সরকারি গুদামে মজুদ, মাঠে সার সংকট, ডিলার সাব-ডিলারের মাঝে লুকোচুরি
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রির একমাত্র পথ বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার। কিন্তু বাস্তবে যশোরের হাট-বাজার, দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন সার। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বস্তা প্রতি বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
সরকারি হিসাবে গুদামে সারের মজুদ দ্বিগুণ। অথচ মাঠের সাব-ডিলাররা বলছেন, চাহিদার ২০ থেকে ৬০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না। তাহলে খোলা বাজারে এত সার যাচ্ছে কীভাবে?
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) সার বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খোলা বাজারে বা লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে সার বিতরণ ও বিক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। এটি কেবল অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলার, বিএডিসির ডিলার এবং তাঁদের অধীনে থাকা খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়ার কথা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের আটটি উপজেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।
কিন্তু যশোর পরিসংখ্যান ব্যুরো অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় ছোট-বড় মোট সার ও কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা ১১৭১টি। এর মধ্যে বিসিআইসির ১৪১ ও বিএডিসির ১৬২ বাদ দিলে অনুমোদনহীন সার-কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬৮টি।
সদর উপজেলার দেওয়াড়া ইউনিয়নের চাঁন্দুটিয়া গ্রামের কৃষক ওসমান আলী বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”
সদর উপজেলার চাঁন্দুটিয়া বাজারের বিসিআইসির খুচরা সার বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, “আমরা ডিলার থেকে সার চাহিদা অনুযায়ী আনতে গেলে সার কম পাই। কারণ আমরা সরাসরি কৃষকের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ডিলাররা ৫০% সার কৃষকের কাছে, ৫০% সাব ডিলারদের মাঝে বিক্রি করে। অধিক মুনাফার আশায় কিছু কিছু ডিলার রাতের আঁধারে তাদের পছন্দমত অনুমোদনহীন দোকানদারদের কাছে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়।”
একই উপজেলার এড়েন্দা বাজারের বিএডিসির সাব ডিলার ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা জানি সে কৃষক না ব্যবসায়ী, তারপরেও তার কাছে আমাদের সার বিক্রি করতে হচ্ছে।”
চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রহমত স্টোরের সত্ত্বাধিকারী রহমতুল্লাহ বলেন, “আমার ইউনিয়নে সাব ডিলারের সংখ্যা ১৩ জন, কৃষকের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ৫০% সাব ডিলার, ৫০% সরাসরি কৃষকদের মাঝে বিক্রি করি। তবে চাহিদার তুলনায় সার অনেক কম পাচ্ছি। কিছু সার বিভিন্ন কারণে বাইরে বিক্রি করতে হয়।”
একই উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মেসার্স ফরিদুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে মোট সাব ডিলার ১০ জন। আমার সারের তেমন সমস্যা হয় না। তবে আমাদের ডিলারদের মধ্যে অনেক ডিলার আছে যারা সার কৃষকের মাঝে বিক্রির কথা থাকলেও খোলা বাজারে অধিক লাভের কারণে বিক্রি করে দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, অনেকেই নামে মাত্র ডিলার তার সার তুলে অন্য খানে বিক্রি করে দিচ্ছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী বলেন, “ডিলাররা গুদাম থেকে সার ক্রয় করে ইউরিয়া ৫০ কেজি ১২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা, টিএসপি ১৩০০ টাকা, এমওপি ৯০০ টাকা। ডিলার পয়েন্ট থেকে সাব ডিলার ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৩০ টাকা, ডিএপি ৯৮০ টাকা, টিএসপি ১৩৩০ টাকা, এমওপি ৯৫০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে কৃষক ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৫০ টাকা, ডিএপি ১০৫০ টাকা, টিএসপি ১৩৫০ টাকা, এমওপি ১০০০ টাকা। কিন্তু আমরা যখন ডিলারদের থেকে সার ক্রয় করি, কৃষক যে মূল্যে সার ক্রয় করে তার থেকে প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে সার ক্রয় করি। আমাদের কোনো পাকা ক্যাশ মেমো দেওয়া হয় না।”
তিনি আরও বলেন, _“কৃষি বিভাগের লোকজন যখন বাজার মনিটরিং করতে আসে, আগে ভাগেই জানতে পারি এবং দোকান বন্ধ করে চলে যাই। আমি খোলা বাজারে বিক্রি করছি ইউরিয়া ৫০ কেজি ১৪৫০ টাকা, ডিএপি ১১৫০ টাকা, টিএসপি ১৬০০ টাকা, এমওপি ১১৫০ টাকা। যেমন কিনছি তেমন বিক্রি করছি।”
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল বাজারের মেসার্স মোনোয়ারা ট্রেডিং, মালিগাতী বাজারের মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্স, ফুলসারা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ্ ট্রেডার্স, সুখপুকুরি ইউনিয়নের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, সদর উপজেলার শরিফুল ট্রেডার্স, মনিরামপুরের লিটন এন্টারপ্রাইজ, বাঘারপাড়ার মোল্যা এন্টারপ্রাইজ ও সেলিম ট্রেডার্স, ঝিকরগাছার মোস্তফা এন্টারপ্রাইজসহ জেলার অধিকাংশ বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে খোলা বাজারে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
ফুলসারা, সলুয়া, সিংহঝুলি বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদিত সাব-ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ একই এলাকায় মল্লিক ট্রেডার্স, সদ্দার ট্রেডার্স, বিল্লাল ট্রেডার্স সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে খোলা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সহজেই সার পাওয়া যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-ডিলার জানান, “আমরা বর্তমানে চরম সংকটে আছি। কৃষক পর্যায়ে ৫০ কেজি ইউরিয়ার সরকারি খুচরা মূল্য ১,৩৫০ টাকা। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে অনেক সময় ক্যাশ মেমো ছাড়াই ১,৩৪০ টাকায় সার সংগ্রহ করতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৫ থেকে ২০ টাকা যোগ হয়। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না।
সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, “আমাদের প্রতিটি ডিলার ও সাব ডিলার পয়েন্টে সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। ন্যায্য দামের চেয়ে বেশি দাম দিলে ফোন করে জানাতে ও ক্যাশ মেমো নিতে বলা হয়েছে। কোনো কৃষক অভিযোগ করলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন* বলেন, _“প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং আমি নিজে মাঠে থেকে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সমস্যা বা সংকট নেই। এখন মাঠে সারের চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। যদি কোথাও কোনো সমস্যা থাকে, কৃষক বা কেউ জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার বিতরণে স্বচ্ছতা না থাকলে ভর্তুকির সুফল কৃষক পাবে না। ডিলার-সাবডিলার নিয়োগ, বরাদ্দ ও বিতরণে ডিজিটাল মনিটরিং, প্রতিটি বস্তায় কিউআর কোড এবং অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু করা জরুরি। পাশাপাশি অনুমোদনহীন দোকানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
গুদামে সার, নীতিমালায় কড়াকড়ি, তবুও খোলা বাজারে সারের ছড়াছড়ি। ডিলার থেকে সাব-ডিলার হয়ে অনুমোদনহীন দোকানদার পর্যন্ত পৌঁছানো এই সারের চেইন ভাঙতে না পারলে সরকারের ভর্তুকি আর কৃষকের ঘাম দুটোই বৃথা যাবে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রির একমাত্র পথ বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার। কিন্তু বাস্তবে যশোরের হাট-বাজার, দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন সার। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বস্তা প্রতি বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।
তিনি আরও বলেন, _“কৃষি বিভাগের লোকজন যখন বাজার মনিটরিং করতে আসে, আগে ভাগেই জানতে পারি এবং দোকান বন্ধ করে চলে যাই। আমি খোলা বাজারে বিক্রি করছি ইউরিয়া ৫০ কেজি ১৪৫০ টাকা, ডিএপি ১১৫০ টাকা, টিএসপি ১৬০০ টাকা, এমওপি ১১৫০ টাকা। যেমন কিনছি তেমন বিক্রি করছি।”
জাতীয়
অভিনব কায়দায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ক্রেতা সেজে গ্রেপ্তার: রাজশাহী জেলা পুলিশ
আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর বাগমারায় আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে অভিনব কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। পরে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামি হলেন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
সাজা হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসিবুল মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রির সাইটের সন্ধান পায় তারা। পুলিশ জানতে পারে, ওই অনলাইন ব্যবসার পরিচালক হাসিবুল ইসলাম।
এরপর পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যোগাযোগের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাগমারা থানার এসআই শিহাব উদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, হাসিবুল ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাসিবুলের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা জানতেন হাসিবুল মালয়েশিয়ায় থাকেন। তিনি বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। তবে ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইন ব্যবসা করছেন—এ বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না।
তবে তিনি পুলিশ কে ধন্যবাদ জানান তারা খুব চ্যালেঞ্জ ভাবে হাসিবুল কে প্রেফতার করেছে।অন্যান্য পলাতক আসামিদের এই ভাবে খুঁজে গ্রেফতার করা উচিৎ।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এই বিষয়ে রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন,আমরা অনেক কষ্ট করে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হাসিবুল কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা । সে প্রায় আট বছর ধরা ছোয়ার বাইরে ছিল। তাকে আদালত পাঠালে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য থানায় যে মামলা গুলো আছে সেগুলো আদালত তাকে দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করবে।
রাজশাহীর বাগমারায় আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে অভিনব কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। পরে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
সাজা হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসিবুল মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রির সাইটের সন্ধান পায় তারা। পুলিশ জানতে পারে, ওই অনলাইন ব্যবসার পরিচালক হাসিবুল ইসলাম।
এরপর পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যোগাযোগের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে তিনি পুলিশ কে ধন্যবাদ জানান তারা খুব চ্যালেঞ্জ ভাবে হাসিবুল কে প্রেফতার করেছে।অন্যান্য পলাতক আসামিদের এই ভাবে খুঁজে গ্রেফতার করা উচিৎ।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
আলোচিত খবর
