মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে আইন ও ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

 

লিগ্যাল এইড ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “অ্যাক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।”

 

তিনি আরও জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের ভেতরের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।

 

বক্তব্যে তিনি নিজ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনি এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা শুধু আর্থিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে কারাগারে ছিলেন।

 

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে সমতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

 

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ ধরনের বক্তব্য বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সামনে আনে, তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সিএনএন জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ, তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।


আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় শেষবার দেখা যায় ২৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে। ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজের খবর জানানো হয়। পরে ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।


সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ পুলিশকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। কখনও তিনি দাবি করেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে সেদিন দেখেননি। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য সামনে আসার পর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রক্তের আলামত, ১৬ এপ্রিলের একটি কেনাকাটার রসিদ এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণের তথ্যও পেয়েছেন।


প্রসিকিউটররা আদালতে বলেছেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস।” তাদের দাবি, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত। মঙ্গলবারের প্রি ট্রায়াল শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হবে।


নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো শনাক্ত না হলেও হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণের জলপথ থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। যদিও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।


নিহত জামিল আহমেদ লিমন পরিবেশ ও জলাভূমি গবেষণায় কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী গবেষক ছিলেন। পরিবার বলছে, তারা শুধু সত্য জানতে চায়।


লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার, মরদেহ দেশে পাঠানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতাও চেয়েছে তারা।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট, মৃত্যু গোপন এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মামলাটি আরও গুরুতর মোড় নিয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।

 

Pic

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।’

 

জামায়াতের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সাথে ঢাকার বাইরে মিটিং করে তারা জনগণের জন্য কখনো কাজ করে না। যারা ৭১, ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয সতর্ক থাকতে হবে। 

আজ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সোমবার বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হাজার থেকে লাখ লাখ, এরপর লাখ লাখ থেকে কোটিতে পৌঁছাবে। এছাড়া বন্ধ অনেক কল-কারখানা কয়েক মাসের মধ্যে চালু করবে সরকার। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেস্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে এবার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একইসাথে তিনি বলেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করবে, এমন কাজ করতে দেয়া হবে না। কোনো টিকিট বিক্রি নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বিএনপি সরকার।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 

বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে জনগণ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।

 

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। 

পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভাল রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’

 

মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারাদেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দিব যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এখন তিনি শার্শার উলশি খাল খননের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ১২টায় শার্শায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। এরপর দুপুর ২টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।

 

সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’

 

নারী প্রধান পরিবারের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা আমাদের ওয়াদা রেখেছি। মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করব সকল গ্রাম, দেশের সকল গ্রামে সকল মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মায়ের কাছে প্রতি নারী পরিবারের প্রধানের কাছে আমরা মাসের পক্ষ থেকে ইনশাল্লাহ আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের দেখভাল করতে পারে, তাদের সন্তানের পড়াশোনা দেখাশুনা করতে পারে ভাল করে। তাদের সন্তানকে দু-চারটি ভাল ফল খাওয়াতে পারে যাতে করে তারা মা-বোনেরা একই সাথে সেই আড়াই হাজার টাকা থেকে ছোট ছোট উদ্যোক্তা গ্রহণ করতে পারেন-হাঁস পালন, মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালন এরকম কাজের মাধ্যমে যাতে মা-বোনদের একটা নিজের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হয় সেটি আমরা করতে চাই।’

 

কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক কল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক কল-কারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রফতানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেইসব দেশের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রফতানিতে গতি আনতে পারবো।

 

তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে-মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।

 

জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


এরপর দুপুর ২টায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই; তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হসপিটালটি যখন হবে, স্বাভাবিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ রোগীর ব্যান্ডেজ, ওষুধ বা অপারেশন থিয়েটারের যেসব বিষয় থাকে সেগুলো প্রোভাইড করা হবে। হয়তো দেখা যাবে রোগীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে; কিন্তু সরকারেরও একটা ক্যাপাসিটি আছে। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে প্রিভেনশনটার ওপর জোর দেবো। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করবো যাতে বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে কিভাবে দূরে রাখা সম্ভব। তাছাড়া আমরা চেষ্টা করছি প্রাইভেট পার্টনারশিপ। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকলে চিকিৎসার সুবিধা থেকে অনেককে বঞ্চিত হতে হয় বা হাসপাতালের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী সম্ভব হয় না। তাই যেটা করতে চাচ্ছি প্রথম পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং গুরুতর বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী প্রেরণ করা। সরকারের পক্ষ থেকেই আমরা সেই খরচ বহন করবো।

