জামায়াত থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সেই সমালোচিত গাজী নজরুল ইসলাম; ইসিকে জানানো হবে সিদ্ধান্ত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও আলোচিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে একটি সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলটি আরও জানিয়েছে, বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে দলীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতেই এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোচিত খবর
ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার দাবি, হাইকোর্টের রুল জারি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।
এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান এ রিট আবেদন করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষমতাও রয়েছে, যেখানে তিনি তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে স্নাতক সম্পন্ন করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
জাতীয়
মোদির ক্ষমা প্রার্থনাসহ ৫ দফা আল্টিমেটাম ও অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি: রাহুল গান্ধী
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার, দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবি জানিয়ে বুধবারও (২২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
৫ দফা দাবির মধ্যে যা রয়েছে-
এক. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই. সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। তিন. সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। চার. বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা। এবং পাঁচ. যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হতে হচ্ছে? এগুলো একেবারেই যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এসব প্রশ্ন করার মধ্যে কোনও ভুল নেই।’
তিনি আরও বলেন, পুরো বিরোধী দল চায় বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভা- উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা হোক। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেয়া হয়। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে দুই ভাইবোনকে মুক্তি দেয়া হয়।
আটক অবস্থায় রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সেখানে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন।
পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, আলোচনার দাবিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এখন রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর মতো একজন নেতার জন্য এটি শোভনীয় নয়। তার মতো জ্যেষ্ঠ নেতা নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিট এবং এ-সংক্রান্ত আন্দোলনের সব বিষয় নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। কিন্তু রাহুল গান্ধীর আচরণ গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
এদিকে পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার, দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবি জানিয়ে বুধবারও (২২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এক. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই. সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। তিন. সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। চার. বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা। এবং পাঁচ. যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
পাঁচ জেলার এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি বোর্ডের সব অবশিষ্ট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব জেলার পরীক্ষাও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) দিনগত রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের সমস্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা, মাদরাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরে জানানো হবে।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ছিল।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব জেলার পরীক্ষাও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
জাতীয়
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, সৌদি-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্তাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে জটিল করে তুলতে পারে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা করতে সহায়তা করেছিল। গত বছর দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও সই করেছে। ওই চুক্তির আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবে ইরানের হামলার ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলার পর ইরান নিয়ে ইসলামাবাদের অসন্তোষ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে সৌদি আরব লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। এতে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলেও এখন পর্যন্ত সংঘাতটি ওই একটি ঘটনার মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটি আমাদের জন্য রেড লাইন।’
প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনে কথা বলা অন্য কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, ‘উত্তেজনা এত দ্রুত বাড়বে, তা পাকিস্তান ধারণা করেনি।’
পাকিস্তানের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ইরানের আগের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের সর্বশেষ এই হামলা দেশটিকে (পাকিস্তানকে) সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন রয়েছেন এবং এই কারণে তারা এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামাবাদের আশঙ্কা, হুথিদের নেতৃত্বে উত্তেজনা বাড়লে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। পাকিস্তানসহ অনেক দেশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের স্বার্থের ওপর হামলা হতে পারে। আর তেমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করতে পারে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ইরান দূতাবাস, যৌথ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ইরানের
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ঢাকায় অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত অন্যান্য মুসলিম দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল, প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি মানবিক সহায়তা দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের পাশে আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইরান দূতাবাস জানায়, মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দূতাবাস আরও জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্বের অংশ। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরানের কূটনৈতিক মিশন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, দাতা প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশনগুলো ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ঢাকায় অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত অন্যান্য মুসলিম দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
সাত জেলায় বন্যা আরও ভয়াবহ: প্রাণহানি বেড়ে ৫৪, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধ্বসে দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবারের সদস্যরা। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, এই সাত জেলা বর্তমানে বন্যায় আক্রান্ত। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৩১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আহতদের মধ্যেও কক্সবাজারেই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দুর্গত মানুষের নিরাপত্তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় মানবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধ্বসে দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবারের সদস্যরা। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।
জাতীয়
গাইবান্ধার রামমূর্তি নির্মাণে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতারসহ ৪ দিনের রিমান্ডে
