সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রির একমাত্র পথ বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার। কিন্তু বাস্তবে যশোরের হাট-বাজার, দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন সার। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বস্তা প্রতি বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।

 

সরকারি হিসাবে গুদামে সারের মজুদ দ্বিগুণ। অথচ মাঠের সাব-ডিলাররা বলছেন, চাহিদার ২০ থেকে ৬০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না। তাহলে খোলা বাজারে এত সার যাচ্ছে কীভাবে?

 

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) সার বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খোলা বাজারে বা লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে সার বিতরণ ও বিক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। এটি কেবল অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলার, বিএডিসির ডিলার এবং তাঁদের অধীনে থাকা খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়ার কথা।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের আটটি উপজেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।

 

কিন্তু যশোর পরিসংখ্যান ব্যুরো অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় ছোট-বড় মোট সার ও কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা ১১৭১টি। এর মধ্যে বিসিআইসির ১৪১ ও বিএডিসির ১৬২ বাদ দিলে অনুমোদনহীন সার-কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬৮টি।

সদর উপজেলার দেওয়াড়া ইউনিয়নের চাঁন্দুটিয়া গ্রামের কৃষক ওসমান আলী বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

 

সদর উপজেলার চাঁন্দুটিয়া বাজারের বিসিআইসির খুচরা সার বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, “আমরা ডিলার থেকে সার চাহিদা অনুযায়ী আনতে গেলে সার কম পাই। কারণ আমরা সরাসরি কৃষকের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ডিলাররা ৫০% সার কৃষকের কাছে, ৫০% সাব ডিলারদের মাঝে বিক্রি করে। অধিক মুনাফার আশায় কিছু কিছু ডিলার রাতের আঁধারে তাদের পছন্দমত অনুমোদনহীন দোকানদারদের কাছে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়।”

 

একই উপজেলার এড়েন্দা বাজারের বিএডিসির সাব ডিলার ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা জানি সে কৃষক না ব্যবসায়ী, তারপরেও তার কাছে আমাদের সার বিক্রি করতে হচ্ছে।”

 

চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রহমত স্টোরের সত্ত্বাধিকারী রহমতুল্লাহ বলেন, “আমার ইউনিয়নে সাব ডিলারের সংখ্যা ১৩ জন, কৃষকের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ৫০% সাব ডিলার, ৫০% সরাসরি কৃষকদের মাঝে বিক্রি করি। তবে চাহিদার তুলনায় সার অনেক কম পাচ্ছি। কিছু সার বিভিন্ন কারণে বাইরে বিক্রি করতে হয়।”

 

একই উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মেসার্স ফরিদুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে মোট সাব ডিলার ১০ জন। আমার সারের তেমন সমস্যা হয় না। তবে আমাদের ডিলারদের মধ্যে অনেক ডিলার আছে যারা সার কৃষকের মাঝে বিক্রির কথা থাকলেও খোলা বাজারে অধিক লাভের কারণে বিক্রি করে দিচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, অনেকেই নামে মাত্র ডিলার তার সার তুলে অন্য খানে বিক্রি করে দিচ্ছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী বলেন, “ডিলাররা গুদাম থেকে সার ক্রয় করে ইউরিয়া ৫০ কেজি ১২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা, টিএসপি ১৩০০ টাকা, এমওপি ৯০০ টাকা। ডিলার পয়েন্ট থেকে সাব ডিলার ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৩০ টাকা, ডিএপি ৯৮০ টাকা, টিএসপি ১৩৩০ টাকা, এমওপি ৯৫০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে কৃষক ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৫০ টাকা, ডিএপি ১০৫০ টাকা, টিএসপি ১৩৫০ টাকা, এমওপি ১০০০ টাকা। কিন্তু আমরা যখন ডিলারদের থেকে সার ক্রয় করি, কৃষক যে মূল্যে সার ক্রয় করে তার থেকে প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে সার ক্রয় করি। আমাদের কোনো পাকা ক্যাশ মেমো দেওয়া হয় না।”


