টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান. বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কবি আল মুজাহিদী আর নেই
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের সাহিত্যপ্রেমী মানুষের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সে সময় তাঁর কিডনি কার্যকারিতা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছিল।
টাঙ্গাইলের মাটি থেকে জাতীয় অঙ্গনে ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। তাঁর পুরো নাম হিশাম আল মুজাহিদী। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দেশের ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সম্পাদনায় সাহিত্যপাতা হয়ে উঠেছিল নবীন ও প্রবীণ লেখকদের অন্যতম আশ্রয়স্থল।
মুক্তিযোদ্ধা ও বহুমাত্রিক সাহিত্যস্রষ্টা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্য—বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তাঁর বিচরণ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, আলবাট্রাস এবং কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি। এছাড়া উপন্যাস, ছোটগল্প ও শিশুসাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং আরও বহু সম্মাননা।
শোকের ছায়া সাহিত্যাঙ্গনে
আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারালো। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অপূরণীয় শূন্যতা
টাঙ্গাইলের গর্ব, বাংলা সাহিত্যের এক নিবেদিত প্রাণ সাধক এবং সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নাম আল মুজাহিদীর প্রস্থান দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করলো। তাঁর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, চিন্তা ও আদর্শ বেঁচে থাকবে পাঠকের হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে।
বাংলা সাহিত্য হারালো এক মহীরুহকে, টাঙ্গাইল হারালো তার এক কৃতী সন্তানকে।
বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সে সময় তাঁর কিডনি কার্যকারিতা প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি মাইনর হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্য—বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তাঁর বিচরণ।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার এবং আরও বহু সম্মাননা।
আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারালো। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
টাঙ্গাইলের গর্ব, বাংলা সাহিত্যের এক নিবেদিত প্রাণ সাধক এবং সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নাম আল মুজাহিদীর প্রস্থান দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করলো। তাঁর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, চিন্তা ও আদর্শ বেঁচে থাকবে পাঠকের হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে।
জাতীয়
পুশইন, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবেই মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) ও টিওবি নির্মাণের মাধ্যমে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে তিনি সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিয়মিত ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
সরকারের এই উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতীয়
যানজট কমাতে রাজধানীর বাইরে সরানো হবে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে নগরীর অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনালের বাস ডিপো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে রাজধানীর বাইরে অথবা উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বাসের অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
সভায় নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যানজট কমানোর পাশাপাশি রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয়
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে রাখায় ভারতের কাছে ব্যাখ্যা চাইল বাংলাদেশ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখে। পরে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরের বিষয়টি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোট ভার্বালের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করে। এরপরও বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
আজ ১৫ জুন, ২০২৬ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একই দিনে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বৈঠকে ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন সরকারি প্রতিনিধিকে এভাবে আটকে রাখা দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ঘটনাটিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বনির্ধারিত সফর ও আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা বিরল এবং এটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ ১৮ জানায়, ইমিগ্রেশন নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণে জাহেদ উর রহমানকে সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল। যদিও পরে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সফর বাতিল করেন।
বর্তমানে বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে অনুসন্ধান ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
জাতীয়
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে আলোচনা স্থগিত, উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কথিত অবৈধ পুশইন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনের সময় সংকটের কারণে আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত পুশইন কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাব জমা দেন।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের মূলতবি শাখা থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, রোববার প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের কার্যসূচি অনুযায়ীও বিষয়টি তালিকাভুক্ত ছিল। তবে রোববার সকালে প্রকাশিত নতুন কার্যসূচি থেকে প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত" এটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে, এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো?" একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, প্রস্তাবটি আবার কবে আলোচনার জন্য সংসদের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নোটিশটি তার কাছেও রয়েছে এবং এটি কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, "বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।"
সংসদে এই আলোচনা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিষয়টি দলীয় নয়, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে দ্রুত সংসদীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য।