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আদালতে বলেন, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের অনুদানের অর্থই তার হিসাবে জমা হয়েছে। তারা রিমান্ডের পরিবর্তে কারাগারে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।
শুনানিতে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, “আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই।” তিনি আরও বলেন, “ভক্তদের দেওয়া অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্রসহ সংশ্লিষ্টরা হুন্ডি এবং দেশি, বিদেশি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে মূর্তির অর্থায়ন, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের পর গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আলোচিত খবর
চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যার ভয়াবহতা: প্রাণহানি বেড়ে ৫০, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯ হাজার ঘর
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট।
আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১ হাজার ৫৮০ জন, বান্দরবানের ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন অবস্থান করছেন।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৪৮ হাজার ৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানে ১৫ হাজার ৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৭৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট।
জাতীয়
ভারী বৃষ্টিতে ১৮ জেলায় বন্যা সতর্কতা, বিপৎসীমার ওপরে একাধিক নদীর পানি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি দেশের অন্তত ১৮ জেলায় সতর্কতা জারি করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয় এফএফডব্লিউসি জানায়, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু, লামার মাতামুহুরী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই, হবিগঞ্জের খোয়াই এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এতে লক্ষ্ণীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভোগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি আগামী তিন দিন সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার এবং বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্ণীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ মোট ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি বা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটি দেশের অন্তত ১৮ জেলায় সতর্কতা জারি করেছে।
জাতীয়
আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টি, বন্যার ঝুঁকিতে ৪ জেলা; তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় ৩ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে এ বৃষ্টি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৩ দিন পর অবশ্য পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় সূত্র।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৩ দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে পরবর্তী ২ দিনও এসব অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এই অবস্থায় আগামী ৩ দিন দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্ণীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৩ দিনে এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সাথে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার, ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় ৩ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে এ বৃষ্টি আগামী শনিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
জাতীয়
‘আমি কোনো দুর্নীতি করিনি’—ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমানের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ২১ জুলাই
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ২১ জুলাই আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বর্তমানে কারাগারে থাকা মতিউর রহমানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের তথ্যমতে, শুনানিতে মতিউরের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বোরহান উদ্দিন তাকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মতিউরের আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র সঠিক রয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম অব্যাহতির বিরোধিতা করে বলেন, মতিউরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মতিউর রহমান নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি, দুর্নীতি করিনি।”
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
২০২৩ সালের কোরবানি ঈদের আগে তার ছেলে মুশফিকুর রহমানের ১৫ লাখ টাকা দামের একটি উচ্চবংশীয় ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মতিউর রহমান দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ২১ জুলাই আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বর্তমানে কারাগারে থাকা মতিউর রহমানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের তথ্যমতে, শুনানিতে মতিউরের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও বোরহান উদ্দিন তাকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মতিউরের আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র সঠিক রয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম অব্যাহতির বিরোধিতা করে বলেন, মতিউরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাই আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মতিউর রহমান নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি, দুর্নীতি করিনি।”
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
২০২৩ সালের কোরবানি ঈদের আগে তার ছেলে মুশফিকুর রহমানের ১৫ লাখ টাকা দামের একটি উচ্চবংশীয় ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মতিউর রহমান দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
আলোচিত খবর
বাংলা একাডেমির সভাপতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
চিন্তাচর্চার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই।
আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং তাঁর পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান। জানা গেছে, রোববার দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তাঁর গবেষণা ও লেখালেখি বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, সাহিত্য চিন্তা, রাজনীতি দর্শন এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া সুন্দরম ও লোকায়ত নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন তিনি। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তা, সাহিত্যসমালোচনা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে তাঁর কাজ বাংলা বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক হিসেবে সমানভাবে অবদান রেখেছেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চিন্তাচর্চার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই।
জাতীয়
দুটি ইতিহাসের মিলন: ২৫০ বছরের আমেরিকা, বাংলার উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের সংলাপ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকবর হায়দার কিরন....
৪ জুলাই ২০২৬—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্ণ করছে এই দেশ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাই আমার জন্মদিন। তাই প্রতি বছর এই দুটি দিন যেন একসঙ্গে ইতিহাস ও জীবনের উৎসবে পরিণত হয়।
কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রখ্যাত এমেরিটাস অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ ড. মুস্তফা সরওয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ টেলিফোন আলাপচারিতায় আমরা ফিরে গিয়েছিলাম অষ্টাদশ শতাব্দীর সেই উত্তাল সময়ে—যে সময়ে একদিকে বাংলার পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্যের সূচনা হয়, আর অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই নতুন রাষ্ট্র United States-এর জন্ম দেয়।
এই দুটি ঘটনা ভৌগোলিকভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটলেও বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাংলার সম্পদ, বাণিজ্য এবং British East India Company-এর উত্থান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। সেই একই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রাম মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায় রচনা করে।
এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে ড. মুস্তফা সরওয়ারের বিশ্লেষণ ছিল অত্যন্ত গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া। তাঁর সঙ্গে আমার এই আলোচনা শিগগিরই “কফি উইথ কিরন” অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ পর্ব হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার আশা করছি। আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য এটি হবে এক ব্যতিক্রমী ও মূল্যবান সংলাপ।
উল্লেখ করার মতো আরেকটি বিষয় হলো, চলতি বছরের মে মাসে Bangladeshi-American Media Foundation-এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের স্মারকগ্রন্থ, ব্যাকড্রপ, নকশা ও উপস্থাপনায় সর্বত্রই ছিল “250”—একটি সংখ্যা, যা কেবল একটি বার্ষিকী নয়, বরং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অভিবাসীদের অবদান এবং বহুসাংস্কৃতিক আমেরিকার দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক।
আজ, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক ও অভিবাসী হিসেবে আমি অনুভব করি—বাংলার ইতিহাস এবং আমেরিকার ইতিহাস পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বরং তারা বিশ্ব ইতিহাসের একই ধারার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় উপনিবেশবাদের মূল্য, অন্যটি স্বাধীনতার শক্তি ও সম্ভাবনার কথা বলে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০ বছরের পথচলা উদযাপন করছে, তখন আমাদেরও উচিত ইতিহাসকে নতুন করে পড়া, নতুনভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলে ধরা। ইতিহাসের এই সংলাপই হয়তো আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
৪ জুলাই ২০২৬—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্ণ করছে এই দেশ। আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৫ জুলাই আমার জন্মদিন। তাই প্রতি বছর এই দুটি দিন যেন একসঙ্গে ইতিহাস ও জীবনের উৎসবে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক
ইরানের আমন্ত্রণে খামেনেয়ী’র রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ী’র রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে ইরান। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) তার তেহরান সফরের কথা রয়েছে।
ইরান সরকার কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আয়োজনে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে। শুক্রবার (৪ জুলাই) প্রথম জানাজার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ বুধবার (৯ জুলাই) তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও জানাজার নামাজ ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। ওই জানাজায় বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অংশ নেবেন।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আমন্ত্রণপত্রে লিখেছেন, “এই ঐতিহাসিক ও মহিমান্বিত আয়োজনে আপনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার সুযোগ পেতে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ী শহীদ হন। ওই হামলায় তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। মৃত্যুর আগে তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন।
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ী’র রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাতীয়
এটি ঢাকার সাধারণ দৃশ্য -বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমাতে ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিত, আসছে নতুন ২ আউটলেট
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিষ্কার করছে। তার ভাষায়, “এসব কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।”
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত কাজ করছেন। ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল ঠেকানো যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিলের তিনটি আউটলেট দিয়ে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহিত করতে বক্স কালভার্ট ও ৮ ফুট ব্যাসের বড় নর্দমা নির্মাণকাজও চলছে।
ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব এলাকায় ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি সরাতে ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতীয়
যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন হবে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট নিরসনে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
নিজ বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর সরকার।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ, এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করলেও শুষ্ক মৌসুমে সামান্য দূরত্বের জমিতেও কৃষক সেচের পানি পান না। এই সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা আছে সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিবরণ দিয়ে এরপর সরকারপ্রধান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ কার্ডের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ঐতিহ্যগত শিল্পের বাইরে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
একইসঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকেও যেন তরুণ প্রজন্ম একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেজন্য আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মূল শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ বা খেলাধুলাকে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস ভার্সন চালু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে বা প্রবাসে থাকাকালীন যেসব প্রাত্যহিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি বা রিলিফ দিতে সরকার একটি যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ওপর কাজ করছে।
এরপর জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়ে জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে, যা জানলে গা শিউরে ওঠে। আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও রিনিউবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট নিরসনে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ, এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করলেও শুষ্ক মৌসুমে সামান্য দূরত্বের জমিতেও কৃষক সেচের পানি পান না। এই সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের মহাপরিকল্পনা আছে সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত মাত্র তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের বিবরণ দিয়ে এরপর সরকারপ্রধান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ কার্ডের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকের কাছে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
ঐতিহ্যগত শিল্পের বাইরে চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হিসেবে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
একইসঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শক্তিশালী করতে দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ‘জাতীয় সম্মানী কাঠামো’ চালু করার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকেও যেন তরুণ প্রজন্ম একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে, সেজন্য আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মূল শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ বা খেলাধুলাকে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস ভার্সন চালু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরলে বা প্রবাসে থাকাকালীন যেসব প্রাত্যহিক সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি বা রিলিফ দিতে সরকার একটি যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ওপর কাজ করছে।
এরপর জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়ে জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি করেছে, যা জানলে গা শিউরে ওঠে। আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও রিনিউবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে।
জাতীয়
হাদি হত্যা মামলার রহস্য: ১৭ বার সময় নিয়েও শেষ হয়নি পুনঃতদন্ত; নতুন তারিখ ১৫ জুলাই!