 

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যশোরে ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলো।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে আইন ও ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

 

লিগ্যাল এইড ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “অ্যাক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।”

 

তিনি আরও জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের ভেতরের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।

 

বক্তব্যে তিনি নিজ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনি এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা শুধু আর্থিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে কারাগারে ছিলেন।

 

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে সমতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

 

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ ধরনের বক্তব্য বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সামনে আনে, তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সিএনএন জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ, তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।


আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় শেষবার দেখা যায় ২৭ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে। ১৭ এপ্রিল তাদের নিখোঁজের খবর জানানো হয়। পরে ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।


সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ পুলিশকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। কখনও তিনি দাবি করেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে সেদিন দেখেননি। পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য সামনে আসার পর বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রক্তের আলামত, ১৬ এপ্রিলের একটি কেনাকাটার রসিদ এবং সন্দেহজনক কিছু উপকরণের তথ্যও পেয়েছেন।


প্রসিকিউটররা আদালতে বলেছেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস।” তাদের দাবি, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত। মঙ্গলবারের প্রি ট্রায়াল শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হবে।


নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো শনাক্ত না হলেও হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণের জলপথ থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। যদিও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।


নিহত জামিল আহমেদ লিমন পরিবেশ ও জলাভূমি গবেষণায় কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল তার। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী গবেষক ছিলেন। পরিবার বলছে, তারা শুধু সত্য জানতে চায়।


লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার, মরদেহ দেশে পাঠানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতাও চেয়েছে তারা।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট, মৃত্যু গোপন এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মামলাটি আরও গুরুতর মোড় নিয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন।

 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ তিন কোটিরও বেশি মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে অঙ্গীকার করেছেন। ইরানে শুরু হওয়া জন-অংশগ্রহণমূলক প্রচারণা ‘জান ফিদা বারয়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা গতরাতে ৩ কোটি অতিক্রম করেছে।

 

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইমাম রেজা (আ.) ও হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল (২৩ এপ্রিল) দেশপ্রেমিক জনতার ৩ কোটি সদস্যের একটি বাহিনী ইরানকে রক্ষার শপথ নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই রেকর্ডের মাধ্যমে ৩ কোটি মানুষ প্রিয় ইরানের জন্য আত্মোৎসর্গ করতে এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুজতাবা খামেনেয়ির নির্দেশ মেনে চলতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে।

 

উল্লেখ্য, ‘জানফেদা’ (আত্মোৎসর্গ) প্রচারণা শুরু হয়েছিল চাপানো যুদ্ধের তৃতীয় পর্বের সময় শত্রুর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ জেহাদে স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে। প্রচারণাটি ইরানের দেশপ্রেমিক জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এজন্য একটি নিবন্ধন ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যা এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই ব্যবস্থায় এখনো মানুষ নিবন্ধন করছেন, যার ফলে আজ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩ কোটি এক লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে।

 

এই কর্মসূচির প্রতীকী গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে নাম নিবন্ধন করেন। যুদ্ধে অংশ নিতে নাম লেখানোর পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এক বক্তব্যে বলেন, “গর্বিত ইরানিরা জীবন উৎসর্গ করতে নিবন্ধন করেছেন। আমিও আমার জীবন ইরানের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

 

ইরানি গণমাধ্যমে এটিকে জনগণের সঙ্গে নেতৃত্বের সংহতির বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই একই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।

 

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বিস্ময়কর সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এর মাধ্যমে শত্রুরা উপলব্ধি করবে যে, অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়লে ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলে।#
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। 

 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি, অবস্থান পরিবর্তন এবং সামরিক চাপের কারণে আলোচনা এগোনোর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই বলে মনে করছে তেহরান। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নৌ অবরোধ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

 

ইরনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসায় আগের আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তাদের মতে, এসব আচরণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কোনো স্থিতিশীল সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়নি।

