সোমবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

Logo
Add Image

সাহিত্য দর্পণ

গল্প

এক টুকরো গোশত : সুপ্ত রায়হান সজিব 

প্রকাশিত: ২০২৫-০২-০৮ ২২:৩৬:০১

News Image

"মাই, এইবার গুশতোর মইদ্যে বেশি কইরে মশলাপাতি দিয়ে আন্দিবি।
আগের ইদো যেবো কইরে আন্দিসিলি সেবো কইরে।
আর, এল্লাহানি পুলাই ভাতো আন্দিস।
গরুর গুশতো দিয়ে পুলাই ভাত সেই টেস নাগে।
ক মাই আন্দিবি??": মায়ের শরীর ঝাঁকিয়ে আবদার করে ময়না।

 

"আন্দিমু বাপধন আন্দিমু। আগে মাইনষে গরু জবো করুক।সব আন্দিমু বাপ। এহন গোসল কইরা মাঠের নামাজডা পইরা আয়": ময়নার চুলে বিলি কেটে আশ্বাস দেয় আমেনা বেগম।

 

মায়ের মুখে অতৃপ্ত রসনা মেটানোর স্বীকৃতি শুনে এক দৌড়ে বস্তির পঁচা ডোবা থেকে গোসল করে প্রস্তুত হয়ে ঈদগাহের পথে হাঁটতে থাকে ময়না।

 

বাইরে এসে দেখতে পায় ওর বন্ধু কামাল, খোকন ও আদিলরা ওদের বাবার হাত ধরে ঈদগাহে যাচ্ছে। 


গায়ে পরিহিত নতুন জামা, হাতে চকচকে মখমলের জায়নামাজ।

 

তালিযুক্ত নোংরা পাঞ্জাবি, পুরনো পায়জামা ও ছেঁড়া টুপি ওর দারিদ্র্যতার জানান দিয়ে যাচ্ছে বারংবার। 
বাবা তো নেই, কার হাত ধরে হাঁটবে সে??

 

আর আট-দশটা বস্তির মেয়ের মতো ওর মা'ও বহুগামীনী ছিলো।

 

এক বেলা খাবার জোটাতে যেখানে শরীর বিক্রি করতে হয়, বিবাহ সেখানে বিলাসিতা বৈ কিছু নয়। 


তবুও কোনো এক গভীর রাতে একজন এসেছিলো ওর জীবনে।

যে বলেছিলো:- "তোরে আমার ভাল্লাগে রে ছেরী। হাঙ্গা কইরা তোর লগে সংসার পাতমু।আইজ আর না করিস না রে।"

 

গোপনে রসদান করে রসিয়ে রসিয়ে কথা বলা লোকটাও একদিন ওপারে চলে গেলো স্রষ্টার ডাকে।
ট্রাক ড্রাইভার ছিলো লোকটা।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সেই মানু।
এরপর থেকে আমেনা বেগম ময়নাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে।
ছেলে একদিন বড় হবে এই আশায় শরীর বিক্রি বাদ দিয়ে কায়িক পরিশ্রম করতে শুরু করলো।


বুয়ার কাজটা পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিলো।
মাঝে মাঝে সে ভাবে লোকটা বেঁচে থাকলে ছেলেটা দুধে-ভাতেই থাকতো।
ময়নারও আজ আব্বার কথা খুব মনে পড়ছে।

 

আব্বা বেঁচে থাকলে নতুন জামা গায়ে দিয়ে, মখমলের জায়নামাজ কাঁধে নিয়ে, আঙুল ধরে ঈদগাহে যেতো।

 

কিন্তু, হায় বিধিবাম।
আল্লাহ পাক সেটা কবুল করেননি।
তাই তো ওর এই করুণ পরিণতি।
আজ আব্বাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
কেমন ছিলো সেই মানুষটা যে ওকে এই পৃথিবীতে এনেছিল?? 
অনেক ভালো মানুষ ছিলেন তিনি।
মা তো তাই বলেছে।

 

আব্বাকে কোথায় দাফন করা হয়েছে সেটাও সে জানে না।
জানলে কবরের সোঁদা মাটির বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে হৃদয়ের তিয়াশা মেটাতো।
সে সুযোগটাও নেই।

তাই আজ ঈদের দিনেও ওর বুকে পাথরচাপা সম কষ্টের তান্ডবে দুচোখ ভরে অশ্রুর ফোয়ারা ছুটলো।

 

নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে স্বাভাবিক হয়ে যায় ময়না।
কাপড় বদলিয়ে, একমুঠো খেয়ে মাকে ডেকে চটের থলেটা দিতে বলে।

 

মা ভ্রু কুঁচকে বলে ওঠে:-"বাপধন,এহনো তো গুস্ত ভাগ করে নাই।তুই এতো কাপধাপ করোস কে?এট্টু পরে বাইর হ।"

 

প্রত্যুত্তরে সে বলে:-"মাইরে।বেলা কই গেছে তুই দেখবার পারছোস?টেরেন তো সব গেলো গা মনে অয়।যাওন নাগবো না??"

 

এবার মায়ের হুঁশ হলো।


ছেলেটা প্রতিদিনের ন্যায় রেলস্টেশনে বোতল কুড়োতে যাবে। 

অস্ফুটস্বরে মা বললো:-"আইজ না গেলে অয় না,বাপ??"

 

একটু রাগতস্বরে ময়নার জবাব:-"না গেলে কাইল কি পেটে ভাত জুটবো মাই ক??