তিনি আরও বলেন, _“কৃষি বিভাগের লোকজন যখন বাজার মনিটরিং করতে আসে, আগে ভাগেই জানতে পারি এবং দোকান বন্ধ করে চলে যাই। আমি খোলা বাজারে বিক্রি করছি ইউরিয়া ৫০ কেজি ১৪৫০ টাকা, ডিএপি ১১৫০ টাকা, টিএসপি ১৬০০ টাকা, এমওপি ১১৫০ টাকা। যেমন কিনছি তেমন বিক্রি করছি।”

 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল বাজারের মেসার্স মোনোয়ারা ট্রেডিং, মালিগাতী বাজারের মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্স, ফুলসারা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ্ ট্রেডার্স, সুখপুকুরি ইউনিয়নের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, সদর উপজেলার শরিফুল ট্রেডার্স, মনিরামপুরের লিটন এন্টারপ্রাইজ, বাঘারপাড়ার মোল্যা এন্টারপ্রাইজ ও সেলিম ট্রেডার্স, ঝিকরগাছার মোস্তফা এন্টারপ্রাইজসহ জেলার অধিকাংশ বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে খোলা বাজারে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

 

ফুলসারা, সলুয়া, সিংহঝুলি বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদিত সাব-ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ একই এলাকায় মল্লিক ট্রেডার্স, সদ্দার ট্রেডার্স, বিল্লাল ট্রেডার্স সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে খোলা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সহজেই সার পাওয়া যাচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-ডিলার জানান, “আমরা বর্তমানে চরম সংকটে আছি। কৃষক পর্যায়ে ৫০ কেজি ইউরিয়ার সরকারি খুচরা মূল্য ১,৩৫০ টাকা। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে অনেক সময় ক্যাশ মেমো ছাড়াই ১,৩৪০ টাকায় সার সংগ্রহ করতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৫ থেকে ২০ টাকা যোগ হয়। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

 

বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

 

গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না।

 

সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।

 

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, “আমাদের প্রতিটি ডিলার ও সাব ডিলার পয়েন্টে সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। ন্যায্য দামের চেয়ে বেশি দাম দিলে ফোন করে জানাতে ও ক্যাশ মেমো নিতে বলা হয়েছে। কোনো কৃষক অভিযোগ করলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

 

অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন* বলেন, _“প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং আমি নিজে মাঠে থেকে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সমস্যা বা সংকট নেই। এখন মাঠে সারের চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। যদি কোথাও কোনো সমস্যা থাকে, কৃষক বা কেউ জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার বিতরণে স্বচ্ছতা না থাকলে ভর্তুকির সুফল কৃষক পাবে না। ডিলার-সাবডিলার নিয়োগ, বরাদ্দ ও বিতরণে ডিজিটাল মনিটরিং, প্রতিটি বস্তায় কিউআর কোড এবং অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু করা জরুরি। পাশাপাশি অনুমোদনহীন দোকানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

 

গুদামে সার, নীতিমালায় কড়াকড়ি, তবুও খোলা বাজারে সারের ছড়াছড়ি। ডিলার থেকে সাব-ডিলার হয়ে অনুমোদনহীন দোকানদার পর্যন্ত পৌঁছানো এই সারের চেইন ভাঙতে না পারলে সরকারের ভর্তুকি আর কৃষকের ঘাম দুটোই বৃথা যাবে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি নিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

আজ সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

 

বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন ঘটনার সময় বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটাতে সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে কারখানাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। ফলে ভেতরে থাকা বাকি ১৬ জনের কেউ আর বের হতে পারেননি।

 

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যান। বাকিরা কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

 

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফরিদ, শুভ, মো. রুবেল প্রামাণিক, সুমন, মো. কলিম উদ্দিন, মো. মোহন, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল রয়েছেন।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

 

মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ফলে রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
 

Pic

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

 

সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সহস্র অজুত লক্ষ জনতার ঢল! খুলনা মহানগরী সর্বত্রো যেন ১১ দলীয় জোটের দখলে। খুলনা বিভাগের উত্তর অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মাগুরা, এই জেলার সর্বশেষ উপজেলা হলো শ্রীপুর উপজেলা। এই উপজেলার বরিশাট গ্রাম থেকে সমাবেশে এসেছিলো ৫৫: বছর বয়সী প্যারালাইসে অসুস্থ্য মোঃ শহীদুল ইসলাম। মোঃ শহীদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শাহাদত বরণ কারী ইদ্রিস আলী মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার পুর্বেই তার পিতা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হন! তিনি বলেন এই প্রচন্ড গরমে এসেছিলাম খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে, এসে দেখি সমাবেশ তো না এ যেন জনসমুদ্র! মাগুরা শহর থেকে এসেছিলেন ইন্জিনিয়ার মুজাহিদ, উনি বলেন আমি বহুদিন যাবৎ খুলনায় আসা-যাওয়া করি, অনেক মিটিং সিটিং দেখেছি,কিন্ত এত লোক আর দেখিনি।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সাবেক এম পি মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক বাংলাদেশের রুপকার আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান এম পি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এল ডি পি'র চেয়ারম্যান বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ, এন সি পি'র মুখ্য সংগঠক মোঃ নাসিরুউদ্দিন পাটয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নগদ অর্থের সংকটে পড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। চলতি হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়া এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত বা সিআরআর পূরণে ব্যর্থতার কারণে এ জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে তারল্য পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া নির্ধারিত নগদ সংরক্ষণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আর্থিক সূচক নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের হার বেড়েছে, যা তারল্য ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।

 

চলতি হিসাবে দ্রুত কমছে অর্থ, চাপ সিআরআর ঘাটতিতে
ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা চলতি হিসাব বা প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এই বড় পতনের কারণে বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক। তবে সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আমরা তারল্য সহায়তা চেয়েছি।”

 

সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হয়েছে। ঈদ পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসেই এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

অনিয়মের অতীত ও নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা
ব্যাংকটির সংকট নতুন নয়। ২০২২ সাল থেকেই এস আলম গ্রুপের সময়কার নামে বেনামে ঋণ বিতরণ এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটি তারল্য চাপে পড়ে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সুশাসন ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ব্যাংকটিতে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনে। এরপর ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

 

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি অংশ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে, যা টানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

 

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সহায়তার আবেদন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ব্যাংকে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

এদিকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। 
 

আলোচিত খবর

Pic

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রির একমাত্র পথ বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার। কিন্তু বাস্তবে যশোরের হাট-বাজার, দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন সার। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বস্তা প্রতি বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।

 

সরকারি হিসাবে গুদামে সারের মজুদ দ্বিগুণ। অথচ মাঠের সাব-ডিলাররা বলছেন, চাহিদার ২০ থেকে ৬০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না। তাহলে খোলা বাজারে এত সার যাচ্ছে কীভাবে?

 

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) সার বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খোলা বাজারে বা লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে সার বিতরণ ও বিক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। এটি কেবল অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলার, বিএডিসির ডিলার এবং তাঁদের অধীনে থাকা খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারদের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়ার কথা।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের আটটি উপজেলার ১০১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।

 

কিন্তু যশোর পরিসংখ্যান ব্যুরো অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় ছোট-বড় মোট সার ও কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা ১১৭১টি। এর মধ্যে বিসিআইসির ১৪১ ও বিএডিসির ১৬২ বাদ দিলে অনুমোদনহীন সার-কীটনাশকের দোকানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬৮টি।

সদর উপজেলার দেওয়াড়া ইউনিয়নের চাঁন্দুটিয়া গ্রামের কৃষক ওসমান আলী বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।”

 

সদর উপজেলার চাঁন্দুটিয়া বাজারের বিসিআইসির খুচরা সার বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, “আমরা ডিলার থেকে সার চাহিদা অনুযায়ী আনতে গেলে সার কম পাই। কারণ আমরা সরাসরি কৃষকের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ডিলাররা ৫০% সার কৃষকের কাছে, ৫০% সাব ডিলারদের মাঝে বিক্রি করে। অধিক মুনাফার আশায় কিছু কিছু ডিলার রাতের আঁধারে তাদের পছন্দমত অনুমোদনহীন দোকানদারদের কাছে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়।”

