাল প্রবর্তনের কথা বলেছেন।
তারেক রহমান তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় অবতরণের পর সবকিছু এত দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে যে, তিনি বলেছেন তিনি আসলে সেভাবে কোনো কিছু ভাবার সময় পাননি।
নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি জানি না আমরা ঢাকায় অবতরণের পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমান বাবার পক্ষে সমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
দৃশ্যপট পরিবর্তন তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে টেক্সটাইল এবং কৃষি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।
দেশে ফিরে আসার পর থেকেই তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও মামলা থাকলেও এগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশোধ কারো জন্য কী বয়ে আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ থেকে পালাতে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এই মুহূর্তে দেশে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তার অনুপস্থিতিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য তাকে ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলায় অনেকেই নিহত ও আহত হন। তবে তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান।
লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় তিনি তার দলের একের পর এক দুর্দশা দেখেছেন। তার দলের সিনিয়র নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
ঢাকার ৪টি আসনে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলকে পছন্দ করে আ. লীগের ৭৪.৯ শতাংশ ভোটার: নির্বাচনী জরিপ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে এমন ভোটারদের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’। জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ দশমকি ৯ শতাংশ ভোটারেরই পছন্দ বিএনপি-জামায়াত দুই দলই। এসময় ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ এই চারটি আসনের উপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। তবে বিএনপির দিকে কিছুটা বেশি ঝুঁকছে।
রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
ভোটারদের একটি বড় অংশ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে বলে উঠে এসেছে একটি জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ৩৭ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. শিব্বির আহমেদ জানান, জরিপটি ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এসব আসনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, কেবল তাদের মধ্য থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটের পছন্দ জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে, জরিপের এই ফলাফল ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও আস্থার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর।
ভোটারদের একটি বড় অংশ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে বলে উঠে এসেছে একটি জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ৩৭ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. শিব্বির আহমেদ জানান, জরিপটি ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এসব আসনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, কেবল তাদের মধ্য থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটের পছন্দ জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে, জরিপের এই ফলাফল ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও আস্থার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর।
রাজনীতি
নির্বাচন ও 'হাদি প্রভাব': বাংলাদেশের জনমতের নতুন মোড়
ডিসেম্বরে শরিফ ওসমান হাদি নিহতের পর তাঁর জানাজায় ঢাকার বুকে যখন লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হলো, তখন পুরো দেশ যেন এক নিমিষে শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের নিয়মে সেই শোক একসময় ফিকে হয়ে এল। আসলে মানুষের স্মৃতিতে বীরত্বের তেজও খুব বেশিদিন থাকে না। সাধারণ মানুষকে টিকে থাকার লড়াই করতে হয়, তাই তারা সারাজীবন শোক নিয়ে বসে থাকতে পারে না। জীবনের তাগিদে একসময় শোক হার মেনে যায়।
বাংলাদেশ এমনটা আগেও দেখেছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কথাই ধরুন, যাঁর আত্মত্যাগ শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের গুলির সামনে তাঁর বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি এখন এ দেশের মানুষের মনে গেঁথে গেছে।
দেয়ালের আলপনা থেকে শুরু করে স্কুলের পাঠ্যবই—সবখানেই আজ সাঈদের সেই ছবি। সাঈদের ছবিটা হয়তো অমর হয়ে থাকল, কিন্তু তাঁকে ঘিরে সেই শোকের তীব্রতাটুকু হারিয়ে গেছে।
আজ তাঁর মৃত্যুর সেই গভীর শোক সম্ভবত শুধু তাঁর পরিবার আর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই বেঁচে আছে। বাকি সবার কাছে প্রাত্যহিক জীবনের যাতাকলে সেই শোক পিষ্ট হয়ে গেছে। এই রূঢ় ও স্বার্থপর পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য আর নিরাপত্তার অভাব মানুষের মন থেকে দীর্ঘস্থায়ী আবেগ বা শোক পালনের বিলাসিতাটুকুও কেড়ে নিয়েছে।
এখানে আরও একটি কঠোর সত্য আছে। আবু সাঈদের মৃত্যু ব্যবহারিক দিক থেকে একটি চূড়ান্ত গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে। তাঁর সেই আত্মত্যাগই এক গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়।