ভারতীয় আধিপত্যবাদের চূড়ান্ত পতন পর্যন্ত জুলাই ঐক্য ধরে রাখতে হবে: মুসলিম লীগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তিকে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। দলটির মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেছেন, ভারতীয় হেজিমনির চূড়ান্ত পতন না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে জুলাইয়ের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৫১তম পুনর্গঠন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অপরিহার্যতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কাজী আবুল খায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের প্রশ্নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শক্তির জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ভারতীয় হেজিমনির চূড়ান্ত পতনের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো মূল্যে এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্যই বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই বিএনপি আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করবে—এটি অসম্ভব।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দূরত্বের সুযোগেই ফ্যাসিবাদীরা আবার মাথা উঁচু করার সাহস দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, বাংলার মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে খান এ সবুর ১৯৭৬ সালের ৮ আগস্ট মুসলিম লীগ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম জাতিসত্তার অনুসারীদের শুধু ঐক্যবদ্ধই করেননি, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
আলোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, বিশিষ্ট কলামিস্ট মোস্তফা কামাল মজুমদার, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এফডিপির সভাপতি ড. এ আর খান, নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আহছান উল্ল্যাহ শামীম, ইতিহাস অন্বেষার সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাওয়ের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রিপন, মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল আনোয়ার, জুলাই যোদ্ধা ও মুসলিম লীগ নেতা বকুল, সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুল হান্নান নূর, অতিরিক্ত মহাসচিব কাজী এ এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ও শ্রম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনীসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জাতীয় স্বার্থ ও আধিপত্যবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তিকে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। দলটির মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেছেন, ভারতীয় হেজিমনির চূড়ান্ত পতন না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে জুলাইয়ের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
জাতীয়
রাজশাহী বরেন্দ্র ববহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে দুদকের তলব
আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে বিএমডিএর বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য নিতে তলব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ৩ আগস্ট বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দিয়েছে দুদক। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগসংশ্লিষ্ট নয় কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দুদকের তলব করা কর্মকর্তারা হলেন—নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার, এটিএম রফিকুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলি।
দুদকের চিঠি অনুযায়ী, নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার ও এটিএম রফিকুল ইসলামকে আগামী ১২ আগস্ট এবং রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলিকে ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়েছে।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, তলব করা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে সানজিদা খানম মলিসহ তিনজন কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাঁদের চলতি দায়িত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হবে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির দুদকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী ডা. আবুল কাশেম বলেন, “বিষয়টি আমি তাঁদের মুখ থেকেই শুনেছি। তাঁরা দুদকের চিঠি পেয়েছেন। দুদক তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট তলব করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। কোন অভিযোগ কি কারণ এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।”
দুদক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ গুলোর সত্যতা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্টদের ভুমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে বিএমডিএর বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য নিতে তলব করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হবে।
জাতীয়
শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিক্ষোভ
মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি
আজ ৭ আগস্ট, ২০২৬ রোজ শুক্রবার বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে "ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে" বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আলম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা সহিংসতার নয়, নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন ক্যাম্পাস দেখতে চাই।"
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা দখলদার শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। সকল শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।"
বিক্ষোভ মিছিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক সাজিদ, কেন্দ্রীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক জাবের আল হুসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বাইতুল মাল সম্পাদক আলী হোসেন তন্ময়সহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জাতীয়
