রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট।

 

আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮০ জন, বান্দরবানের ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন অবস্থান করছেন।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৪৮ হাজার ৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানে ১৫ হাজার ৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৭৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 

Pic

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকবর হায়দার কিরন....
৪ জুলাই ২০২৬—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্ণ করছে এই দেশ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাই আমার জন্মদিন। তাই প্রতি বছর এই দুটি দিন যেন একসঙ্গে ইতিহাস ও জীবনের উৎসবে পরিণত হয়।

 

কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রখ্যাত এমেরিটাস অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ ড. মুস্তফা সরওয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপচারিতায় আমরা ফিরে গিয়েছিলাম অষ্টাদশ শতাব্দীর সেই উত্তাল সময়ে—যে সময়ে একদিকে বাংলার পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা হয়, আর অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই নতুন রাষ্ট্র United States-এর জন্ম দেয়।

 

এই দুটি ঘটনা ভৌগোলিকভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটলেও বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাংলার সম্পদ, বাণিজ্য এবং British East India Company-এর উত্থান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। সেই একই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায় রচনা করে।

 

এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে ড. মুস্তফা সরওয়ারের বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া। তাঁর সঙ্গে আমার এই আলোচনা শিগগিরই “কফি উইথ কিরন” অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ পর্ব হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য এটি হবে এক ব্যতিক্রমী ও মূল্যবান সংলাপ।

 

উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে Bangladeshi-American Media Foundation-এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের স্মারকগ্রন্থ, ব্যাকড্রপ, নকশা ও উপস্থাপনায় সর্বত্রই ছিল “250”—একটি সংখ্যা, যা কেবল একটি বার্ষিকী নয়, বরং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অভিবাসীদের অবদান এবং বহুসাংস্কৃতিক আমেরিকার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক।

 

আজ, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক ও অভিবাসী হিসেবে আমি অনুভব করি—বাংলার ইতিহাস এবং আমেরিকার ইতিহাস পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বরং তারা বিশ্ব ইতিহাসের একই ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় উপনিবেশবাদের মূল্য, অন্যটি স্বাধীনতার শক্তি ও সম্ভাবনার কথা বলে।

 

যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০ বছরের পথচলা উদযাপন করছে, তখন আমাদেরও উচিত ইতিহাসকে নতুন করে পড়া, নতুনভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলে ধরা। ইতিহাসের এই সংলাপই হয়তো আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
 

Pic

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

 

সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সহস্র অজুত লক্ষ জনতার ঢল! খুলনা মহানগরী সর্বত্রো যেন ১১ দলীয় জোটের দখলে। খুলনা বিভাগের উত্তর অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মাগুরা, এই জেলার সর্বশেষ উপজেলা হলো শ্রীপুর উপজেলা। এই উপজেলার বরিশাট গ্রাম থেকে সমাবেশে এসেছিলো ৫৫: বছর বয়সী প্যারালাইসে অসুস্থ্য মোঃ শহীদুল ইসলাম। মোঃ শহীদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শাহাদত বরণ কারী ইদ্রিস আলী মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার পুর্বেই তার পিতা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হন! তিনি বলেন এই প্রচন্ড গরমে এসেছিলাম খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে, এসে দেখি সমাবেশ তো না এ যেন জনসমুদ্র! মাগুরা শহর থেকে এসেছিলেন ইন্জিনিয়ার মুজাহিদ, উনি বলেন আমি বহুদিন যাবৎ খুলনায় আসা-যাওয়া করি, অনেক মিটিং সিটিং দেখেছি,কিন্ত এত লোক আর দেখিনি।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সাবেক এম পি মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক বাংলাদেশের রুপকার আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান এম পি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এল ডি পি'র চেয়ারম্যান বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ, এন সি পি'র মুখ্য সংগঠক মোঃ নাসিরুউদ্দিন পাটয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নগদ অর্থের সংকটে পড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। চলতি হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়া এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত বা সিআরআর পূরণে ব্যর্থতার কারণে এ জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে তারল্য পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া নির্ধারিত নগদ সংরক্ষণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আর্থিক সূচক নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের হার বেড়েছে, যা তারল্য ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।

 

চলতি হিসাবে দ্রুত কমছে অর্থ, চাপ সিআরআর ঘাটতিতে
ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা চলতি হিসাব বা প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এই বড় পতনের কারণে বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক। তবে সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আমরা তারল্য সহায়তা চেয়েছি।”

 

সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হয়েছে। ঈদ পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসেই এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

অনিয়মের অতীত ও নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা
ব্যাংকটির সংকট নতুন নয়। ২০২২ সাল থেকেই এস আলম গ্রুপের সময়কার নামে বেনামে ঋণ বিতরণ এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটি তারল্য চাপে পড়ে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সুশাসন ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ব্যাংকটিতে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনে। এরপর ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