 

একই উপজেলার এড়েন্দা বাজারের বিএডিসির সাব ডিলার ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা জানি সে কৃষক না ব্যবসায়ী, তারপরেও তার কাছে আমাদের সার বিক্রি করতে হচ্ছে।”

 

চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রহমত স্টোরের সত্ত্বাধিকারী রহমতুল্লাহ বলেন, “আমার ইউনিয়নে সাব ডিলারের সংখ্যা ১৩ জন, কৃষকের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ৫০% সাব ডিলার, ৫০% সরাসরি কৃষকদের মাঝে বিক্রি করি। তবে চাহিদার তুলনায় সার অনেক কম পাচ্ছি। কিছু সার বিভিন্ন কারণে বাইরে বিক্রি করতে হয়।”

 

একই উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মেসার্স ফরিদুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নে মোট সাব ডিলার ১০ জন। আমার সারের তেমন সমস্যা হয় না। তবে আমাদের ডিলারদের মধ্যে অনেক ডিলার আছে যারা সার কৃষকের মাঝে বিক্রির কথা থাকলেও খোলা বাজারে অধিক লাভের কারণে বিক্রি করে দিচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, অনেকেই নামে মাত্র ডিলার তার সার তুলে অন্য খানে বিক্রি করে দিচ্ছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী বলেন, “ডিলাররা গুদাম থেকে সার ক্রয় করে ইউরিয়া ৫০ কেজি ১২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা, টিএসপি ১৩০০ টাকা, এমওপি ৯০০ টাকা। ডিলার পয়েন্ট থেকে সাব ডিলার ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৩০ টাকা, ডিএপি ৯৮০ টাকা, টিএসপি ১৩৩০ টাকা, এমওপি ৯৫০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে কৃষক ক্রয় করে ইউরিয়া ১৩৫০ টাকা, ডিএপি ১০৫০ টাকা, টিএসপি ১৩৫০ টাকা, এমওপি ১০০০ টাকা। কিন্তু আমরা যখন ডিলারদের থেকে সার ক্রয় করি, কৃষক যে মূল্যে সার ক্রয় করে তার থেকে প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে সার ক্রয় করি। আমাদের কোনো পাকা ক্যাশ মেমো দেওয়া হয় না।”


তিনি আরও বলেন, _“কৃষি বিভাগের লোকজন যখন বাজার মনিটরিং করতে আসে, আগে ভাগেই জানতে পারি এবং দোকান বন্ধ করে চলে যাই। আমি খোলা বাজারে বিক্রি করছি ইউরিয়া ৫০ কেজি ১৪৫০ টাকা, ডিএপি ১১৫০ টাকা, টিএসপি ১৬০০ টাকা, এমওপি ১১৫০ টাকা। যেমন কিনছি তেমন বিক্রি করছি।”

 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল বাজারের মেসার্স মোনোয়ারা ট্রেডিং, মালিগাতী বাজারের মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্স, ফুলসারা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ্ ট্রেডার্স, সুখপুকুরি ইউনিয়নের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স, সদর উপজেলার শরিফুল ট্রেডার্স, মনিরামপুরের লিটন এন্টারপ্রাইজ, বাঘারপাড়ার মোল্যা এন্টারপ্রাইজ ও সেলিম ট্রেডার্স, ঝিকরগাছার মোস্তফা এন্টারপ্রাইজসহ জেলার অধিকাংশ বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে খোলা বাজারে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

 