সাঈদের আত্মত্যাগ একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সফল করেছে। ইতিহাস বদলেছে, আর তাঁর অধ্যায়টি যতই বিয়োগান্তক হোক না কেন, তা পরিপূর্ণতা পেয়েছে।

কিন্তু হাদির মৃত্যুর বেলাতে তা ঘটেনি।
নিহত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর শাহাদাত এখনো অসম্পূর্ণ, অমীমাংসিত। আর ঠিক এই কারণেই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া এতোটা তীব্র, এতোটা আবেগপ্রবণ। তাঁকে দেওয়া সম্মান আর এই বাঁধভাঙা শোকের গভীরে অন্য কিছু লুকিয়ে আছে; এটি কেবল একজন বীরের চলে যাওয়া নয়। বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের ‘হাদি ইফেক্ট’ বা ‘হাদি প্রভাব’ সম্পর্কে জানতে হবে।
হাদি আলোচনায় আসেন মূলত সোশ্যাল মিডিয়া আর টকশোর মাধ্যমে, যেখানে তাঁকে বড় বড় বাঘা বাঘা নেতা ও ব্যক্তিত্বদের মুখোমুখি হতে দেখা যেত। বাহ্যিকভাবে তিনি ছিলেন সাদামাটা; ছোটখাটো গড়ন, আলুথালু চুল-দাড়ি, কিন্তু তাঁর চাহনি ছিল প্রখর। তাঁর শক্তির জায়গা ছিল কথা বলার ভঙ্গি।
তিনি কোনো সংকোচ ছাড়াই খাঁটি সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতেন, যাতে দক্ষিণ বাংলার গ্রামীণ সুর স্পষ্ট ছিল। ঢাকার অভিজাত শ্রেণির কৃত্রিম ও কেতাদুরস্ত ভাষার সাথে এর কোনো মিল ছিল না। আর এ কারণেই দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তাঁর কথাগুলো খুব কাছের আর চেনা মনে হতো।
মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা হাদি ছিলেন এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর মাঝে এক ধরণের জেদ আর সক্ষমতার অদ্ভুত মিলন ঘটেছিল; তিনি ছিলেন প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা এমন একজন, যার সমাজকাঠামো কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা ছিল।
তিনি পুরোপুরি সিস্টেমের অংশ ছিলেন না, আবার সমাজবিচ্ছিন্নও ছিলেন না। তাঁর স্পষ্ট ইসলামিক জীবনবোধ এ দেশের মানুষের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এমন একটি দেশে যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে ধর্মই এখনো মানুষের টিকে থাকার বা এক হওয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে হাদি নিয়মিত আলোচনায় আসতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বলয়ের অবশিষ্টাংশ যখন রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ খুঁজছিল, হাদি তখন সরাসরি তাদের পথ আগলে দাঁড়ান।
তাঁর কথা বলার ধরন ছিল সোজাসাপ্টা, কখনও কখনও বেশ রূঢ়—আর তিনি জেনেশুনেই এমনটা করতেন। হাদি বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে ফেরার অনেক আগেই তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনজীবনে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ দেওয়াটা হবে চরম বিপজ্জনক।
হাদির এই লড়াই মোটেও গতানুগতিক রাজনীতির মতো ছিল না। তাঁর আসল লড়াই ছিল সংস্কৃতির ময়দানে। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুরোপুরি নিজেদের দখলে রেখেছিল। পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, বিশ্ববিদ্যালয় আর শিল্পকলায় তারা তাদের নিজেদের বয়ান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আদতে এটি হওয়ারই কথা ছিল।
১৯৭১-এর মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া একটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সবসময় ভাষা, সংস্কৃতি আর বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে নিজেদের টিকে থাকার শক্তি জোগাত। আর দেশের সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী সমাজও এই চিন্তাধারার মধ্যে নিজেদের স্বার্থের দেখা পেয়েছিল।
কিন্তু হাসিনা যখন টানা চারবার ক্ষমতায় থাকলেন—যার মধ্যে শেষ তিনটি নির্বাচনই ছিল কারচুপিতে ভরা—তখন তাদের এই সাংস্কৃতিক পরিকল্পনাটা একটা বিষফোড়ার মতো হয়ে দাঁড়াল। যেটা আগে ছিল স্রেফ নিজেদের মত প্রচার করা, সেটা পরে একগুঁয়ে অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হলো।
বাঙালি জাতীয়তাবাদকে একপাক্ষিক করে ফেলা হলো, ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে বদলানো হলো। আর মুক্তিযুদ্ধকে এমনভাবে ব্যবহার করা হতে লাগল যেখানে হাসিনার বাবা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়েও বড় কিছু বা দেবতার মতো কেউ হিসেবে তুলে ধরা যায়। এর ফলে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি আর সবার থাকল না; তা হয়ে দাঁড়াল স্রেফ একজনের গুণগান গাওয়ার মাধ্যম।
এর ফল হয়েছিল খুব ভয়াবহ। বড় বড় পত্রিকা, টিভি চ্যানেল আর নামী বুদ্ধিজীবীরা কেবল সরকারের এই গুণগানই করেনি, বরং তারা এটা সবাইকে মানতে বাধ্য করেছিল। এতে করে বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশের মানুষের মতামতকে একদম দাম দেওয়া হয়নি। এই মানুষগুলো মূলত সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান, যারা সরকারের এই চাপিয়ে দেওয়া ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ জাতীয়তাবাদের সাথে নিজেদের মেলাতে পারেনি।