মানি লন্ডারিং আইনের ৭ ধারা বাতিলের কারণে কমে যাচ্ছে দুদকের শক্তি, বাড়বে জনতার ভোগান্তি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
মানি লন্ডারিং আইনের ধারা বাতিলে আরো কমে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শক্তি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে মানি লন্ডারিং আইনের সাতটি ধারা (সম্পৃক্ত অপরাধ) দিয়ে দুদককে শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওই অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস না হওয়ায় দুদক তদন্ত করতে পারছে না ওই সাতটি সম্পৃক্ত অপরাধ।
বিগত ২০০২ সালে দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়। আর তখন থেকেই দুদককে আইনটির সব সম্পৃক্ত অপরাধ (ধারা) তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। ওই সময় মানি লন্ডারিং অপরাধে কমিশনের মামলার সাজার হার ছিল শতভাগ। কিন্তু বিগত ২০১৫ সালে আইনটি সংশোধন করে দুদককে মাত্র একটি ধারা দুর্নীতি ও ঘুষ দেয়া হয়।
কিন্তু গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুদক-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে জারি করা অধ্যাদেশে সংস্থাটিকে দেয়া হয় মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত সাতটি ধারা। তখন আগের দুর্নীতি ও ঘুষ ধারাসহ মোট ৮টি ধারা হয়েছিলো। কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস না হওয়ায় দুদক এখন মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত একটি ধারা নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। তবে সরকার এরই মধ্যে দুদক আইন-২০০৪ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দুদক আইন ২০০৪ অনুসারে গঠন করা হচ্ছে দুদকের সর্বোচ্চ কাঠামো কমিশন। তাতে একজন চেয়ারম্যান, দুজন কমিশনার নিয়োগ করা হবে। ইতিপূর্বে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করার কথা বলে অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছিলো। কিন্তু আইন পাস না হওয়ায় এখন পুরোনো নিয়মেই কমিশন হচ্ছে। ফলে দুদক চলবে পুরোনো ধারাতেই।
বর্তমানে দুদক দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, জালিয়াতি-সংক্রান্ত অপরাধ তদন— করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে দুদকের জন্য শর্ত রয়েছে শুধু সরকারি কর্মচারী ও ব্যাংকারের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তদন্ত করা যাবে। ৪২০ ধারা অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগও তদন্ত করতে পারছে দুদক। তাছাড়া মানি লন্ডারিং আইনের প্রতারণা, জালিয়াতির যে ধারা দুদক ব্যবহার করে আসছিল, তাতে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সরকারি, বেসরকারি এমনকি দেশে সংঘটিত ওই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধেও তদন— করতে পারতো। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হবে না।
সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং আইনের পর্যাপ্ত ধারা ব্যবহার করতে না পারায় সংকুচিত হয়ে এসেছে দুদকের কাজের পরিধি। অথচ দুদকে আসে মানি লন্ডারিংবিষয়ক অনেক অভিযোগ। কিন্তু সেগুলো তপশিলভুক্ত না হওয়ায় তদন্ত করা যাচ্ছে না। বরং তদন্তের সুপারিশ করে ওসব অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আগে দুদক মানি লন্ডারিং আইনের প্রতারণা, জালিয়াতির ধারা ব্যবহার করতে পারায় ২০১২ সালে ডেসটিনি, ইউনিপে-২, যুবকসহ বেসরকারি খাতের নানা অভিযোগের তদন্তে সাড়া ফেলেছিল। বর্তমানে ওই ধারাগুলো ব্যবহার করতে না পারায় দুদক পানামা পেপার্সসহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারছে না।
সূত্র আরো জানায়, অধ্যাদেশ জারি করে দুদককে যে ৭টি ধারা দেয়া হয়েছিল সেগুলো হলো দলিল-দস্তাবেজ জালকরণ, প্রতারণা, জালিয়াতি, দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার, চোরাচালানি ও শুল্ক-সংক্রান্ত অপরাধ, কর-সংক্রান্ত অপরাধ এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কিত তথ্য-সংক্রান্ত অপরাধ। তার আগে ২০১৫ সালে আইন সংশোধন করে দুদককে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত শুধু একটি ধারা ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’ দেয়া হয়েছিল। তখন দুদকের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সরকারের অন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং আইনের বিভিন্ন ধারা তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ওই ৬টি প্রতিষ্ঠান হলো পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কাস্টমস, পরিবেশ অধিপ্তর এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিং আইনের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ধারা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করা হয়েছিল। এখন সংস্থাটির হাতে নেই সামান্য ক্ষমতাও। যদিও সরকার এরই মধ্যে দুদক আইন সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে। ওই আইন সংশোধনকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের কমিশনের প্রতিবেদন, সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিগত ২০১৫ সালে সংশোধনের আগ পর্যন্ত মানি লন্ডারিং আইনের ২৭টি ধারা ছিলো। পরে সাইবার ক্রাইম, পর্নোগ্রাফি অপরাধ যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট ২৯টি ধারা হয়েছে। ওই ২৯ ধারা থেকে অধ্যাদেশের মাধ্যমে দুদকের জন্য ৭টি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা হয়নি বলে সম্পৃক্ত অপরাধগুলো রাখা হবে না বিষয়টা এমন নয়। সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় ওসব অপরাধ তদন্তের জন্য দুদক আইনে যুক্ত করতে পারে।
মানি লন্ডারিং আইনের ধারা বাতিলে আরো কমে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শক্তি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে মানি লন্ডারিং আইনের সাতটি ধারা (সম্পৃক্ত অপরাধ) দিয়ে দুদককে শক্তিশালী করেছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ওই অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস না হওয়ায় দুদক তদন্ত করতে পারছে না ওই সাতটি সম্পৃক্ত অপরাধ।