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কথিত অবৈধ পুশইন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশনের সময় সংকটের কারণে আলোচনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত পুশইন কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাব জমা দেন।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের মূলতবি শাখা থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, রোববার প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের কার্যসূচি অনুযায়ীও বিষয়টি তালিকাভুক্ত ছিল। তবে রোববার সকালে প্রকাশিত নতুন কার্যসূচি থেকে প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, "অনিবার্য কারণবশত" এটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, "জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে, এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, সেটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো?" একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, প্রস্তাবটি আবার কবে আলোচনার জন্য সংসদের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নোটিশটি তার কাছেও রয়েছে এবং এটি কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, "বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলছে, আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন অত্যন্ত মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা প্রত্যাশা করছি, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।"
সংসদে এই আলোচনা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিষয়টি দলীয় নয়, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে দ্রুত সংসদীয় আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য।
জাতীয়
অবশেষে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানো নিয়ে তোলপাড়
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এছাড়া তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালে তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব এবং বিদেশে থাকা কিছু সম্পদের ওপরও জব্দ ও অবরোধ আরোপ করা হয়। দুবাইয়ে তার পরিবারের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশও আদালত দিয়েছিল।
দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে একটি বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্য হলে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার জন্য সরকার কী ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিষয়টির পূর্ণ সত্যতা জাতির সামনে স্পষ্ট হবে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, দুদক কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলোচিত খবর
দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে, এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে: গভর্ণর মোস্তাকুর রহমান
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন-গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি। গভর্নর বলেন, “আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।”
‘শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি’-উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন। আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
রাজনীতি
বেনাপোলে এসেই ভারত-বাংলাদেশ এক এক হওয়ার কথা বললেন নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে আগমন করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে একটি বৃহৎ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।
তিনি বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতন্ত্রে অনেক ইস্যু থাকে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী, আমাদেরও (ভারতে) গণতন্ত্র শক্তিশালী। দুই দেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র মিলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হয়ে যায়। এজন্য দুই দেশের মিলেমিশে থাকাটা দরকার। এজন্য আমার যা দায়িত্ব আছে, আমি নিশ্চয়ই পালন করবো। কিন্তু আপনাদেরও সাপোর্ট থাকা দরকার। দুই দেশের মানুষ মিলে যে শক্তি হবে সেটাই আসল শক্তি। ওই শক্তিটা পুরো পৃথিবী যেন দেখে ঠিক আছে। ভারত আর বাংলাদেশে যা ট্যালেন্ট আছে, মিলেমিশে থাকলে পৃথিবী চালানো সম্ভব।
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে আগমন করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে একটি বৃহৎ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।
আলোচিত খবর
গত দেড় দশকের বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি—স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন. দেড় দশক ধরে দেয়া বাজেটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তিনি আরো বলেন, নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
আজ ১২ জুন, ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপচয়নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই আগামী দিনের প্রকল্প ও ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি মূল মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘প্রতিটি প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি (ব্যয়ের যথাযথ মূল্য), রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের প্রতিফল), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা-এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক, সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরছেন। পাশাপাশি বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিচ্ছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন. দেড় দশক ধরে দেয়া বাজেটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তিনি আরো বলেন, নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
জাতীয়
আজ থেকে দোকানপাট-বিপণিবিতান-শপিংমল খোলা রাত ৯টা পর্যন্ত, ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দেশজুড়ে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এতদিন সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও নতুন নির্দেশনায় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় মিলছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। সমিতির নেতারা জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন এই সময়সূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এরপরই তা সারাদেশে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত আসে।
এই সময়সূচি পরিবর্তনের আগে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঈদের পর আবার আগের নিয়মে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, আজ থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে।” তিনি এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এই সময় বাড়ানোর ফলে বিক্রিবাট্টা বাড়বে এবং ক্রেতারাও স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষদের জন্য সন্ধ্যার পর কেনাকাটার বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার সময় নির্ধারণে নতুন এই সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে।
দেশজুড়ে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এতদিন সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও নতুন নির্দেশনায় ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় মিলছে।
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তিস্তা ব্যারেজ ও সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা: উপদেষ্টা জাহেদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সরকার বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ রয়েছে নয়াদিল্লির। তার ভাষায়, “৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, এখন সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। তাই এখন যে পুশ ইন হচ্ছে সেটা ইচ্ছাকৃত হচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এই সমস্যা সহসাই সমাধান হয়ে যাবে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হবে নির্দলীয়। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার তাতে বাধা দেবে না। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নাম বা পদ-পদবি ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, “যে দলেরই হোক, ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে কারও ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না।”
ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদী নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজের আদলে তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে আসা পানি ধরে রেখে শুষ্ক সময়ে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ উদ্যোগ প্রকল্প আকারে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা এলাকায় ব্যারেজ বা রিজার্ভার নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হবে।
দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ধাপে ধাপে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বর্তমানে মাত্র আটটি উপজেলায় ১০১ শয্যার সুবিধা রয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলেও জানান তিনি। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতি ও অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সমন্বয়ের পরও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির দাম কম রয়েছে।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, বিএনপির শাসনামলে শেয়ারবাজারে বর্তমান ধরনের সংকট দেখা যায়নি, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হয়েছিল।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেওয়া এসব বক্তব্য আগামী দিনের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সরকার বিশ্বাস করে না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজে পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জাতীয়
১৯ দিনেই রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচার সম্পন্ন: সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড, অর্থদণ্ডও বহাল
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আজ রোববার (৭ জুন, ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। কারাগার থেকে কড়া প্রহরায় দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য রোববার (৭ জুন, ২০২৬) দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “ধর্ষণ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।” তিনি উল্লেখ করেন, সুরতহাল প্রতিবেদন ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান রায়ের পর বলেন, “সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।”
মামলার তথ্য অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সেখানে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয় এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমও ছিল দ্রুত। গত ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
আলোচিত এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে শিশু নির্যাতন ও নারী সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আবারও সামনে এলো। একই সঙ্গে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবেও আদালতের এই রায়কে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আলোচিত খবর
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ: আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক
আজ ৭ জুন, ২০২৬ রোববার রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে ঘিরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে আনা হয়েছে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। এদিকে, রামিসার পরিবার দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে আদালত এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৪৫ থেকে ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকেও হাজির করা হয়। বর্তমানে দুজনকেই আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত রায়ের জন্য রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেন। এর আগে ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, “আমাকে মাফ করে দেন। আর আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।” অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত আলামতের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ যুক্তি দেন, ঘটনার সময় সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। তিনি সোহেলের জন্য যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার ক্ষেত্রে লাশ গুমের অভিযোগে দণ্ডের আবেদন করেন।
রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা রায়ের আগে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি আমার রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি এবং সেই শাস্তি দ্রুত কার্যকর হোক।” তিনি আরও বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু রাষ্ট্র নয়, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না।”
মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের ফ্ল্যাটে তার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা স্বপ্না আক্তার তখন তার স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছানোয় মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ ৭ জুন, ২০২৬ রোববার রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
আলোচিত খবর
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সুখবর: প্রত্যাহার হলো মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বিদ্যুৎ খাতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের ওপর থাকা অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণায় আর্থিক স্বস্তি ফেরার দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আজ বুধবার এ তথ্য জানায়।
পোস্টে বলা হয়, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন- জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং সিঙ্গেল ফেজ সংযোগের ক্ষেত্রে ৪০ টাকা মিটার ভাড়া দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলো ৫ শতাংশ ভ্যাট। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও নির্দিষ্ট মাসিক খরচ বহন করতে হতো গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ খাতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের ওপর থাকা অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণায় আর্থিক স্বস্তি ফেরার দাবি করা হচ্ছে।
জাতীয়
ঈদের পথে মৃত্যুর মিছিল: ১৩ দিনে প্রাণ ঝরেছে ২৮১ জনের, আহত ৮৩৭
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ঈদুল আজহার আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনাও মিলিয়ে মোট হতাহত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১২৪ জনের।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন চালক ও পরিবহনকর্মী ছিলেন। একই সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ জনের। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ফরিদপুরে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন। নিহত ২৮১ জনের মধ্যে ১২৪ জন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী। এছাড়া থ্রি হুইলারের ৪৮ জন, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানের ৩২ জন, বাসের ২১ জন এবং প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এই কারণে ঘটেছে। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিল।