সময়ের সাথে সাথে শেখ মুজিবের প্রতি সম্মান দেখানোটা অনেকটা ‘বাধ্যতামূলক নিয়মের’ মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবস্থা এমন ছিল যে, এর বাইরে কিছু বললেই মানুষকে চাকরি হারাতে হতো বা সমাজে অপমানিত হতে হতো। সেই জমে থাকা রাগ কিন্তু দমে যায়নি, বরং তা ভেতরে ভেতরে বাড়ছিল।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সেই রাগেরই বিস্ফোরণ ঘটল। সারা দেশে মানুষ মুজিবের মূর্তি আর ছবি ভাঙতে শুরু করল। এটাকে স্রেফ ‘ভাঙচুর’ মনে করলে ভুল হবে; আসলে এটা ছিল রাষ্ট্র থেকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নিয়মকানুনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটা প্রতিবাদ। তারা কেবল এটাই বলতে চেয়েছিল যে, চাপিয়ে দেওয়া কোনো প্রতীকের নিচে নয়, বরং তারা তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ আর নিজেদের আসল পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চায়।
সমাজ আর রাষ্ট্রের এই আমূল পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে শরিফ ওসমান হাদির চেয়ে স্পষ্ট আর কেউ ছিলেন না।
হাদির জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পথটা ছিল খুব পরিষ্কার। কোনো রকম হিসেব-নিকেশ ছাড়াই তিনি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিতি পান এবং পরে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে জায়গা করে নেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সেই সব মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবীদের মুখোশ খুলে দেন, যারা নিজেদের নৈতিকভাবে বড় দাবি করলেও আসলে হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল। তিনি তাঁর সমালোচনাকে কোনোভাবেই নরম করেননি, বরং কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, সরাসরি অপরাধীদের নাম ধরে ধরে কথা বলতেন। তাঁর এই ভঙ্গিটি মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছিল।
২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে অনেক বাংলাদেশির কাছে হাদি ছিলেন সেই কণ্ঠস্বর, যা তারা শুনতে চেয়েছিলেন। অন্যরা যা ফিসফিস করে বলত বা বলতে ভয় পেত, হাদি তা-ই প্রকাশ্য চিৎকার করে বলতেন। তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি যা বলছেন মন থেকেই বলছেন—হয়তো একটু বেশিই আবেগপ্রবণভাবে। আর যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সবাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত, সেখানে হাদির এই সোজাসাপ্টা সততা মানুষকে চুম্বকের মতো টেনেছিল।
হাদি শুধু সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি। সাধারণ মানুষের অনুদানে তিনি ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ গড়ে তোলেন, যা ছিল প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে একটি বিকল্প সাংস্কৃতিক কাঠামো তৈরির এক সাহসী প্রচেষ্টা। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার: বাংলাদেশের শিকড় থেকে উঠে আসা এমন এক সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলা, যা ইসলামিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।
এই ধারাটি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর হৃদস্পন্দন বুঝতে পেরেছিল ঢাকার অভিজাত শ্রেণির চাপিয়ে দেওয়া সেই সংকীর্ণ ও তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সৌন্দর্যের ধার ধারেনি তারা। যেসব বাংলাদেশি এতোদিন ধরে প্রচলিত বাঙালি সংস্কৃতিকে নিজেদের জন্য ‘পর’ বা ‘চাপিয়ে দেওয়া’ মনে করে আসছিলেন, তাদের কাছে ইনকিলাব সেন্টার কোনো উস্কানি নয়, বরং এক ধরণের ভুল সংশোধন হিসেবে ধরা দিয়েছিল।
তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ কেবল সাংস্কৃতিক পরীক্ষার চারণভূমি ছিল না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ তখন অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে দুলছিল। সাধারণ মানুষের দাবি তখন একটাই—নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা।
হাদি বিষয়টি খুব দ্রুত বুঝে ফেললেন। তিনি বুঝতে পারলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ছাড়া এই সাংস্কৃতিক লড়াই কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। টেকসই ক্ষমতা কেবল সংসদেই পাওয়া সম্ভব।
ঢাকার কেন্দ্রস্থল থেকে আসন্ন নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত হাদিকে রাতারাতি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই হাদি এমন এক প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ালেন, যিনি কি না রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অভিজ্ঞ, বিত্তশালী এবং যার দল ক্ষমতায় ফিরবে বলে সবাই ধরে নিয়েছিল।
লড়াইটা ছিল অসম—একেবারে রূপকথার ডেভিড আর গোলিয়াথের মতো। যে শহর আর দেশ এক আমূল পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে ছিল, সেখানে এমন এক অসম লড়াই সবার নজর কাড়বে এটাই ছিল স্বাভাবিক।
হাদির প্রচারণার স্টাইল ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। তিনি কোনো চটকদার বিজ্ঞাপন দেননি, বরং সচেতনভাবেই তা এড়িয়ে গেছেন। তাঁর প্রচারণা ছিল একদম জৌলুসহীন—বিশাল পোস্টারের বদলে ছোট লিফলেট আর শোডাউনের বদলে সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলানো। ফজর নামাজ পড়ে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতেন, গরিব মানুষের সাথে মিশতেন এবং নিজের সেই সহজাত গ্রাম্য ভাষায় কথা বলতেন। সোশ্যাল মিডিয়া এসব খবর ছড়িয়ে দিত, আর যেহেতু কোনো কিছু সাজানো ছিল না, তাই মানুষ সহজেই তাঁকে বিশ্বাস করত।
মানুষের কাছে হাদির প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ‘সততা’। ১৬ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে দুর্নীতি যখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছিল, তখন হাদি ছিলেন তার ঠিক বিপরীত এক মানুষ। তিনি বড় বড় পলিসি বা টেকনিক্যাল সংস্কারের বুলি আওড়াননি। তিনি খুব সহজ এক ভরসা দিয়েছিলেন: ক্ষমতার সামনে তিনি কখনো মাথানত করবেন না।