ফুলসারা, সলুয়া, সিংহঝুলি বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদিত সাব-ডিলাররা কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ একই এলাকায় মল্লিক ট্রেডার্স, সদ্দার ট্রেডার্স, বিল্লাল ট্রেডার্স সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে খোলা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সহজেই সার পাওয়া যাচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-ডিলার জানান, “আমরা বর্তমানে চরম সংকটে আছি। কৃষক পর্যায়ে ৫০ কেজি ইউরিয়ার সরকারি খুচরা মূল্য ১,৩৫০ টাকা। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে অনেক সময় ক্যাশ মেমো ছাড়াই ১,৩৪০ টাকায় সার সংগ্রহ করতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৫ থেকে ২০ টাকা যোগ হয়। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

 

বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

 

গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশও সার পাচ্ছেন না।

 

সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।

 

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, “আমাদের প্রতিটি ডিলার ও সাব ডিলার পয়েন্টে সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। ন্যায্য দামের চেয়ে বেশি দাম দিলে ফোন করে জানাতে ও ক্যাশ মেমো নিতে বলা হয়েছে। কোনো কৃষক অভিযোগ করলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

 

অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন* বলেন, _“প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং আমি নিজে মাঠে থেকে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সমস্যা বা সংকট নেই। এখন মাঠে সারের চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। যদি কোথাও কোনো সমস্যা থাকে, কৃষক বা কেউ জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার বিতরণে স্বচ্ছতা না থাকলে ভর্তুকির সুফল কৃষক পাবে না। ডিলার-সাবডিলার নিয়োগ, বরাদ্দ ও বিতরণে ডিজিটাল মনিটরিং, প্রতিটি বস্তায় কিউআর কোড এবং অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু করা জরুরি। পাশাপাশি অনুমোদনহীন দোকানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

 

গুদামে সার, নীতিমালায় কড়াকড়ি, তবুও খোলা বাজারে সারের ছড়াছড়ি। ডিলার থেকে সাব-ডিলার হয়ে অনুমোদনহীন দোকানদার পর্যন্ত পৌঁছানো এই সারের চেইন ভাঙতে না পারলে সরকারের ভর্তুকি আর কৃষকের ঘাম দুটোই বৃথা যাবে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি নিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

আজ সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

 

বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন ঘটনার সময় বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটাতে সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে কারখানাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। ফলে ভেতরে থাকা বাকি ১৬ জনের কেউ আর বের হতে পারেননি।

 

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যান। বাকিরা কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

 

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফরিদ, শুভ, মো. রুবেল প্রামাণিক, সুমন, মো. কলিম উদ্দিন, মো. মোহন, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল রয়েছেন।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

 

মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ফলে রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।  তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। খবর এনডিটিভির। 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করেই সিজেপি এবং কেন্দ্রের মধ্যকার আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।

 

আজ শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) সকালে সিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে রাজি না হলে কোনও আলোচনাই হতে পারে না।

 

এর আগে লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের ‘তিনটি দাবি রয়েছে, যেগুলোতে কোনও আপস করা চলবে না’। শিক্ষার্থী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে গান্ধী বলেন, ‘প্রথম দাবিটি হলো—এই শিক্ষামন্ত্রী, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং দায়িত্বহীন, তাকে বরখাস্ত করতেই হবে।’

 

কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে অন্য কোনও মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ‘আলোচনা চলছে’। তিনি বলেন, ‘ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারও কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুনীতির প্রতীক’ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ‘বিনাশকারী’ আখ্যা দেন রাহুল
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার, দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবি জানিয়ে বুধবারও (২২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

 

৫ দফা দাবির মধ্যে যা রয়েছে-
এক. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দুই. সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। তিন. সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। চার. বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা। এবং পাঁচ. যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।

 

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হতে হচ্ছে? এগুলো একেবারেই যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এসব প্রশ্ন করার মধ্যে কোনও ভুল নেই।’

 

তিনি আরও বলেন, পুরো বিরোধী দল চায় বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভা- উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা হোক। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’


রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

 

আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেয়া হয়। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে দুই ভাইবোনকে মুক্তি দেয়া হয়।

 

আটক অবস্থায় রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। 

 

এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সেখানে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার দাবিগুলো শোনেন।

 