 

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি অংশ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে, যা টানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

 

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সহায়তার আবেদন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ব্যাংকে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

এদিকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। 
 

আলোচিত খবর

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট।

 

আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮০ জন, বান্দরবানের ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন অবস্থান করছেন।

 

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৪৮ হাজার ৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানে ১৫ হাজার ৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৭৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 

Pic

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকবর হায়দার কিরন....
৪ জুলাই ২০২৬—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্ণ করছে এই দেশ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাই আমার জন্মদিন। তাই প্রতি বছর এই দুটি দিন যেন একসঙ্গে ইতিহাস ও জীবনের উৎসবে পরিণত হয়।

 

কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রখ্যাত এমেরিটাস অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ ড. মুস্তফা সরওয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপচারিতায় আমরা ফিরে গিয়েছিলাম অষ্টাদশ শতাব্দীর সেই উত্তাল সময়ে—যে সময়ে একদিকে বাংলার পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা হয়, আর অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই নতুন রাষ্ট্র United States-এর জন্ম দেয়।

 

এই দুটি ঘটনা ভৌগোলিকভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটলেও বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাংলার সম্পদ, বাণিজ্য এবং British East India Company-এর উত্থান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। সেই একই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায় রচনা করে।

 

এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে ড. মুস্তফা সরওয়ারের বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া। তাঁর সঙ্গে আমার এই আলোচনা শিগগিরই “কফি উইথ কিরন” অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ পর্ব হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য এটি হবে এক ব্যতিক্রমী ও মূল্যবান সংলাপ।

 

উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে Bangladeshi-American Media Foundation-এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের স্মারকগ্রন্থ, ব্যাকড্রপ, নকশা ও উপস্থাপনায় সর্বত্রই ছিল “250”—একটি সংখ্যা, যা কেবল একটি বার্ষিকী নয়, বরং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অভিবাসীদের অবদান এবং বহুসাংস্কৃতিক আমেরিকার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক।

 

আজ, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক ও অভিবাসী হিসেবে আমি অনুভব করি—বাংলার ইতিহাস এবং আমেরিকার ইতিহাস পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বরং তারা বিশ্ব ইতিহাসের একই ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় উপনিবেশবাদের মূল্য, অন্যটি স্বাধীনতার শক্তি ও সম্ভাবনার কথা বলে।

 

যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০ বছরের পথচলা উদযাপন করছে, তখন আমাদেরও উচিত ইতিহাসকে নতুন করে পড়া, নতুনভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলে ধরা। ইতিহাসের এই সংলাপই হয়তো আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, লেবানন সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং একটি সম্ভাব্য স্থায়ী সমঝোতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

আজ রোববার (২১ জুন, ২০২৬) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে শুরু হওয়া এ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং শীর্ষ নিরাপত্তা, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা। রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।


কয়েকদিন আগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর পর এ আলোচনা শুরু হলো। ওই সমঝোতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির রূপরেখা তৈরির কথা রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।


তবে আলোচনার শুরুতেই নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালি ইস্যু। রয়টার্স বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জলপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।


আলোচনায় যোগ দেওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আমরা অগ্রগতি দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নই এখন প্রধান লক্ষ্য।


এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে একটি “সমগ্র ও স্থায়ী চুক্তি” অর্জনের আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে কাজ করার জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি ফলোআপ গ্রুপও কাজ করবে।

 

আলোচনার আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাসিস বলেন, “চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও সুইজারল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমেইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ঘোষিত যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এমনকি ইসরায়েলে পরিচালিত এক জরিপে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে।


কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনার ফলাফল হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আল জাজিরা
 

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশন (বিএএমএফ) আয়োজিত “BAMF Awards 2026” উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

 

নবান্ন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মূলধারার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছিল দৃষ্টিনন্দন ব্যাকড্রপ, আকর্ষণীয় ক্রেস্ট, সুভেনির ও সুপরিকল্পিত সাজসজ্জা।

পুরো সৃজনশীল আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক ও ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক নিহার সিদ্দিকী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন পরিচালক আনিসুল কবির জাসির এবং সাংবাদিক শাহ্ জে চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহকে সামনে রেখে ব্যানার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনে শিল্পী আবদুল্লাহ নোমানের শৈল্পিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

 

সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও অতিথিরা আগেভাগেই উপস্থিত হতে শুরু করেন। আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে কুশল বিনিময় ও হালকা আপ্যায়নের মাধ্যমে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাত সোয়া আটটার দিকে মঞ্চে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হায়দার কিরন এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন। এরপর আকবর হায়দার কিরনের সঞ্চালনায় শুরু হয় “বিএএমএফ এওয়ার্ডস ২০২৬”-এর সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অফ আমেরিকার (VOA) সাবেক প্রধান কিংবদন্তি রোকেয়া হায়দার। 

 

এ ছাড়া ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মনজুর আহমদ, শিক্ষাবিদ ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী মন্টু, ক্রীড়াবিদ ও লেখক সাঈদুর রব, মূলধারার বিশিষ্টজন মীর বাসার, প্রকাশনা উদ্যোক্তা মনিরুল হক এবং সাংবাদিক-লেখক মনিজা রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পী আলভান চৌধুরী “ও আমার দেশের মাটি” ও একটি ইংরেজি গান পরিবেশন করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন।

 

এবারের অনুষ্ঠানে লাইফ অ্যাচিভমেন্ট ও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় বেতার ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী, সরকার কবীর উদ্দিন, মাসুমা খাতুন এবং রোকেয়া হায়দারকে। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও মূলধারায় অবদানের জন্য সম্মাননা লাভ করেন মনজুর আহমদ, কাজী মন্টু, ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সাঈদুর রব, এম এম শাহীন, শাহ নেওয়াজ, মীর বাসার, হেলালুল করিম, মীর শিবলী, মনিজা রহমান, শিব্বীর আহমেদ, সাকিল মিয়া এবং সাহিত্য একাডেমি। 

 

সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী সংগঠনের সভাপতি সাকিল মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর রব ও তরুণ ব্যবসায়ী দুলাল বেহেদু। বিএএমএফ-এর অন্যতম উপদেষ্টা কাজী মন্টু সংগঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

 

প্রধান অতিথি রোকেয়া হায়দার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশনের আদর্শ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে শেকড়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 

Add

Site Counter

Online

294

Total

55k

Pic

মোঃ নুর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট" এই  স্লোগান গানকে সামনে রেখে" তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) উপজেলা মিলনায়তনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।

 

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. এখলাছ মিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলম, গোপালপুর প্রেসক্লাবের সম্পাদক অটল শরিয়ত উল্লাহ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাদিরা রেজাউল করিমসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

বক্তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

 

এ সময় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
 


Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে ‘অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ লীগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) বিকালে ওই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।

 

উদ্বোধনকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক (পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনসহ ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, খেলোয়ার, দলীয় নেতাকর্মী ও ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন।  

 

টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে হোম অ্যাওয়ে পদ্ধতির প্রথম লেগে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় টাঙ্গাইল সদর বনাম বাসাইল উপজেলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া একই দিন প্রায় একই সময়ে মধুপুর রাণী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ মাঠে মধুপুর উপজেলা বনাম ঘাটাইল উপজেলা, গোপালপুর সুতী ভিএম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধনবাড়ী বনাম গোপালপুর উপজেলা, ভূঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে কালিহাতী বনাম ভূঞাপুর উপজেলা, নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে দেলদুয়ার বনাম নাগরপুর উপজেলা এবং সখীপুর উপজেলা পরিষদ খেলার মাঠে মির্জাপুর বনাম সখীপুর উপজেলা দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। 

 

একই পদ্ধতির দ্বিতীয় লেগে সোমবার(১৩ জুলাই) ঘাটাইল জিবিজি কলেজ মাঠে ঘাটাইল বনাম মধুপুর উপজেলা, ধনবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে গোপালপুর বনাম ধনবাড়ী উপজেলা, কালিহাতী আরএস সরকারি পাইলট মডেল কলেজ মাঠে ভূঞাপুর বনাম কালিহাতী উপজেলা, বাসাইল উপজেলা মাঠে টাঙ্গাইল সদর বনাম বাসাইল উপজেলা, দেলদুয়ার উপজেলা স্টেডিয়ামে নাগরপুর বনাম দেলদুয়ার উপজেলা এবং মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামে সখীপুর বনাম মির্জাপুর উপজেলা মুখোমুখি হবে।  টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই সুপার সিক্স পর্ব, একই মাঠে ২৮ ও ২৯ জুলাই সেমিফাইনাল এবং ১ আগস্ট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে অংশগ্রহণ করছে ১২টি উপজেলার ফুটবল দল। যদিও টুর্নামেন্টের মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ৫ জন করে বিদেশী ফুটবলার খেলার সুযোগ রাখা হয়েছে।  

 

