শুক্রবার ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

Logo
Add Image
Pic

নিউজ ডেস্ক:

ঈদ উৎসবের আনন্দে ভরপুর থাকার কথা, অথচ ঈদের সময় সড়ক যেন বারবারই বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সাত দিনের (১৭-২৩ মার্চ) ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১৭ জন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। 

 

সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের এই বড় পার্থক্য তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি তথ্যে অনেক দুর্ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও বিআরটিএর হিসাবে নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো ঘটনাই উল্লেখ করা হয়নি।

 

ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্তই ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও ছিল একই চিত্র। 

 

অধিকাংশ আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায়।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়- ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। পরদিন ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন এবং আহত হন ৬২ জন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ জন, আহত ৭ জন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তা প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।

 

অন্যদিকে, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
 

Pic

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

 

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান একাধিক শর্ত সংযুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান। একইসঙ্গে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।

 

এছাড়া ইরান শুধু নিজস্ব ফ্রন্ট নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে সংঘাত নিরসন সম্ভব হয়।

 

সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণকে ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও তেহরানের শর্তগুলোর অন্যতম। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছিল, বর্তমান প্রস্তাবের জবাবে সেগুলোকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো সন্দিহান তেহরান। ইরানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বানকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। তাদের মতে, এটি এক ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য সময় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।

 

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের এই আনুষ্ঠানিক জবাব নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা দ্রুত প্রশমিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

 

আজ ২৩ মার্চ, ২০২৬ সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। “এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।

 

ঈদযাত্রার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকের জন্যই ম্লান হয়ে গেছে।

 

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও নানা অনিয়মের পরও জনগণ দেশের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না ফেরে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পাওয়া সরকারি বাসভবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন না। বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে, বিশেষ করে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা হবে।

 

চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সরকার যদি এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এলাকায় প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

নিউজ ডেস্ক:

ঈদ উৎসবের আনন্দে ভরপুর থাকার কথা, অথচ ঈদের সময় সড়ক যেন বারবারই বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সাত দিনের (১৭-২৩ মার্চ) ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১৭ জন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। 

 

সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের এই বড় পার্থক্য তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি তথ্যে অনেক দুর্ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও বিআরটিএর হিসাবে নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো ঘটনাই উল্লেখ করা হয়নি।

 

ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্তই ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও ছিল একই চিত্র। 

 

অধিকাংশ আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায়।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়- ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। পরদিন ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন এবং আহত হন ৬২ জন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ জন, আহত ৭ জন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তা প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।

 

অন্যদিকে, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
 

Pic

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

 

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান একাধিক শর্ত সংযুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান। একইসঙ্গে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।

 

এছাড়া ইরান শুধু নিজস্ব ফ্রন্ট নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে সংঘাত নিরসন সম্ভব হয়।

 

সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণকে ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও তেহরানের শর্তগুলোর অন্যতম। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছিল, বর্তমান প্রস্তাবের জবাবে সেগুলোকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো সন্দিহান তেহরান। ইরানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বানকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। তাদের মতে, এটি এক ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য সময় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।

 

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের এই আনুষ্ঠানিক জবাব নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা দ্রুত প্রশমিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
 

Pic

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

সম্প্রতি ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন, প্রণালী এখনো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে তা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

তিনি জানান, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত মেনে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং ইসরাইলের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও রয়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান প্রণালীর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

 

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রণালী সচল রাখতে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে—হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।

 

এদিকে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও জাপান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তার আগ্রহ দেখালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এই বার্তা দেন।

 

পুতিন তার বার্তায় বলেন, কঠিন এই সময়ে রাশিয়া ইরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার হিসেবেই পাশে থাকবে।

 

তবে এই কূটনৈতিক সমর্থনের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ইরানি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংকটে প্রত্যাশিত সহায়তা মস্কোর পক্ষ থেকে মিলছে না।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল-যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানকে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। যদিও ক্রেমলিন এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।

 

রাশিয়ার মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ায় কিছুটা সুবিধাও পাচ্ছে মস্কো।

 

একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও দেশটি চায় না তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক। মস্কোর আশঙ্কা, এমনটি হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
 

Add

Site Counter

Online

33

Total

45k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও  বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। 

 

আজ ২৬ মার্চ, ২০২৬ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।  জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং জেলা পরিষদের পক্ষে প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। 

 

অন্যদিকে, শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সকাল ৮টায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, নিরাপদ সড়ক চাই ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি , শ্রমিক, নাট্য, নৃত্য, ব্যাংক-বীমা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে। 

 

এদিন সকাল ৯টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিবসের আলোচনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া প্রমুখ। পরে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
 


Pic

সাহাফ আল তাইফ, স্পোর্টস রিপোর্টার:
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা Lionel Messi এবং Cristiano Ronaldo আবারও ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাদের দুজনেরই লক্ষ্য এখন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক—ক্যারিয়ারে ৯০০ গোল।

 

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতোমধ্যেই ৮৫০+ অফিসিয়াল গোল করে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে অবস্থান করছেন। বর্তমানে Al-Nassr-এর হয়ে খেলা এই পর্তুগিজ তারকা এখনো দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

 

অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে ৮০০+ গোল পূর্ণ করেছেন। বর্তমানে Inter Miami CF-এর হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা গোল করার পাশাপাশি প্লেমেকার হিসেবেও সমানভাবে অবদান রাখছেন।

 

যদিও এখনো কেউই ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, তবে রোনালদো সেই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। মেসির ক্ষেত্রেও এটি সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ খেলার ধারাবাহিকতার ওপর।

 

একসময় যে ৯০০ গোল ছিল প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্য, এখন সেটিই বাস্তবের খুব কাছাকাছি—যা সম্ভব হয়েছে এই দুই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং অসাধারণ দক্ষতার কারণে।
 

সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক:
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

 

আজ ২৩ মার্চ, ২০২৬ সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। “এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।

 

ঈদযাত্রার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকের জন্যই ম্লান হয়ে গেছে।

 

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও নানা অনিয়মের পরও জনগণ দেশের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না ফেরে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পাওয়া সরকারি বাসভবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন না। বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে, বিশেষ করে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা হবে।

 

চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সরকার যদি এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এলাকায় প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
 

বিএনপি’র দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

অনলাইন ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
 
আজ সোমবার ২৩ মার্চ, ২০২৬ বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব (রাজনৈতিক) আতিকুর রহমান।
 
তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম সচল রাখতে সহসভাপতি এসএম তাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
আতিকুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
তিনি আরও জানান, ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি এ পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

আগামিকালের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল: জোটের মুখপাত্র

নিউজ ডেস্ক:
১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “আগামীকালের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে ১১ দল রাজপথে নামবে।”

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’

 

ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

 

তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

 

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’

 

ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানান, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