জুলাই আন্দোলনের পর ঠিক এই ভরসাটুকু মানুষ ছাত্রনেতাদের ওপর করেছিল। তাদেরও মনে করা হয়েছিল সৎ আর সাহসী। কিন্তু রাজনীতি যখন আবার আগের মতো নোংরা হতে শুরু করল, তখন তাদের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কমতে থাকল।
শেষমেশ মানুষ তাদের সেই হারানো বিশ্বাস হাদির ওপর খুঁজে পেতে চাইল। হাদিই হয়ে উঠলেন সেই ভরসার প্রতীক, যার প্রমাণ করার কথা ছিল যে—ক্ষমতার ছোঁয়া পেলেও একজন মানুষ সৎ থাকতে পারে।
হাদি জুলাই আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন না। কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর তিনিই যেন সেই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় মশালে পরিণত হলেন। টকশোতে কথা বলা হাদিকে মানুষ চিনত ঠিকই, কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ানো হাদি মিশে গিয়েছিলেন মানুষের প্রাণের গভীরে। ঠিক এই কারণেই তাঁর মৃত্যুতে চারদিকে এতো হাহাকার।
সাধারণ মানুষ অনুভব করছে, তাদের খুব কাছের আর দামি কিছু একটা কেউ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মৃত্যুর পর হাদির নাম আরও ছড়িয়ে পড়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর আদর্শ শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না তা সময় বলবে। কারণ ইতিহাস কাউকে গ্যারান্টি দেয় না। ইতিমধ্যে অনেকে তাঁর নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করার আর তাঁর ছবি দিয়ে স্বার্থ হাসিল করার ধান্দা শুরু করে দিয়েছে। আসলে ‘শহীদি’ গৌরবকে স্বার্থের প্রয়োজনে ব্যবহার করা সবসময়ই খুব সহজ।
তবে শোকের রেশ কেটে যাওয়ার সাথে সাথেই যে হাদি হারিয়ে যাবেন, তা মোটেও ঠিক নয়। মানুষের আবেগ হয়তো একসময় ঝিমিয়ে আসে, কিন্তু অসমাপ্ত লড়াই কখনো শেষ হয় না। নিজের সংস্কৃতির অধিকার আদায়, দুর্নীতির সামনে মাথা নত না করা আর উচ্চবিত্তদের আধিপত্যকে অস্বীকার করার যে সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন—তার মীমাংসা এখনো হয়নি।
হাদির সংগ্রাম এখনো অসম্পূর্ণ। আর ঠিক এ কারণেই এ দেশের মানুষের মনে তিনি বারবার ফিরে আসবেন। যারা এর উল্টোটা ভাবেন, তারা আসলে এই সময়টাকেও চিনতে পারেননি, আর হাদিকেও বুঝতে পারেননি।
ফয়সাল মাহমুদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বর্তমানে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আসীন।
(আল জাজিরায় প্রকাশিত ফয়সাল মাহমুদের কলাম। অনুবাদ করেছেন, গল্পকার তানসীর আলম।)
আজ তাঁর মৃত্যুর সেই গভীর শোক সম্ভবত শুধু তাঁর পরিবার আর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই বেঁচে আছে। বাকি সবার কাছে প্রাত্যহিক জীবনের যাতাকলে সেই শোক পিষ্ট হয়ে গেছে। এই রূঢ় ও স্বার্থপর পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য আর নিরাপত্তার অভাব মানুষের মন থেকে দীর্ঘস্থায়ী আবেগ বা শোক পালনের বিলাসিতাটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

নিহত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর শাহাদাত এখনো অসম্পূর্ণ, অমীমাংসিত। আর ঠিক এই কারণেই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া এতোটা তীব্র, এতোটা আবেগপ্রবণ। তাঁকে দেওয়া সম্মান আর এই বাঁধভাঙা শোকের গভীরে অন্য কিছু লুকিয়ে আছে; এটি কেবল একজন বীরের চলে যাওয়া নয়। বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের ‘হাদি ইফেক্ট’ বা ‘হাদি প্রভাব’ সম্পর্কে জানতে হবে।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে হাদি নিয়মিত আলোচনায় আসতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বলয়ের অবশিষ্টাংশ যখন রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ খুঁজছিল, হাদি তখন সরাসরি তাদের পথ আগলে দাঁড়ান।
হাদির এই লড়াই মোটেও গতানুগতিক রাজনীতির মতো ছিল না। তাঁর আসল লড়াই ছিল সংস্কৃতির ময়দানে। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুরোপুরি নিজেদের দখলে রেখেছিল। পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, বিশ্ববিদ্যালয় আর শিল্পকলায় তারা তাদের নিজেদের বয়ান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আদতে এটি হওয়ারই কথা ছিল।
জাতীয়
দিনাজপুরে কারাবন্দি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. ফরহাদ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দিনাজপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানার পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠায়। সেখান থেকে ১৭ আগস্ট তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি মোট ৩টি মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রমেশ চন্দ্র সেন ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি দলটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. ফরহাদ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জাতীয়
ঐক্য সরকার গঠনে জামায়াতের প্রস্তাব নাকচ—নিজেদের উপরই আস্থা বিএনপি’র
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান। এমনটাই গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব। তাহলে বিরোধী দল কে হবে? আমি জানি না তারা কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে। আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।”
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।
তবে তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।”
দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত ব্যহত হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।
জয়ী হলে ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন?
তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”
“তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”
এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তারেক।
সূত্র: রয়টার্স
বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান। এমনটাই গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব। তাহলে বিরোধী দল কে হবে? আমি জানি না তারা কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে। আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।”
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।
তবে তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।”
দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত ব্যহত হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।
জয়ী হলে ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন?
তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”
“তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”
এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তারেক।
সূত্র: রয়টার্স
রাজনীতি
হাদি হত্যা বিচারে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার চিঠি পাঠাবে রোববার
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকার শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।
‘সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’-উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়।
এদিকে আজ শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল থেকে শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
আলোচিত খবর
আবারও রণক্ষেত্র শাহবাগ, পুলিশের লাঠিচার্জ-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলা কর্মসূচিতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
এর আগে, এদিন দুপুরের পর শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা করেন নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা বাংলামোটর মোড়ে অবস্থানের চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংঘর্ষের সময় জাবেরসহ ইনকিলাব মঞ্চের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে গেলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। এসময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।
ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চলা কর্মসূচিতেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
জাতীয়
যমুনায় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেয়া সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় বিজিবি ও নৌবাহী সদস্যদের। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ।
এ অবস্থায় এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি ১৪৪ ধারা জারির তথ্য দেন।
এদিকে, যমুনার নিরাপত্তায় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি মোতায়েনের পর ডিএমপির পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।এর আগে, সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। বেলা ১১টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যান তারা। এ সময় সরকারি চাকরিজীবীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগন দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না। বিগত দিনে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করায় ক্ষোভ জানান তারা।
৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেয়া সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জাতীয়
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় শুক্রবার বিকালে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংঘর্ষের সময় জাবেরসহ ইনকিলাব মঞ্চের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে গেলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। এসময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।
এদিকে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতে থেকে জানানো হয়, ‘শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’
শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আপাতত কোন জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসবো।’
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় শুক্রবার বিকালে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
আলোচিত খবর
‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ-২০২৬’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর, ই-কমার্স কমপ্লায়েন্স তৈরি, আধুনিক ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ যেকোনো ধরনের মাইগ্রেশনজনিত ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব তৈরিতে প্রণীত ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ-২০২৬’ আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আইনটিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে, যা ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে এবং পূর্ববর্তী ‘দ্য পোস্ট অফিস অ্যাক্ট, ১৮৯৮’-কে প্রতিস্থাপন করবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ডাক, কুরিয়ার বা পার্সেল ব্যবসা পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ প্রশাসনিক জরিমানা পূর্বের ৫০ হাজার টাকা (বা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা) থেকে বাড়িয়ে অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, প্রচলিত ডাকটিকিটের পাশাপাশি ডিজিটাল ডাকটিকিট বা ই-স্ট্যাম্পিং চালু করা হয়েছে। গ্রাহক অনলাইনে বিল পরিশোধ করে সুরক্ষিত ডিজিটাল কিউআর কোড বা বারকোড পাবেন, যা স্বতন্ত্র ছাপানো মাধ্যম বা যে কোনো ডিভাইসে প্রদর্শিত হলেও বৈধ ডাকটিকিটের সমতুল্য আইনি স্বীকৃতি পাবে।