 

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ইরানের দাবি, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, “অযৌক্তিক দাবি এবং নৌ অবরোধ বহাল রেখে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।” অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তিতে না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক মন্তব্যে বলেন, “চুক্তি না হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে।”

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং এএফপি জানিয়েছে, আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ইরান এ ধরনের বৈঠককে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে ওয়াশিংটন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে আলোচনায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে, যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের এই অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত করছে। বিশেষ করে সামরিক উপস্থিতি এবং অবরোধের মতো বিষয়গুলো আলোচনার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

 

এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
 

Add

Site Counter

Online

40

Total

48k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ টাঙ্গাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।

 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যাখলি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা জজ আদালতের সভা কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আবদুল মজিদ, জেলা পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, জেলা সিভিল সার্জন এফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মিনহাজ উদ্দিন ফরাজি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম, আদালতের সরকারি কৌশলী শফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

 

এ অনুষ্ঠানে বিচারক, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
 


Pic

সাহাফ আল তাইফ, স্পোর্টস রিপোর্টার:
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা Lionel Messi এবং Cristiano Ronaldo আবারও ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাদের দুজনেরই লক্ষ্য এখন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক—ক্যারিয়ারে ৯০০ গোল।

 

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতোমধ্যেই ৮৫০+ অফিসিয়াল গোল করে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে অবস্থান করছেন। বর্তমানে Al-Nassr-এর হয়ে খেলা এই পর্তুগিজ তারকা এখনো দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

 

অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে ৮০০+ গোল পূর্ণ করেছেন। বর্তমানে Inter Miami CF-এর হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা গোল করার পাশাপাশি প্লেমেকার হিসেবেও সমানভাবে অবদান রাখছেন।

 

যদিও এখনো কেউই ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, তবে রোনালদো সেই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। মেসির ক্ষেত্রেও এটি সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ খেলার ধারাবাহিকতার ওপর।

 

একসময় যে ৯০০ গোল ছিল প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্য, এখন সেটিই বাস্তবের খুব কাছাকাছি—যা সম্ভব হয়েছে এই দুই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং অসাধারণ দক্ষতার কারণে।
 

‘যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে: যশোরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।’

 

জামায়াতের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সাথে ঢাকার বাইরে মিটিং করে তারা জনগণের জন্য কখনো কাজ করে না। যারা ৭১, ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয সতর্ক থাকতে হবে। 

আজ ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সোমবার বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হাজার থেকে লাখ লাখ, এরপর লাখ লাখ থেকে কোটিতে পৌঁছাবে। এছাড়া বন্ধ অনেক কল-কারখানা কয়েক মাসের মধ্যে চালু করবে সরকার। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেস্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে এবার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একইসাথে তিনি বলেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করবে, এমন কাজ করতে দেয়া হবে না। কোনো টিকিট বিক্রি নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বিএনপি সরকার।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ সমর্থন দিয়েছে। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 

বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে জনগণ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।

 

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। 

পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভাল রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’

 

মা-বোনদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারাদেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দিব যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এখন তিনি শার্শার উলশি খাল খননের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ১২টায় শার্শায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। এরপর দুপুর ২টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।

 

সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে এই উলশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা তরুণরা হোক বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’

 

নারী প্রধান পরিবারের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা আমাদের ওয়াদা রেখেছি। মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করব সকল গ্রাম, দেশের সকল গ্রামে সকল মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মায়ের কাছে প্রতি নারী পরিবারের প্রধানের কাছে আমরা মাসের পক্ষ থেকে ইনশাল্লাহ আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা তাদের সন্তানদের দেখভাল করতে পারে, তাদের সন্তানের পড়াশোনা দেখাশুনা করতে পারে ভাল করে। তাদের সন্তানকে দু-চারটি ভাল ফল খাওয়াতে পারে যাতে করে তারা মা-বোনেরা একই সাথে সেই আড়াই হাজার টাকা থেকে ছোট ছোট উদ্যোক্তা গ্রহণ করতে পারেন-হাঁস পালন, মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালন এরকম কাজের মাধ্যমে যাতে মা-বোনদের একটা নিজের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হয় সেটি আমরা করতে চাই।’