পরে জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, আলোচনার দাবিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এখন রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর মতো একজন নেতার জন্য এটি শোভনীয় নয়। তার মতো জ্যেষ্ঠ নেতা নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘নিট এবং এ-সংক্রান্ত আন্দোলনের সব বিষয় নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। কিন্তু রাহুল গান্ধীর আচরণ গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

 

এদিকে পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি

 

Add

Site Counter

Online

46

Total

61k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় স্ত্রী স্বপ্না হত্যায় দয়ের করা মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৯ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

 

জানা গেছে, ১৫ বছর আগে বাসাইল উপজেলার সামাদ মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমান (৩৭) এর সঙ্গে স্বপ্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া কলহ লেগে থাকত। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীনুর তার স্ত্রী স্বপ্নাকে শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত করে পালিয়ে যায়।

 

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত স্বপ্নাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মন্নান মিয়া বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

 

মামলার ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে বিচারক স্বামী শাহিনুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়াও তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। টাঙ্গাইলের কোর্ট ইনস্পেক্টর আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 


Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত "জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬"-এর ফাইনাল ম্যাচ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিরোপা নির্ধারণী এ ম্যাচে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ১-০ গোলের ব্যবধানে গোপালপুর উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

 

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফুল হক, এমপি, টাঙ্গাইল-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ লুৎফর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রবিউল আওয়াল।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, টাঙ্গাইল জনাব শরীফা হক।

 

খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তাঁরা খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রেখে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অংশগ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে সফলভাবে পর্দা নামল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর।

 

টুর্নামেন্টের সমাপনী আয়োজনকে ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ, রূপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ ২০ জুন শনিবার দুপুরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদূর্ভোগ লাগব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবীতে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ছিলো ১১ দলীয় জোটের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ রুপ নিয়েছিলো জনসমুদ্রে!

 

সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার সহস্র অজুত লক্ষ জনতার ঢল! খুলনা মহানগরী সর্বত্রো যেন ১১ দলীয় জোটের দখলে। খুলনা বিভাগের উত্তর অঞ্চলের সর্বশেষ জেলা মাগুরা, এই জেলার সর্বশেষ উপজেলা হলো শ্রীপুর উপজেলা। এই উপজেলার বরিশাট গ্রাম থেকে সমাবেশে এসেছিলো ৫৫: বছর বয়সী প্যারালাইসে অসুস্থ্য মোঃ শহীদুল ইসলাম। মোঃ শহীদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে শাহাদত বরণ কারী ইদ্রিস আলী মোল্লার কনিষ্ঠ পুত্র। সে এই পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার পুর্বেই তার পিতা যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হন! তিনি বলেন এই প্রচন্ড গরমে এসেছিলাম খুলনার এই বিভাগীয় সমাবেশে, এসে দেখি সমাবেশ তো না এ যেন জনসমুদ্র! মাগুরা শহর থেকে এসেছিলেন ইন্জিনিয়ার মুজাহিদ, উনি বলেন আমি বহুদিন যাবৎ খুলনায় আসা-যাওয়া করি, অনেক মিটিং সিটিং দেখেছি,কিন্ত এত লোক আর দেখিনি।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী সাবেক এম পি মিয়া গোলাম পরোয়ারের সভাপতিত্বে বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক বাংলাদেশের রুপকার আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান এম পি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোঃ মোবারক হুসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এল ডি পি'র চেয়ারম্যান বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদ, এন সি পি'র মুখ্য সংগঠক মোঃ নাসিরুউদ্দিন পাটয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
 

দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে, এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে: গভর্ণর মোস্তাকুর রহমান

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, “দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”

 