ঈদযাত্রা পর্যালোচনায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ ঘরে ফিরেছেন এবং সারা দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। তুলনামূলকভাবে যাত্রাভোগান্তি কম থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এবং মহাসড়কে থেমে থাকা বিকল যানবাহনের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এখনও বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা জরুরি। সংস্থাটির মতে, রেলপথ সম্প্রসারণ, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার ছাড়া দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা কঠিন হবে।
ঈদুল আজহার আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনাও মিলিয়ে মোট হতাহত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয়
ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী’: সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি। বুধবার দুপুরে যশোরের বেনাপোলের উত্তেজনাপূর্ণ সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। কোনো সভ্য দেশ এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা মেনে নিতে পারে না। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার দুপুরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্তে যান। তার আগমনের খবরে স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগান দিতে থাকে।
পরিদর্শনকালে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি গিয়ে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। এখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই, ভালো স্কুল নেই, কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না।”
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বরং ভারতীয় চোরাকারবারিরাই এসব অপকর্ম করে এবং পরে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর দোষ চাপায়। এরপর বিএসএফ তাদের গুলি করে মারে। এটা পরিকল্পিত হত্যা।”
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের মনোবল চাঙা রাখতে হবে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না।”
বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মতে, সীমান্তরক্ষীদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, নাইট ভিশন সরঞ্জাম, ড্রোন ও দ্রুতগামী পেট্রোলিং কার সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন কাঠামো বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। “যারা জীবন বাজি রেখে সীমান্ত পাহারা দেয়, তাদের পরিবার যেন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে”, বলেন নাসীরুদ্দীন।
বিগত সময়ে সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি অপরাধ করেও থাকে, তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। রাষ্ট্র কারও জীবন নেওয়ার অধিকার রাখে না বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়, চোরাচালান ঠেকাতে গুলি চালানো হয়। কিন্তু নিহতদের মধ্যে কৃষক, রাখাল, এমনকি শিশুও আছে। এর কোনো জবাব ভারত দিতে পারে না।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, “৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত সমস্যাকে কেবল বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার ৩১ মে দিনগত রাত থেকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে জড়ো করে বিএসএফ। পরে তাদের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। টানা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ জড়ো করা লোকজনকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর থেকে বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে কেউ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পার না হয়।
সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, “আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। রাতে ঘুমাতে পারি না। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। বিএসএফ যখন তখন ধরে নিয়ে যায়, মারে।”
আরেক বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, “আমার স্বামী গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে তিন বছর আগে। আজও বিচার পাইনি। নেতারা আসলে একটু সাহস পাই।”
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটা জাতীয় ইস্যু। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমরা চাই সরকার দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে এসে কঠোরভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করুক।”
পরিদর্শনকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, যশোর জেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি। বুধবার দুপুরে যশোরের বেনাপোলের উত্তেজনাপূর্ণ সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, যশোর জেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
একটি অধ্যায়ের অবসান: চিরনিদ্রায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ, মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশে সমাহিত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দাফনের মধ্য দিয়ে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন তাঁর জন্মভূমিতে।
সোমবার (১ জুন, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত জটিলতা নিয়ে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। প্রায় আট মাস চিকিৎসার পর তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ ভোলায় নেওয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় জানাজা। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন।
জানাজার আগে বক্তব্য দেন ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মজিরুদ্দিন।
পরে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি কোড়ালিয়ায়। বিকেলে বাড়ি সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শেষ জানাজা। এরপর বেলা সোয়া ৪টার দিকে কিংবা বিকেলের শেষ ভাগে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাজুড়ে ছিল শোকের আবহ। গ্রামের বাড়িতে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানান।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অঙ্গনে উঠে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ স্থান করে নেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘মুজিব বাহিনী’র চার আঞ্চলিক প্রধানের একজন ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়ন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পরে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই রাজনীতিককে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে স্মরণ করছেন তাঁর সহকর্মী ও অনুসারীরা। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দাফনের মধ্য দিয়ে।
জাতীয়
আগামী অর্থবছরে মোটর সাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাতে দিতে হবে কর
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মোটর সাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য গুনতে হবে অগ্রিম কর। বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেয়া হয়। এবার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও ওই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানা যায়। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি। প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে গড়ে চার হাজার টাকা করে কর আদায় করা হলে বছরে সরকারের প্রায় এক হাজার ৫২০ কোটি টাকা আয় হবে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বর্তমানে এককালীন নিবন্ধন ফি এবং দুই বছর পর পর রোড ট্যাঙ্ দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। আর প্রতি দুই বছর পর পর রোড ট্যাঙ্ দিতে হয় এক হাজার ১৫০ টাকা। তবে ১২৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং প্রতি দুই বছর পর পর রোড ট্যাঙ্ দিতে হয় দুই হাজার ৩০০ টাকা।