নতুন আইনে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অধীন সকল নীতি ও অধিকার প্রযোজ্য করা হয়েছে। অপারেটরদের গ্রাহকের তথ্য শুধু সেবা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা এবং সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন এনক্রিপশন) গ্রহণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, একটি ডিজিটাল সেন্ট্রাল লজিস্টিক্স ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সকল বাণিজ্যিক অপারেটরের আন্তঃপরিচালন নিশ্চিতকরণের বিধান করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা সহজে ই-কমার্সের ট্র্যাকিং তথ্য পেতে পারেন।
পরিবর্তিত ডাক সেবা অধ্যাদেশে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সকল নাগরিকের ঠিকানাসমূহকে এমনভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, যাতে ডিজিটাল অ্যাড্রেস তৈরি হবার পাশাপাশি ঠিকানাকেন্দ্রিক ফ্যামিলি-ট্রি ম্যাপিংসহ জিও-ফেন্সিং নির্ধারণ করা হবে। এসব ডেটার স্থায়ী লাইফ-সাইকেল নির্ধারণ করে ডিজিটাল আর্কাইভ করা হবে।
অনুরূপ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন বা নদীভাঙনসহ অন্যান্য মাইগ্রেশনজনিত কারণে ঠিকানা হারানোর প্রেক্ষিতে (যেমন: চর বিলীন হওয়া ও জেগে ওঠা কিংবা ভূমি পুনরুদ্ধার ইত্যাদি) পুনরায় যথাযথভাবে ঠিকানা চিহ্নিত ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর, ই-কমার্স কমপ্লায়েন্স তৈরি, আধুনিক ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ যেকোনো ধরনের মাইগ্রেশনজনিত ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব তৈরিতে প্রণীত ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ-২০২৬’ আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
জাতীয়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না ইরান প্রবাসীরা
-ইরান থেকে আশরাফুর রহমান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারছেন না।
টানা প্রায় এক সপ্তাহ চেষ্টা করার পর গত ১৩ ডিসেম্বর আমি "পোস্টাল ভোট বিডি" অ্যাপে নিবন্ধন করতে সক্ষম হই। তবে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার সমস্যার কারণে ইরানপ্রবাসীদের আনুমানিক ৮০ শতাংশই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি। "পোস্টাল ভোট বিডি" ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান থেকে মাত্র ১৬ জন নিবন্ধন করেছেন এবং সবার আবেদনই অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু একজনের কাছেও এখনো কোনো পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে "পোস্টাল ভোট বিডি" ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ডাকসেবা (EMS) চালু না থাকায় ১৬ জন ওসিভি যাচাইকৃত ভোটারের তথ্য ডাক বিভাগে পাঠানো হবে না। পোস্টাল ব্যালট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে একই বক্তব্য জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের ইএমএস ডাকসেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি আমি ১৩ ডিসেম্বরের এক পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম। তখন আমি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম— "ইরান থেকে ভোট দিতে আগ্রহী প্রবাসীদের ব্যালট পেপার ডাকযোগে না পাঠিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে পাঠানো হলে তা দ্রুত তেহরানে পৌঁছানো সম্ভব। তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ঠিকানায় দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়া যেত। ভোট প্রদান শেষে ভোটাররা সেগুলো দূতাবাসের ঠিকানায় ফেরত পাঠাবেন এবং দূতাবাস একসঙ্গে সব ব্যালট কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে পারে। এভাবে ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব— এ বিশ্বাস থেকেই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল।"
কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ চরম হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতির মধ্যে রয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তত এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের মধ্য থেকে ১২২টি দেশ থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পেরেছেন মাত্র ১৫ লাখ মানুষ। অ্যাপ ও সার্ভার সমস্যার পাশাপাশি ওটিপি না আসার মতো প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নিবন্ধনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
কলাম্বিয়া, নাইজার, ক্যামেরুন, গায়ানা ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশ থেকে একটি করে নিবন্ধন হলেও সেখানে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। অথচ কেবল ইরানের ক্ষেত্রেই কোনো ব্যালট পাঠানো হয়নি।
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন থেকেই যায়—
নির্বাচন কমিশন কি এই বৈষম্যের দায় এড়াতে পারে?
ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক অজুহাত দিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা ভোট দিতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশন কি এই বৈষম্যের দায় এড়াতে পারে?
ইরানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক অজুহাত দিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
জাতীয়
রাষ্ট্র সংস্কার থেকে আত্মনির্ভরতার বার্তা— ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার; জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশের রূপরেখাকে সামনে রেখে এই ইশতেহার উপস্থাপন করে।
রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই ইশতেহার বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলটির জনতার ইশতেহারের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। একইসঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইশতেহার ঘোষণার এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের মোট ২৬টি অগ্রাধিকার এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেগুলো হলো-
১. 'জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীন, সার্বভৌমত্ত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National interest)।
২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন!
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মযাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Wor (Women Participation)
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)!
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)!
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Societyll)
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পদহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূালা অ্যাবদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরানর বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)!
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)!
১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্ঘকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা । (Strong and Functional Democracy)!
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। (Justice and Human Rightsi
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে July Spirit)
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য ভিশন' (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)i
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)!
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)!
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিমোব সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation!!
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রাম বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)I
২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)!
২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা [Transport Revolutionji
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)!
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবাবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। করা (Social Security)!
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।
জামায়াত জানায়, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে পাওয়া ৩৭ লাখের বেশি জনমতের প্রতিফলন রাখা হয়েছে। দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশের রূপরেখাকে সামনে রেখে এই ইশতেহার উপস্থাপন করে।
২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন!
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মযাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Wor (Women Participation)
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)!
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)!
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Societyll)
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পদহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূালা অ্যাবদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরানর বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)!
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)!
১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্ঘকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা । (Strong and Functional Democracy)!
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। (Justice and Human Rightsi
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে July Spirit)
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য ভিশন' (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)i
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)!
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)!
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিমোব সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation!!
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রাম বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)I
২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)!
২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা [Transport Revolutionji
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)!
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবাবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। করা (Social Security)!
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।
জামায়াত জানায়, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে পাওয়া ৩৭ লাখের বেশি জনমতের প্রতিফলন রাখা হয়েছে। দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
রাজনীতি
মব ভায়োলেন্স বলতে কিছু নেই, পুলিশের ভেতর কোনো ভীতি কাজ করছে না: রাজশাহীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
‘মব ভায়োলেন্স বলতে কিছু নেই’বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে পুলিশের ভেতর মব ভীতি কাজ করছে কি না?
এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে পাশে ডেকে এনে সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেছেন, ‘এই যে তাকাইয়া দেখো, ভীত মনে হচ্ছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই। পুলিশের ভেতরে কোনো ভীতি কাজ করতেছে না।’
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো। সিসিটিভি প্রায় কেন্দ্রে লেগে গেছে। দু’একটা কেন্দ্র যেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নাই, সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ব্যবস্থা করে দিবে। তাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে।’
অবৈধ অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি বারবারই বলছি। এখানে অবৈধ অস্ত্র কিন্তু প্রতিনিয়তই উদ্ধার হচ্ছে। নির্বাচনটা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে, উৎসবমুখর হবে, পিসফুলই হবে।’
নির্বাচনে সহিংসতার কোনো সম্ভাবনাই নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে সারাদেশে সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৪ হাজার, পুলিশের ১ লাখ ৫০ হাজার, র্যা বের ৯ হাজার এবং আনসারের ৫ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’