জাতীয়
‘আদিবাসী’ শব্দের রাজনীতি বন্ধ করে সমান কোটা ও আয়কর সুবিধার দাবিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার:
‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক বন্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা, সমান আয়কর সুবিধা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকা’র সভাপতি, লেখক, গবেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক, পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল আমিন, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, পিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজি সাকিব এবং সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং শাকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় পৃথক কোটার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার হাসিনুর আরও বলেন- ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হলেও পরবর্তী সময়ে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা-এর সভাপতি, লেখক, গবেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক বলেন- পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং এর পেছনের গভীর ভূ-রাজনৈতিক নীল নকশা রয়েছে। আমরা সকলেই জানি, ১৯৭২ সালে মিস্টার লারমা যে বিতর্ক তুলে সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বিদ্রোহ করেছিল তা দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ার পর ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবসান হয়েছে।
তিনি বলেন- চুক্তির মূল পাঠ পরীক্ষা করলে আমরা দেখি, চুক্তির ‘ক’ খণ্ডের ১ নং ধারায় পুরো অঞ্চলকে ‘উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পুরো ৭২টি ধারার মধ্যে অন্তত ৫০ বার ‘উপজাতি’ শব্দটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা জ্যোতিঁরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ও তার প্রতিনিধিরা সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ‘উপজাতি’ পরিচয়েই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরবর্তীতে এই চুক্তির আলোকেই পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন-১৯৯৮ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়—যেখানে আইনিভাবে ‘উপজাতি’ শব্দটিই প্রতিষ্ঠিত।
আজ প্রায় ৩ দশক ধরে যে নেতৃত্ব এবং তাদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করে আসছেন, তারাই আজ আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ‘আদিবাসী’ দাবি করছেন! এটি কেবল এক চরম স্ববিরোধিতা নয়, বরং আইনি ও নৈতিক দিক থেকেও গ্রহণযোগ্য নয়।
২০০৭ সালে জাতিসংঘ সনদ (UNDRIP) ঘোষণার পর থেকে ‘উপজাতি’ বনাম ‘আদিবাসী’ শব্দগত নতুন এই বিতর্ক সামনে এনেছেন পাকিস্তানের আমৃত্যু উজিরে খামাখা, রাঙ্গামাটির সাবেক চাকমা সার্কেল চিফ বাংলাদেশের কুখ্যাত রাজাকার ত্রিদিব রায়ের পুত্র ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। আজকে আমাদের ভেবে দেখতে হবে—কেন তারা নিজেদের সাংবিধানিক পরিচয় অস্বীকার করে ‘আদিবাসী’ শব্দটির জন্য মরিয়া?
এ এইচ এম ফারুক আরও বলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিকভাবে এখানকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আমাদের ভাই-বোন এবং তারা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম অংশ। কিন্তু ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ষোড়যন্ত্র এদেশের সচেষ্ট নাগরিকরা বরদাশত করবে না। আসুন আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা ও তথাকথিত ‘আদিবাসী’ দাবির পেছনের রাজনৈতিক মতলব সম্পর্কে আমরা নিজেরা সচেতন হই এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখি।
স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল আমিন বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য ও বিভিন্ন গবেষণার ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষক ও লেখকের মতামতেরও উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রাসেল মাহমুদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিচয়-রাজনীতির বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতির সুবিধা স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একই সঙ্গে জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) পদে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় পৃথক কোটা চালুর দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং পরবর্তী সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর দাবি, পরবর্তীতে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পরে সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা নিশ্চিত করা।
৩. পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন ও সমান আয়কর ব্যবস্থা চালু করা।
‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক বন্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা, সমান আয়কর সুবিধা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান।
জাতীয়
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু এক দলের নয়, গণতন্ত্রকামী সকল জনগণের’—জাদুঘর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার জায়গা হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। তাঁর ভাষায়, “এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”
জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো বয়ান ইতিহাসের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও জনগণ কখনো ভুলবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বুধবারের দিনটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন কিংবা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজ নিজ এলাকায় উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম তাঁদের নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও নির্যাতনকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। সেই সময়ের নির্মমতা, গণআন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী আমলে নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সব অন্যায়ের বিচার করা হবে।
বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ কেউ নিজেদের অজান্তেই পলাতক স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি করছে কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ৩১ দফার পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য ও উপকরণ দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, বিভিন্ন নিদর্শন ও দলিলও পরিদর্শন করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন দিক সংরক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী আমলে নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সব অন্যায়ের বিচার করা হবে।
জাতীয়
এপিবিএনের নতুন ডিআইজির বার্তা—'পেশাদারিত্ব ও জনসেবাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার'
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) নবনিযুক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন), মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি এর এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে এপিবিএনের অধীনস্থ সকল ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারদের (সিও) অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার্স মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বাহিনীর অফিসার ও ফোর্সের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, খাদ্যের মানোন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় নবনিযুক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মান আরও উন্নত করতে সকল অফিসার ও ফোর্সকে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভায় অংশগ্রহণকারী কমান্ডিং অফিসারগণ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সেবামুখী ও যুগোপযোগী করে তুলতে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নেতৃত্ব এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা ও সেবার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) নবনিযুক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন), মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি এর এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে এপিবিএনের অধীনস্থ সকল ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারদের (সিও) অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার্স মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয়
চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেফতার, যশোর-চট্টগ্রাম পুলিশের যৌথ অভিযানে ৫ জন আটক
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
তার সঙ্গে আরও চারজনকে বুধবার (২৯ জুলাই) অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের ডিডিএন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। গত ১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেওয়া হয়।
এর দুদিন পর সোমবার দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র নিয়ে অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজা ভাঙচুর করে। তারা অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতনের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইলের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে বলতে শোনা যায়, "আমরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছুরি-কিরিচ নিয়ে হামলা করি না। আমাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।"
ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গত রোববার রাতে চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতেই ডেভিড ইমনের যশোরে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এরপরই যশোরের ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে র্যািব-পুলিশের আরেকটি অভিযানে আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, "আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তের জন্য গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম দিয়ে কাজ করছিলাম। তার চক্রের বাকিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমনকে গ্রেফতারের ফলে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
আলোচিত খবর
ফেরদৌস, রিয়াজ, শাওনসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের আবেদন
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই, ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে লিখিত আবেদনটি জমা দেয় রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম, এসডিএফ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এ আবেদন করেন।
অভিযোগে সংস্কৃতি অঙ্গন, অভিনয়, সাংবাদিকতা ও বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নাম রয়েছে। তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, হিরো আলম, ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া তালিকায় নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা, নাট্যব্যক্তিত্ব হৃদি হক, মডেল মারিয়া কিশপট্টা, শান্তা ফারজানা, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরের নামও রয়েছে।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস লিখিত আবেদনে বলেন, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জনপরিসরে এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের পর এসডিএফের সদস্যসচিব সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবস্থান নিয়েছিলেন বলে তাদের অভিযোগ। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলেও এর বিষয়বস্তু এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে। তদন্ত সংস্থা বিষয়টি যাচাই করে দেখবে।
আবেদনকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
আলোচিত খবর
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: আন্দোলনের দাবির পর বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করেই সিজেপি এবং কেন্দ্রের মধ্যকার আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) সকালে সিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে রাজি না হলে কোনও আলোচনাই হতে পারে না।
এর আগে লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ‘তিনটি দাবি রয়েছে, যেগুলোতে কোনও আপস করা চলবে না’। শিক্ষার্থী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে গান্ধী বলেন, ‘প্রথম দাবিটি হলো—এই শিক্ষামন্ত্রী, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং দায়িত্বহীন, তাকে বরখাস্ত করতেই হবে।’
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে অন্য কোনও মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ‘আলোচনা চলছে’। তিনি বলেন, ‘ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারও কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুনীতির প্রতীক’ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ‘বিনাশকারী’ আখ্যা দেন রাহুল
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
আন্তর্জাতিক
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। এরপর তাঁর পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সংবিধানের বিধান অনুসারে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে ডেপুটি স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর দেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের এ প্রক্রিয়াকে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সরকারের নির্বাহী কার্যক্রম, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম পূর্বের মতোই চলমান থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পর তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান নির্ধারিত এই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি না করে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
জাতীয়
অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ | ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে স্পিকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করায় মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র বঙ্গভবন থেকে তাঁর সামরিক সচিব সংসদ সচিবালয়ে নিয়ে যান। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করেন। এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হওয়ার কথাও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলেও জানানো হয়।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তাঁর দায়িত্বকালে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। তাঁকে অপসারণের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সে সময়ের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। সরকার পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরালো হয়।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে স্পিকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান।
আলোচিত খবর
জামায়াত থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সেই সমালোচিত গাজী নজরুল ইসলাম; ইসিকে জানানো হবে সিদ্ধান্ত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও আলোচিত ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে একটি সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলটি আরও জানিয়েছে, বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে দলীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতেই এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোচিত খবর
ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার দাবি, হাইকোর্টের রুল জারি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।
এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান এ রিট আবেদন করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষমতাও রয়েছে, যেখানে তিনি তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে স্নাতক সম্পন্ন করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
জাতীয়
মোদির ক্ষমা প্রার্থনাসহ ৫ দফা আল্টিমেটাম ও অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি: রাহুল গান্ধী
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার, দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবি জানিয়ে বুধবারও (২২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
৫ দফা দাবির মধ্যে যা রয়েছে-
এক. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই. সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। তিন. সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। চার. বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা। এবং পাঁচ. যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হতে হচ্ছে? এগুলো একেবারেই যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এসব প্রশ্ন করার মধ্যে কোনও ভুল নেই।’