 

কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেব। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনেক কল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক কল-কারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রফতানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেইসব দেশের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রফতানিতে গতি আনতে পারবো।

 

তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে-মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করেছি। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি জবান আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।

 

জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


এরপর দুপুর ২টায় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা। আমরা যদি দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই; তাহলে সুস্থ একটি জাতি প্রয়োজন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হসপিটালটি যখন হবে, স্বাভাবিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ রোগীর ব্যান্ডেজ, ওষুধ বা অপারেশন থিয়েটারের যেসব বিষয় থাকে সেগুলো প্রোভাইড করা হবে। হয়তো দেখা যাবে রোগীর সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ছে; কিন্তু সরকারেরও একটা ক্যাপাসিটি আছে। সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে প্রিভেনশনটার ওপর জোর দেবো। আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করবো যাতে বড় বড় অসুখ-বিসুখ থেকে কিভাবে দূরে রাখা সম্ভব। তাছাড়া আমরা চেষ্টা করছি প্রাইভেট পার্টনারশিপ। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকলে চিকিৎসার সুবিধা থেকে অনেককে বঞ্চিত হতে হয় বা হাসপাতালের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী সম্ভব হয় না। তাই যেটা করতে চাচ্ছি প্রথম পর্যায়ে ভর্তি হওয়া এবং গুরুতর বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী প্রেরণ করা। সরকারের পক্ষ থেকেই আমরা সেই খরচ বহন করবো।

 

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ভিত্তি প্রস্থর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যশোরে ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলো।
 

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের তালিকা প্রকাশ: মনোনয়ন পেলেন ১৩ জন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সোমবার (২০ এপ্রিল) জোটের পক্ষ থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে জামায়াত থেকে ৮ জন এবং শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে আরও ৫ জন মনোনয়ন পেয়েছেন।

 

জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংরক্ষিত আসনে এবার নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলীয় ও জোটগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। জামায়াতের মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার।

 

জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিমও তালিকায় আছেন। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে জুলাইয়ের শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের নাম, যাকে একটি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জোট।

 

জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন পটভূমি বিবেচনায় রেখে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একজন নেতা বলেন, “এবার আমরা এমনভাবে মনোনয়ন দিয়েছি, যাতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর হয় এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ সংসদে কথা বলার সুযোগ পায়।”

 

প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জোটটি সাধারণ আসনে জয় পাওয়ার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩টি আসন পেয়েছে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে এই আসনগুলো বণ্টন করা হয়।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় দলীয় নেত্রীদের পাশাপাশি সামাজিক প্রতীকী গুরুত্ব থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি জোটের কৌশলগত বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে সংসদে তাদের ভূমিকা কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
 

এনসিপি তাদের দলে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে এর কোন ভিত্তি নেই: রুমিন ফারহানা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এনসিপিতে (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) যোগদানের গুঞ্জনের একেবারেই কোনো ভিত্তি নেই। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা বা প্রচার হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) টক শো’তে অংশ নিয়ে তিনি গতকাল শুক্রবার এ কথা বলেন।  রুমিন ফারহানা বলেন, এটা একেবারেই গুঞ্জন, একেবারেই গুজব। এটার সঙ্গে ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই। 

 

রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপি ছেড়ে দেওয়া বা বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই অন্য অনেক দল এপ্রোচ করবে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপিও কিছুটা করেছে। ওরা বারবারই বলেছে আপা চলে আসেন আমাদের সাথে। আসেন আমরা একসাথে কাজ করি। আপনি জুলাই মাঠে ছিলেন। আপনার বাসা ভাঙচুর হয়েছে। আপনি একজন ফ্রন্টলাইনার। সো আপনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন। আমি তাদের এপ্রোচে হেসেছি। এটা নিয়ে কথা বাড়াইনি।”

 

এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার আরও স্পেস তৈরি হবে কিনা- এম প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু কথা বলার সুযোগের জন্য আমি কোনো জোটে যোগ দেব না। কথা বলার জন্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম আছে’ সেখানে আমি কথা বলতে পারি। কিন্তু আমার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা বিসর্জন দিয়ে কেবল সংসদে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো দলে যোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