এর আগে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ড. জিললুর রহমানসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসক(ডি সি) , আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সকল থানার ওসিরা অংশ নেন।
‘মব ভায়োলেন্স বলতে কিছু নেই’বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
জাতীয়
লিবিয়ায় গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল-ইসলাম নিহত, তদন্ত শুরু
-আশরাফুর রহমান
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গাদ্দাফি পরিবারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লিবিয়ার আল-আহরার টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে হামাদাহ এলাকায় সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি ড্রোন (UAV) হামলা অথবা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হতে পারেন। তবে এখনো হামলার ধরন ও হামলাকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব লিবিয়ার প্রভাবশালী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরে আরও বলা হয়, নিহতদের মরদেহ নাফুসা পর্বতমালার রুজবান এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গাদ্দাফি পরিবারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক
বদলে যাচ্ছে নাম, বদলে যাচ্ছে পোশাক, তৈরী হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকার র্যাডপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আজ থেকে র্যা ব নতুন নামে পরিচিতি পাবে। তবে গেজেট জারি হলে নতুন নামের অধীনে কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটের পোশাকও পরিবর্তিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই নতুন পোশাক তৈরি করা হয়েছে, পরবর্তী সপ্তাহে সদস্যদের নতুন ইউনিফর্মে দেখা যাবে।” তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে র্যা বের কাজের মান পরিবর্তন এসেছে, অনেকের আশা ছিলো তাই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
র্যা বের ইতিহাস অনুসারে, প্রথমে এটি গঠিত হয়েছিল র্যািপিড অ্যাকশন টিম (র্যা ট) হিসেবে। পরে ২০০৪ সালে র্যা ব নামে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ এবং পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পায়। ২১ জুন থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। ২২ বছর পর এবার নাম পরিবর্তন করে এসআইএফ রাখা হচ্ছে।
বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা র্যামব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময়ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় র্যারব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। এর পরও সরকার ২২ বছর পর এ বাহিনীর নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহিনীকে নতুন আকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
র্যা ব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত জেনেছি। আদেশ পেলেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে, কোনো সমস্যা নেই।”
অন্তর্বর্তী সরকার র্যাডপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
জাতীয়
আওয়ামী লীগের সাথে যৌথ ভাবে ভারতীয় মিডিয়াও প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে বললেন, ভারতীয় মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ভারতের অনেক পত্রিকা রয়েছে, যারা কোনোদিন বাংলাদেশ নিয়ে সঠিক তথ্য দেয়নি। আমরা দেখেছি আনন্দবাজারের মতো পত্রিকাও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে; অথচ তারা ভারতে সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকা। ভারত খুব পরিকল্পিতভাবে এই মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন ছড়াচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমরা সবাই ডেমোক্রেসি চাচ্ছি। এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গ্রুপ কাজ করছে। আমাদের চ্যালেঞ্জটা আসছে মিসইনফরমেশন এবং ডিজইনফরমেশন থেকে। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর এই চর্চা লোকাল সোর্স এবং আউটসাইড থেকেও হয়। প্রথমবারের মতো আমরা দেখলাম গত ১৮ মাসে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশকে নিয়ে ভয়াবহ রকমের মিসইনফরমেশন ছড়াচ্ছে। এটা ভয়াবহ ছিল। গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। তারা প্রতিদিন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। এটা কী তারা নিজেরাই করছে, নাকি এর অলক্ষ্যে কেউ কলকাঠি নাড়ছে?
প্রেস সচিব বলেন, “আমরা একটা স্মুথ ট্রানজিশন (ক্ষমতার পালাবদল) করতে চাই। একটা ভালো নির্বাচন করতে চাই। আমরা একটি গণতান্ত্রিক যুগ দেখতে অধীর আগ্রহে আছি। কিন্তু বাইরে ইমেজ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে-এখানে গণতন্ত্র এলেও সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে-বড় রাজনৈতিক দলের কোনো রাজনৈতিক অধিকার রাখা হচ্ছে না। ইন্ডিয়ান মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ এটা অহরহ করছে। এটা করে তারা আমাদের সরকার এবং গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলছে।”
দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, তথ্য হচ্ছে সংবাদের কাঁচামাল। তথ্য মানেই কিন্তু সংবাদ নয়। এই তথ্য দিয়েই সংবাদের ভিত্তি গড়ে ওঠে। আমাদের অবশ্যই ভুল তথ্য সংশোধনের উপায় আছে, কিন্তু ইচ্ছাকরে তথ্য বিকৃত করার এই চর্চা থেকে আমাদের বের হতে হবে। এটা করতে হলে কতগুলো জায়গা আমাদের ঠিক করতে হবে। আমরা বলি ‘গণমাধ্যম’, কিন্তু দীর্ঘদিন আমরা গণমানুষের কথা বলিনি। এর মাধ্যমে আমরা একটা পক্ষকে প্রমোট করার চেষ্টা করেছি। আরেক পক্ষকে শেষ করে দিতে চেয়েছি। এটা অপতথ্যের একটি অংশ। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার শেষ হওয়ার পরও আমরা সেই চিন্তা-চেতনা থেকে বের হতে পারিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে বললেন, ভারতীয় মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
রাজনীতি
আদালতে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দায় স্বীকার করল রুবেল
অনলাইন ডেস্ক:
দুই দফা রিমান্ড শেষে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রুবেল আহমেদ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। হাদিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর, ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয় ২১ জানুয়ারি রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে। পরেরদিন ২২ জানুয়ারি আদালতে হাজির করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিকেলে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জানুয়ারি আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সবশেষ রোববার জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার আরেকটি তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “রুবেল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত, তার স্বীকারোক্তি তদন্তকে অনেক এগিয়ে দেবে।”
এর আগে ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, ২৯ জানুয়ারি হত্যার পরিকল্পনাকারী আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য করা ৩ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ তিনবার পেছানো হয়েছে।
দুই দফা রিমান্ড শেষে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রুবেল আহমেদ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আলোচিত খবর



























































