শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২

Logo
Add Image
Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান তার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

 

ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব মিলিতভাবে প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এ বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ নির্বাচন আমাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রার সূচনা করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন ছিল। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে- জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাবো।
 

Pic

-আশরাফুর রহমান
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গাদ্দাফি পরিবারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

লিবিয়ার আল-আহরার টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে হামাদাহ এলাকায় সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি ড্রোন (UAV) হামলা অথবা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হতে পারেন। তবে এখনো হামলার ধরন ও হামলাকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব লিবিয়ার প্রভাবশালী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

খবরে আরও বলা হয়, নিহতদের মরদেহ নাফুসা পর্বতমালার রুজবান এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
 

Pic

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে এমন ভোটারদের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’। জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ দশমকি ৯ শতাংশ ভোটারেরই পছন্দ বিএনপি-জামায়াত দুই দলই। এসময় ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ এই চারটি আসনের উপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। তবে বিএনপির দিকে কিছুটা বেশি ঝুঁকছে।

 

রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।


ভোটারদের একটি বড় অংশ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে বলে উঠে এসেছে একটি জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ৩৭ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ড. শিব্বির আহমেদ জানান, জরিপটি ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এসব আসনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, কেবল তাদের মধ্য থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটের পছন্দ জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।


গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে, জরিপের এই ফলাফল ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও আস্থার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান তার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

 

ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারত্ব মিলিতভাবে প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলে এ বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ নির্বাচন আমাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রার সূচনা করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন ছিল। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে- জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাবো।
 

Pic

-আশরাফুর রহমান
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গাদ্দাফি পরিবারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

লিবিয়ার আল-আহরার টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে হামাদাহ এলাকায় সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি ড্রোন (UAV) হামলা অথবা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হতে পারেন। তবে এখনো হামলার ধরন ও হামলাকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব লিবিয়ার প্রভাবশালী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

খবরে আরও বলা হয়, নিহতদের মরদেহ নাফুসা পর্বতমালার রুজবান এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
 

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি দীর্ঘ শ্বাস, একটি অর্ধেক জীবন "Lost in Sweet Dreams" শুধু একটি কাব্যগ্রন্থ নয়; এটি এক বিচ্ছিন্ন-বিচূর্ণ হৃদয়ের মানচিত্র, এক প্রবাসী কবির আত্মাবিশ্লেষণের দিনলিপি। আকবর হায়দার কিরণ এখানে শব্দ দিয়ে আঁকেন স্মৃতির আলপনা, যেখানে নিউইয়র্কের সাবওয়ে এবং ঢাকার রমনা একাকার হয়ে যায়, প্রেমের জ্বালা এবং প্রবাসের যন্ত্রণা হয়ে ওঠে একই স্বাদের কফির কাপ।

 

কেন এই বই বিশেষ?

১. দ্বৈত স্বদেশের কবিতা: এই বইয়ের কবিতাগুলো একইসাথে বাংলাদেশ এবং আমেরিকায় বাস করে। "জ্যাকসন হাইটস" শুধু একটি স্থান নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশের মানসিক রাজধানী। অপরদিকে "বর্ডাইনের সবুজ ধানখেত" বা "আগারগাঁওয়ের রিকশা" অনবরত ফিরে আসে স্মৃতির পাতায়। এই দ্বন্দ্বই বইটির প্রাণ।  

 

২. সময় ও স্মৃতির দর্শন: কিরণের লেখায় সময় রৈখিক নয়, এটি চক্রাকারে ঘোরে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো একটি কোলাজের মতো সাজানো, যেখানে প্রেম, বিচ্ছেদ, পরিবর্তন এবং প্রত্যাবর্তনের একই অনুভূতি বারবার ফিরে আসে। "People Change" বা "All Become Memories" শিরোনামই বলে দেয়—স্মৃতি কখনো মরে না, শুধু রূপ বদলায়।  

৩. প্রেমের শরীরতত্ত্ব: এই বইয়ের প্রেম শুধু আবেগ নয়, একটি শারীরিক উপস্থিতি। এটি "সেভেন ট্রেনে" প্রথম চুম্বনের স্পর্শ, "অ্যাটলান্টিক সৈকতে" নাম লেখা হাতের লেখা, কিংবা "ফোন কলের" কানে কানে কথা। প্রেম এখানে একটি দেশান্তরী অনুভব, যা দেহ ছেড়ে যায় না।  