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রাহকরা ব্যাংক আমানত রাখতে আস্থা রাখতে পাচ্ছেন না, কারণ অনেকে বলছেন-গভর্নর নিজেই তো ঋণ খেলাপি। গভর্নর বলেন, “আমি ইনভলভ ছিলাম একটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিগ সার্টিফিকেট (অর্থাৎ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে)। এখানে দুই ধরনের বিষয় আছে। একটা হচ্ছে ওভারভিউ হয়ে বিলম্ব হওয়া সেটা এক জিনিস। আরেকটা হচ্ছে ঋণ খেলাপি, বিবিএল হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি একদিনের জন্য এক্সপোর্ট বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরির এক মাসের জন্য বেতন দিতে দেরি হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই ফ্যাক্টরি ব্যাংকের কাছে এক টাকা ঋণ মওকুফ চায় নাই।”

 

‘শুধু যেটা হয়েছে, সেই কারখানা প্রথম শুরুতে অর্থায়ন করেছিল এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে। যেখানে সুদের হার ছিল ৪ শতাংশ। ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরে ব্যাংক জানায় যে, ওই ফান্ডটা শেষ হয়ে গেছে। আপনাদের এখন ৯ থেকে ১১ শতাংশ সুদ দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে রিপেমেন্ট আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই। সেটা বিলন্ব হয়েছে এবং সেখানে কোভিড (করোনাভাইরাস) ছিল। এছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তবে, এটা নিশ্চিত থাকেন যে আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চায়নি। সেই প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও করে দিছে। সুতরাং বলতে-বলতে একটা মিথ্যা কথাকে অনেক সময় সত্য করে ফেলি’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ সময় গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন। আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

তিনি জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 

ভারত খুনি রাষ্ট্র, বিএসএফ খুনি বাহিনী’: সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি। বুধবার দুপুরে যশোরের বেনাপোলের উত্তেজনাপূর্ণ সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। কোনো সভ্য দেশ এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা মেনে নিতে পারে না। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

 

বুধবার দুপুরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্তে যান। তার আগমনের খবরে স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগান দিতে থাকে।  

 

পরিদর্শনকালে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি গিয়ে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।   

 

সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। এখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই, ভালো স্কুল নেই, কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না।”  

 

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বরং ভারতীয় চোরাকারবারিরাই এসব অপকর্ম করে এবং পরে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর দোষ চাপায়। এরপর বিএসএফ তাদের গুলি করে মারে। এটা পরিকল্পিত হত্যা।”  

 

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের মনোবল চাঙা রাখতে হবে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না।”  

 

বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মতে, সীমান্তরক্ষীদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, নাইট ভিশন সরঞ্জাম, ড্রোন ও দ্রুতগামী পেট্রোলিং কার সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন কাঠামো বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। “যারা জীবন বাজি রেখে সীমান্ত পাহারা দেয়, তাদের পরিবার যেন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে”, বলেন নাসীরুদ্দীন।    

 

বিগত সময়ে সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি অপরাধ করেও থাকে, তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। রাষ্ট্র কারও জীবন নেওয়ার অধিকার রাখে না বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া।”  

 

তিনি আরও বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়, চোরাচালান ঠেকাতে গুলি চালানো হয়। কিন্তু নিহতদের মধ্যে কৃষক, রাখাল, এমনকি শিশুও আছে। এর কোনো জবাব ভারত দিতে পারে না।” 

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, “৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।”  

 

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত সমস্যাকে কেবল বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।  

 

উল্লেখ্য, গত রোববার ৩১ মে দিনগত রাত থেকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে জড়ো করে বিএসএফ। পরে তাদের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। টানা তিন দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ জড়ো করা লোকজনকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নেয়।  

 

এ ঘটনার পর থেকে বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে কেউ দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পার না হয়।  

 

সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, “আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। রাতে ঘুমাতে পারি না। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগে। বিএসএফ যখন তখন ধরে নিয়ে যায়, মারে।”  

 

আরেক বাসিন্দা ফাতেমা বেগম জানান, “আমার স্বামী গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে তিন বছর আগে। আজও বিচার পাইনি। নেতারা আসলে একটু সাহস পাই।”  

 

সীমান্ত পরিদর্শন শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটা জাতীয় ইস্যু। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমরা চাই সরকার দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে এসে কঠোরভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করুক।”  
পরিদর্শনকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, যশোর জেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