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ মানেই এক সময় বাংলাদেশের বিখ্যাত মোহামেডান-আবাহনীসহ নামীদামী ক্লাবের অংশগ্রহণ ছিল। তখন ক্রীড়ামোদী দর্শকে ভরপুর থাকতো টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম- এ টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ক্রীড়াঙ্গণে ঐতিহ্য হয়ে ওঠেছিল। ১৯৮০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক  মো. রেজাউল ইসলাম প্রথম টাঙ্গাইলে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করে ক্রীড়াঙ্গনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। শেষ খেলায় টাঙ্গাইল ইয়ুথ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন এবং ঢাকার বিজেএমসি রানার্সআপ হয়।

 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ, রূপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

 

সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সহস্র অজুত লক্ষ জনতার ঢল! খুলনা মহানগরী সর্বত্রো যেন ১১ দলীয় জোটের দখলে। খুলনা বিভাগের উত্তর অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মাগুরা, এই জেলার সর্বশেষ উপজেলা হলো শ্রীপুর উপজেলা। এই উপজেলার বরিশাট গ্রাম থেকে সমাবেশে এসেছিলো ৫৫: বছর বয়সী প্যারালাইসে অসুস্থ্য মোঃ শহীদুল ইসলাম। মোঃ শহীদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শাহাদত বরণ কারী ইদ্রিস আলী মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার পুর্বেই তার পিতা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হন! তিনি বলেন এই প্রচন্ড গরমে এসেছিলাম খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে, এসে দেখি সমাবেশ তো না এ যেন জনসমুদ্র! মাগুরা শহর থেকে এসেছিলেন ইন্জিনিয়ার মুজাহিদ, উনি বলেন আমি বহুদিন যাবৎ খুলনায় আসা-যাওয়া করি, অনেক মিটিং সিটিং দেখেছি,কিন্ত এত লোক আর দেখিনি।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সাবেক এম পি মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক বাংলাদেশের রুপকার আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান এম পি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এল ডি পি'র চেয়ারম্যান বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ, এন সি পি'র মুখ্য সংগঠক মোঃ নাসিরুউদ্দিন পাটয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
 

দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে, এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে: গভর্ণর মোস্তাকুর রহমান

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”

 

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন-গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি। গভর্নর বলেন, “আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।”

 

‘শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ সময় গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন। আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 

ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী’: সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি। বুধবার দুপুরে যশোরের বেনাপোলের উত্তেজনাপূর্ণ সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। কোনো সভ্য দেশ এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা মেনে নিতে পারে না। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

 

বুধবার দুপুরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্তে যান। তার আগমনের খবরে স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগান দিতে থাকে।  

 

পরিদর্শনকালে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি গিয়ে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।   

 

সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। এখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই, ভালো স্কুল নেই, কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না।”  

 

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বরং ভারতীয় চোরাকারবারিরাই এসব অপকর্ম করে এবং পরে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর দোষ চাপায়। এরপর বিএসএফ তাদের গুলি করে মারে। এটা পরিকল্পিত হত্যা।”  

 

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের মনোবল চাঙা রাখতে হবে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না।”  

 

বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মতে, সীমান্তরক্ষীদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, নাইট ভিশন সরঞ্জাম, ড্রোন ও দ্রুতগামী পেট্রোলিং কার সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন কাঠামো বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। “যারা জীবন বাজি রেখে সীমান্ত পাহারা দেয়, তাদের পরিবার যেন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে”, বলেন নাসীরুদ্দীন।    

 

বিগত সময়ে সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি অপরাধ করেও থাকে, তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। রাষ্ট্র কারও জীবন নেওয়ার অধিকার রাখে না বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া।”  

 

তিনি আরও বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়, চোরাচালান ঠেকাতে গুলি চালানো হয়। কিন্তু নিহতদের মধ্যে কৃষক, রাখাল, এমনকি শিশুও আছে। এর কোনো জবাব ভারত দিতে পারে না।” 

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, “৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।”  

 

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত সমস্যাকে কেবল বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।  

 

উল্লেখ্য, গত রোববার ৩১ মে দিনগত রাত থেকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে জড়ো করে বিএসএফ। পরে তাদের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। টানা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ জড়ো করা লোকজনকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নেয়।  

 

এ ঘটনার পর থেকে বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে কেউ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পার না হয়।  

 

সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, “আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। রাতে ঘুমাতে পারি না। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। বিএসএফ যখন তখন ধরে নিয়ে যায়, মারে।”  

 

আরেক বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, “আমার স্বামী গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে তিন বছর আগে। আজও বিচার পাইনি। নেতারা আসলে একটু সাহস পাই।”  

 

সীমান্ত পরিদর্শন শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটা জাতীয় ইস্যু। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমরা চাই সরকার দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে এসে কঠোরভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করুক।”  
পরিদর্শনকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, যশোর জেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