তিনি আরও বলেন, পুরো বিরোধী দল চায় বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভা- উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা হোক। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেয়া হয়। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে দুই ভাইবোনকে মুক্তি দেয়া হয়।
আটক অবস্থায় রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সেখানে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন।
পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, আলোচনার দাবিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এখন রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর মতো একজন নেতার জন্য এটি শোভনীয় নয়। তার মতো জ্যেষ্ঠ নেতা নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিট এবং এ-সংক্রান্ত আন্দোলনের সব বিষয় নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। কিন্তু রাহুল গান্ধীর আচরণ গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
এদিকে পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার, দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবি জানিয়ে বুধবারও (২২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এক. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই. সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। তিন. সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। চার. বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা। এবং পাঁচ. যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক
পাঁচ জেলার এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি বোর্ডের সব অবশিষ্ট পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব জেলার পরীক্ষাও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) দিনগত রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের সমস্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পরীক্ষা, মাদরাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরে জানানো হবে।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ছিল।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব জেলার পরীক্ষাও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
জাতীয়
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, সৌদি-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্তাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে জটিল করে তুলতে পারে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণেও পরমাণু অস্ত্রধারী এই দেশটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ বন্ধে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা করতে সহায়তা করেছিল। গত বছর দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও সই করেছে। ওই চুক্তির আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন বর্তমানে সৌদি আরবে মোতায়েন রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবে ইরানের হামলার ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে হুথিদের হামলার পর ইরান নিয়ে ইসলামাবাদের অসন্তোষ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে সৌদি আরব লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। এতে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলেও এখন পর্যন্ত সংঘাতটি ওই একটি ঘটনার মধ্যেই সীমিত রয়েছে।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটি আমাদের জন্য রেড লাইন।’
প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা ও প্রতিবেদনে কথা বলা অন্য কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, ‘উত্তেজনা এত দ্রুত বাড়বে, তা পাকিস্তান ধারণা করেনি।’
পাকিস্তানের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ইরানের আগের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের সর্বশেষ এই হামলা দেশটিকে (পাকিস্তানকে) সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি সৌদি এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন রয়েছেন এবং এই কারণে তারা এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এ ছাড়া ইসলামাবাদের আশঙ্কা, হুথিদের নেতৃত্বে উত্তেজনা বাড়লে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। পাকিস্তানসহ অনেক দেশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের স্বার্থের ওপর হামলা হতে পারে। আর তেমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করতে পারে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে ইরান দূতাবাস, যৌথ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ইরানের
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ঢাকায় অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত অন্যান্য মুসলিম দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় জল, প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি মানবিক সহায়তা দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের পাশে আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইরান দূতাবাস জানায়, মানবিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দূতাবাস আরও জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্বের অংশ। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরানের কূটনৈতিক মিশন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, দাতা প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশনগুলো ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ঢাকায় অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত অন্যান্য মুসলিম দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।






















