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। ঢাকার আদালত মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ করার জন্য সিআইডিকে আরও সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৭তম বারের মতো পিছিয়েছে।
এর আগে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিল করা অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রোববার (১৪ ডিসেম্বর) হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানায় মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
পরে সোমবার (৬ জানুয়ারি) গোয়েন্দা পুলিশ মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করাও হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। ঢাকার আদালত মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাটির অধিকতর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ করার জন্য সিআইডিকে আরও সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৭তম বারের মতো পিছিয়েছে।
আলোচিত খবর
৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় বিতর্ক: 'এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি'—সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা ব্যয়ের পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয়ের বিল ও ভাউচার যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এ কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' অনুযায়ী মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ কিংবা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে। তবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, পরে সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে সব বিল, রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয় এবং একাধিকবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর হৃদস্পন্দনে জটিলতা ধরা পড়ে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড 'ক্যাথেটার অ্যাবলেশন' নামের একটি জটিল অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করে। দেশে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় তাঁকে আবুধাবির একটি মার্কিন হাসপাতাল ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, প্রথম দফায় থাইল্যান্ডে চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেখানে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্রের দেয়ালে জমাট রক্ত থাকায় আগে সেটির চিকিৎসা করতে হবে, এরপর অস্ত্রোপচার সম্ভব। পরে হজের দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে ফিরে আসেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, হজ শেষে অসুস্থতা বাড়লে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি আবার থাইল্যান্ডে যান এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচার করান। এ সময় হাসপাতালের বিল বাবদ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। যদিও প্রকৃত বিল আরও বেশি ছিল, তবে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু ছাড় পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সরকার শুধু হাসপাতাল, অস্ত্রোপচার ও ওষুধের বিল পরিশোধ করেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর ব্যয়, হোটেল ভাড়া, খাবার এবং যাতায়াতের খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার বিল, ভাউচার ও রসিদ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা যাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সততা ও নিষ্ঠা বজায় রেখে কাজ করেছেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা তসরুপ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম বৈধ ও আইনসম্মত বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে জনমনে অযথা সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের তীব্র নিন্দাও জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' অনুযায়ী মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের দেশ কিংবা বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করে। তবে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রথমে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ, পরে সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে সব বিল, রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচিত খবর
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতই ছিল প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই ওই নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। তাই দেশের হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি, কেবল লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় সেখানে ডায়ালাইসিস হয়, এটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের দিন সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাব এবং কক্ষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংসদে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের ঘটনার তুলনা টেনে আনা সমালোচনারও জবাব দেন। তিনি বলেন, “ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল বিদ্যুতের কারণে দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীনের ঘটনা অবহেলার। আপনারা কেউ সেখানে যাননি, অথচ সংসদে এসে কথা বলছেন।”
নবজাতকদের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মন্ত্রী বলেন, “ছয়টা শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ, জানালা বন্ধ, কোনো অক্সিজেন ছিল না। ১৬ থেকে ১৭ জন মা কাঁদছিলেন, ছোটাছুটি করছিলেন, কিন্তু একজন ডাক্তারও আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে পর্যন্ত যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। “দুইজন চিকিৎসক একমত হয়েছেন, অবহেলা ও অক্সিজেনের অভাবেই বাচ্চাগুলোর মৃত্যু হয়েছে,” বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপও ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ভবনের ভেতর বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন প্লাস্টিক বর্জ্য রাখা হয়েছে যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা স্বজন বাঁচতে পারবেন না।”
সরকার মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। প্রতিটি বিষয়কে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের পকেটের খরচ কমে।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই ওই নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। তাই দেশের হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় সেখানে ডায়ালাইসিস হয়, এটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের দিন সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাব এবং কক্ষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংসদে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের ঘটনার তুলনা টেনে আনা সমালোচনারও জবাব দেন। তিনি বলেন, “ইউনাইটেড এবং বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল বিদ্যুতের কারণে দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীনের ঘটনা অবহেলার। আপনারা কেউ সেখানে যাননি, অথচ সংসদে এসে কথা বলছেন।”
নবজাতকদের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মন্ত্রী বলেন, “ছয়টা শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে এসি বন্ধ, জানালা বন্ধ, কোনো অক্সিজেন ছিল না। ১৬ থেকে ১৭ জন মা কাঁদছিলেন, ছোটাছুটি করছিলেন, কিন্তু একজন ডাক্তারও আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে পর্যন্ত যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। “দুইজন চিকিৎসক একমত হয়েছেন, অবহেলা ও অক্সিজেনের অভাবেই বাচ্চাগুলোর মৃত্যু হয়েছে,” বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের ভেতরেই একটি বেকারি কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপও ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ভবনের ভেতর বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন প্লাস্টিক বর্জ্য রাখা হয়েছে যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা স্বজন বাঁচতে পারবেন না।”
সরকার মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। প্রতিটি বিষয়কে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষের পকেটের খরচ কমে।
























