৪. ভাষার দ্বৈততা ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ: ইংরেজি কবিতার ভিতরে বাংলা শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত আগমন ("লুঙ্গি", "বিডি", "মেঘনা ফেরি") বইটিকে একটি সাংস্কৃতিক হাইব্রিড করে তুলেছে। এটি শুধু অনুবাদ নয়, এটি মনের অনুবাদ—যেখানে ঢাকার আর্দ্রতা নিউইয়র্কের শীতকে স্পর্শ করে। 

 

হৃদয়ছেঁড়া পঙ্ক্তিমালা: "Without you, I'm incomplete, Like a tree stripped of its leaves, it's bleak." (Without You) "সবাই ভুলে যায় সহজেই সোনালি অতীতকে" (Some People Forget)   দুই বিশ্বের সেতুবন্ধ: বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এটি প্রবাসী মানসিকতাকে এতটা অন্তরঙ্গভাবে ধারণ করেছে। "আমেরিকা!" কবিতায় আলাম ঘড়ির শব্দ এবং "বর্ডাইনে ফেরার স্বপ্ন" পাশাপাশি চলে। এই দ্বিচারিতাই আজকের বিশ্ববাঙালির পরিচয়।   লক্ষ্যপ্রাপ্তি: কবি সফলভাবে:  একটি ট্র্যাজিক রোমান্সকে বিশ্বজনীন করে তুলেছেন  প্রবাসের একাকীত্বকে কাব্যিক ভাষা দিয়েছেন  বাংলা-ইংরেজির সীমান্ত মুছে দিয়েছেন  সময়ের সঙ্গে যুদ্ধরত মানুষের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন।

 

রেটিং: ৪.৫/৫ কেন ৪.৫? কবিতাগুলোর মধ্যে কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক অনুভূতি থাকলেও, এটি হয়তো ইচ্ছাকৃত—কারণ প্রেম এবং স্মৃতি নিজেরাই পুনরাবৃত্তিময়। বইয়ের ডিজাইন এবং উপস্থাপনা আরও পরিশীলিত হতে পারত, কিন্তু কবির আন্তরিকতা সেই ফাঁক পূরণ করে দেয়।  কাদের জন্য এই বই: যারা প্রেম ও বিচ্ছেদের গভীরে যেতে চান  প্রবাসী বাংলাদেশীদের হৃদয়ের ভাষা বুঝতে চান  আধুনিক বাংলা কাব্যের নতুন দিগন্ত দেখতে চান  যাদের জীবনেও "দুই নৌকায় পা" থাকে ।

 

শেষ কথা: "Lost in Sweet Dreams" একটি নিরাময়হীন ব্যাথার কবিতা, যে ব্যাথা সুখের কারণও বটে। আকবর হায়দার কিরণ প্রমাণ করেছেন যে, স্মৃতি একটি দেশ, এবং আমরা সবাই সেই দেশের নির্বাসিত নাগরিক।  এই বই পড়া শেষ হলে পাঠক নিজেকে জিজ্ঞাসা করবেন: "আমার জ্যাকসন হাইটস কোথায়? আমার হারানো প্রেম কোন কবিতায় বাস করে?"  এটি শুধু বই নয়—এটি একটি আয়না, যেখানে আমরা সবাই নিজেদের খণ্ডিত প্রতিবিম্ব দেখি।

 

Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা মশিউর রহমান মজুমদার 

 

"Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা আবু নছর মিনার 

 

"Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা আবু নছর মিনার 

 

বিশেষ রিভিউ: "Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২৪
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। 

 

মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই। 

 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর যথারীতি খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশটিতে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন তারা।

 

ভারতের প্রধান দূতাবাস বা হাইকমিশন ঢাকায়। এছাড়া সহকারী হাইকমিশনগুলো রয়েছে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। সবগুলো মিশন থেকেই কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ পদক্ষেপ নিলো ভারত।
 

Add

Site Counter

Online

7

Total

41k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ ইং উপলক্ষে জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৬৩টি ভোট কেন্দ্রে আজ পাঠানো হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জাম।

 

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস।

 

বুধবার সকাল ১০টা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে এসব নির্বাচনি সরঞ্জাম হস্তান্তর করেছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ১ হাজার ৬৩টি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপার, বক্স, কালিসহ ভোট গ্রহণের সব সরঞ্জাম বুঝে নেয়ার পর পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে রওনা দেন। সন্ধ্যার মধ্যেই সবক’টি কেন্দ্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। মোট ভোটার ৩৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪শ’ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন।

 

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, আগামীকাল উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলার ৮টি আসনে ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৮জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যা বসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
 


Pic

স্পোর্টস ডেস্ক:
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসালে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। প্রথমবার আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছে সাবিনা খাতুনের দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে অপরাজিত থেকেই শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।

 

ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল সহজ, ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। তবে সাবিনা ও কৃষ্ণারা কোনো হিসাবের পথে না হেঁটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেলেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করলেও খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।


তৃতীয় মিনিটে গোলকিপার স্বপ্না আক্তার ও মাসুরা পারভীনের বোঝাপড়ার ভুলে মালদ্বীপ এগিয়ে যায়। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে সময় নেয়নি বাংলাদেশ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরাসরি ফ্রি কিক থেকে সমতা ফেরান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। পরের ফ্রি কিকেই আবার জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় একতরফা আধিপত্য।


প্রথমার্ধেই ছয়টি গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার জোড়া গোলের সঙ্গে লিপি আক্তারও করেন দুটি গোল। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬–১। দ্বিতীয়ার্ধে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আক্রমণ। ম্যাচের শুরুর দিকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা। এরপর একে একে গোলের খাতায় নাম লেখান মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মেহেরুন আক্তার ও মাসুরা পারভীন।


শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্কোরলাইন পৌঁছে যায় ১৪–২ এ। অধিনায়ক সাবিনা এক ম্যাচে চার গোল করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ তে, যা সর্বোচ্চ।


দক্ষিণ এশিয়ার সাত দল নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে সংগ্রহ করে ১৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভুটানের পয়েন্ট ছিল ১১। সাফের বাইলজ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল হিসেবেই শিরোপা ওঠে বাংলাদেশের হাতে।


এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে গড়া দল। ২০১৮ সালে ফুটসালে যাত্রা শুরু হলেও কয়েক বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল নারী ফুটসালের। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নতুন উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করে। সেই প্রস্তুতির ফলই মিলেছে প্রথম সাফ নারী ফুটসালেই।


ফুটবলে নানা প্রতিকূলতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও সাবিনা, কৃষ্ণা ও তাঁদের সতীর্থরা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে তারা দেশের জন্য শিরোপা এনে দিতে পারেন। ফুটসালের মঞ্চে এই অর্জন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল।
 

ঢাকার ৪টি আসনে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলকে পছন্দ করে আ. লীগের ৭৪.৯ শতাংশ ভোটার: নির্বাচনী জরিপ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে এমন ভোটারদের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’। জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ দশমকি ৯ শতাংশ ভোটারেরই পছন্দ বিএনপি-জামায়াত দুই দলই। এসময় ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ এই চারটি আসনের উপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। তবে বিএনপির দিকে কিছুটা বেশি ঝুঁকছে।

 

রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।


ভোটারদের একটি বড় অংশ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে বলে উঠে এসেছে একটি জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ৩৭ শতাংশ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ড. শিব্বির আহমেদ জানান, জরিপটি ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এসব আসনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, কেবল তাদের মধ্য থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটের পছন্দ জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।


গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে, জরিপের এই ফলাফল ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও আস্থার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর।
 

ঐক্য সরকার গঠনে জামায়াতের প্রস্তাব নাকচ—নিজেদের উপরই আস্থা বিএনপি’র

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারেক রহমান। এমনটাই গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।


তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব। তাহলে বিরোধী দল কে হবে? আমি জানি না তারা কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে। আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।”


তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।


তবে তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।”


দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত ব্যহত হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।


জয়ী হলে ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন?
তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।


জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”


“তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”


স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”


এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তারেক।


সূত্র: রয়টার্স
 

রাষ্ট্র সংস্কার থেকে আত্মনির্ভরতার বার্তা— ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার; জামায়াতের ইশতেহার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশের রূপরেখাকে সামনে রেখে এই ইশতেহার উপস্থাপন করে।

 

রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই ইশতেহার বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলটির জনতার ইশতেহারের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। একইসঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইশতেহার ঘোষণার এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

 

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের মোট ২৬টি অগ্রাধিকার এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

 

নির্বাচনী ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সেগুলো হলো-

১. 'জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীন, সার্বভৌমত্ত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National interest)।
২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন!
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মযাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Wor (Women Participation)
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)!
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)!
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Societyll)
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পদহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূালা অ্যাবদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরানর বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)!
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)!
১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্ঘকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা । (Strong and Functional Democracy)!
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। (Justice and Human Rightsi
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে July Spirit)
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য ভিশন' (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)i
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)!
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)!
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিমোব সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation!!
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রাম বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)I
২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)!
২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা [Transport Revolutionji
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)!
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবাবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। করা (Social Security)!
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।


জামায়াত জানায়, ‘জনতার ইশতেহার’ তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে পাওয়া ৩৭ লাখের বেশি জনমতের প্রতিফলন রাখা হয়েছে। দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