যদিও ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, রাস্তায় চলাচলরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার ক্ষেত্রে বছরে পাঁচ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার টাকা কর প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বর্তমানে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় অগুনতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।
ধারণা করা হচ্ছে দেশে অন্তত ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। তার মধ্যে রাজধানীতেই চলছে ১২ থেকে ১৫ লাখ। ওসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। তাতে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ও ট্যাঙ্ টোকেন নেয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে এনবিআর নির্ধারিত হারে শুল্ক ও কর আদায়ের কথাও বলা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, প্রতিবছর যানবাহনের মালিকদের ফিটনেস নবায়নের সময় নির্ধারিত হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার ৫০০ টাকা। সিসিভেদে প্রাইভেট কার ও জিপে ওই কর ২৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। আর দোতলা বাস, এসি মিনিবাস ও কোস্টারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৫২ আসনের বেশি বাসে ২৫ হাজার টাকা এবং এর কম আসনের বাসে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা কর।
তাছাড়া নির্ধারিত আছে এসি বাসে ৫০ হাজার টাকা এবং নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর। পাশাপাশি পাঁচ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ট্রাক, লরি ও ট্যাংকলরিতে ৩০ হাজার টাকা, দেড় থেকে পাঁচ টন ওজনের যানবাহনে ১৫ হাজার টাকা এবং দেড় টনের কম ওজনের যানবাহনে সাড়ে সাত হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। আর পিকআপ ভ্যান, হিউম্যান হলার ও থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রেও সাড়ে সাত হাজার টাকা কর দিতে হয়। বিআরটিএ ফিটনেস নবায়নের সময় ওসব কর আদায় করা হয়।
এদিকে মোটরসাইকেল খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হওয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হতে পারে নতুন বিনিয়োগও।
মোটর সাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য গুনতে হবে অগ্রিম কর। বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেয়া হয়। এবার প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও ওই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
জাতীয়
পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় উপদেষ্টা। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন ও সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। আর রাজনীতিতে যোগদানের পর একের পর কালো মেঘের ছায়া এসে পড়ে রাজনৈতিক জীবনে। সেসময় আর নির্বাচন না হয়ে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হলে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনি আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে বিএনপির জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির নানান চড়াই-উতড়াইয়ের পর অবশেষে দেখা পান সোনার হরিণের। প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারেই পূর্ণমন্ত্রী হন। দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙ্গামাটির বিএনপির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে গেছেন দীপেন দেওয়ান। অবরোধ, মিছিল-মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান হন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় উপদেষ্টা। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আলোচিত খবর
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে লক্ষাধিক লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতি। ওসব বাসের কারণে মুখথুবড়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। কারণ সড়কে চলাচলরত ওসব লক্কড়ঝক্কড় বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায়ই সড়ক, ফ্লাইওভার ও সেতুর ওপর বিকল হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। তাতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা।
তাছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে মানুষ। সরকারের নানা উদ্যোগেও সড়কে কমানো যাচ্ছে না ২০ বছরের বেশি পুরোনো এবং ক্রটিপূর্ণ বা ফিটনেসবিহীন বাস। আইন অনুযায়ী বাস-মিনিবাসের ২০ বছরের ইকোনমিক লাইফ ধরা হয়। কিন্তু ওই সময়ের পরও দেশের সড়ক দাবিয়ে বেড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই পুলিশ অভিযানে নামতে যাচ্ছে। বিআরটিএ এবং পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বাস ও মিনিবাসের আয়ষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর ধরা হয়। বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যে ৩৯ হাজার ১৬৯টি বাস ও মিনিবাস এবং ৪১ হাজার ১৪০টি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকারের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের চাপে সড়ক পুরোনো যানবাহনের দখলেই রয়েছে।
সূত্র জানায়, সড়ক-মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়ঝক্কড় মোটরযান অবাধে চলাচলে যাত্রী এবং পথচারী নানাবিধ ঝুঁকিতে পড়ছে। যখন তখন স্টার্ট বন্ধ হয়ে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে কিছু বাস এতোটাই আনফিট যে, যাত্রী বহনে একেবারেই অনুপযোগী। কিন্তু গণপরিবহনের স্বল্পতার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ওসব বাসে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেও। এসব বাসের অধিকাংশই রং চটা, জানালার কাচ ভাঙা, সিট ভাঙাচোরা এবং নোংরা। এমন অবস্থায় খুব শিগগিরই পুলিশ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনকে জরিমানা, ডাম্পিংয়ে পাঠানোসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে ওই অভিযান জোরদার করা হবে।
এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস আহাম্মেদ খোকন জানিয়েছেন, ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতিও উদ্বিগ্ন। লক্কড়ঝক্কড় বাসের বিষয় সমিতি জিরো টলারেন্সে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনী অভিযানকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি :বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাসের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমানে নতুন বাসের কোনো বিনিয়োগ নেই। মূলত সড়কে চাঁদাবাজি, নিবন্ধন, রোড পারমিটসহ নানা জটিলতায় পরিবহন সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আসছে না। সড়কে নামছে না নতুন বাস। ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে লক্কড়ঝক্কড় বাসের সংখ্যা। পরিস্থিতি উন্নয়নে পরিবহন সেক্টরে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে মুক্তি মিলবে না লক্কড়ঝক্কড় বাসের জঞ্জাল থেকে।
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে লক্ষাধিক লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতি। ওসব বাসের কারণে মুখথুবড়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। কারণ সড়কে চলাচলরত ওসব লক্কড়ঝক্কড় বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায়ই সড়ক, ফ্লাইওভার ও সেতুর ওপর বিকল হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। তাতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা।
























