আইজ ইদের দিন।মাইনষে বেশি কইরা কালা পানি খাইছে।তাই মেল্লাডি খালি বুতোল পাওন যাইবো।বইসা থাইকা কাম নাই।টুকরাইয়ে আনি।"

 

এক দৌড়ে সোজা রেলস্টেশনে।
আজ ওর সঙ্গী বোতলকুড়ানিরা কেউ আসে নি।
ভালোই বোতল কুড়োলো সে।
একচেটিয়া যাকে বলে আর কি।


বোতলগুলো মহাজনের কাছে বিক্রি করে অনেক টাকা পেলো।
ছোট এক খুটি টক দই কিনলো যা গোশতের সাথে পরম তৃপ্তিতে খাবে।
পান সুপারিও নিলো।


মা ভরপেট খাওয়ার পর পান চিবোয়।
পান চিবোতে মায়ের খুব ভালো লাগে।
সাথে এক বোতল কোমল পানীয়ও নিলো।

 

বিকালে খেলার মাঠে আদিল, খোকন ও কামালরা যখন ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে কোল্ড ড্রিংস পান করবে, তখন সেও হুট করে পকেট থেকে বের করে আয়েশে চুমুক দেবে।


ওরা শুদ্ধভাষায় বলবে:-"দেখ আমাদের ময়নাও কোল্ড ড্রিংকস খায়।"
তখন মহানন্দে ভরে ওঠবে ওর মন।

 

স্টেশন থেকে বস্তি পর্যন্ত আসতে আসতে কত কিছুই না ভাবলো সে।
অবশেষে পথ ফুরোলো।

 

মায়ের হাতে জিনিসগুলো দিয়ে, একটা পলিব্যাগ নিয়ে মাংস ভিক্ষার জন্য বেরিয়ে পড়লো।
পথে আসতেই ওর সঙ্গী বোতলকুড়ানিরাও যোগ দিলো।
সে ভাবতে লাগলো কোথা হতে শুরু করবে।
প্রথমে যাবে কোথায়??

 

আদিলদের বাড়ি গেলে কেমন হয়।
ওরা একাই এক গরু কোরবানি দিয়েছে।
এর চেয়ে বড়ো কথা হলো, সে ওর বন্ধু। 
ঠিক বন্ধুও নয়।
খেলারসাথী।
বিকেলে ওদের সাথে মাঠে খেলাধুলা করে।
ওদের বাসায় গেলে মানা করতে পারবে না।
বন্ধু হিসেবে অন্যদের তুলনায় দু চার টুকরো বেশিও পেতে পারে।

 

যেই ভাবা, সেই কাজ।
সোজা আদিলদের বাসায়।
কিন্তু, গিয়ে কোনো লাভ হলো না।
গেটের কুকুর ঘেউ ঘেউ করে দারোয়ানকে ওর উপস্থিতি জানান দিলো।
আদিল বের হতে চাইলেও ওর আম্মু বের হতে দিলো না।
"গোশতো ভাগাভাগি করা হয়নি"-এই অজুহাতে ওদের তাড়িয়ে দিলো।
তবুও, এক টুকরো গোশতের আশায় গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে রইলো সে।
একটুপর, দারোয়ান কুকুরকে এক খাবলা কাঁচা গোশতো খেতে দিতে এসে দেখলো, ময়নারা তখনো ঠাঁই দাঁড়িয়ে। 


এবার আর বরদাস্ত করতে পারলেন না দারোয়ান মহাশয়।
লাঠি নিয়ে তেড়ে আসলেন।
কি আর করার।
অগত্যা প্রস্থান করা ছাড়া উপায়ন্তর নেই।
ফিরে আসার সময় ওর মনে হলো:-কখনো কখনো মানুষের মূল্য কুকুরের চেয়েও নগণ্য হয়।


ওই কুকুর এক খাবলা গোশত পেলেও, সে কিন্তু পেলো না।
কুকুর আজ নগণ্য হলেও ওর চেয়ে উচ্চস্থান দখল করে আছে।
ঠিক তেমনি মানুষ্যরুপী কুকুরগুলো শুধুমাত্র টাকা ও ক্ষমতার জোরে সৎ মানুষগুলোর জায়গা বগলদাবা করে নেয়।

 

এটাই আধুনিক পৃথিবীর রীতি। 

পরপর খোকন ও কামালের বাসায় গিয়েও অবহেলায় অবহেলিত হয়ে ফিরে আসতে হলো।

 

আষাঢ়ের দ্বিতীয় প্রহর। 
মেঘ জমেছে আকাশে।
যে কোন মুহূর্তে মুষলধারে বৃষ্টি নামতে পারে।

 

হঠাৎ, কে যেন বলে ওঠলো:-"হগগলে চলো জুইম্মেঘরো যাই।ওইহানে গুস্ত দিতাছে।মেল্লাডি গুশতো পাওন যাইবো।তাত্তারি করো হবাই।"

 

মসজিদের বারান্দায় গোশতের পসরা সাজিয়ে রেখে মুয়াজ্জিন মহাশয় পাহারা দিচ্ছে। 


গোশতের পরিমাণ দেখে সবার চোখ জুড়িয়ে গেলো।
ময়না মনে মনে ভাবে:-"আজ বোধহয় পেট পুরে কয়েক থালা ভাত খেতে পারবে"।

 

মসজিদের বারান্দায় পা রাখতেই ইমাম সাহেব বাধা দিলেন।
অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন:- "বাছাধনেরা,জুইম্মেঘরে ঢুহার আগে নামের লিস্টি দেইখা আয়।"


এই বলে খাতা-কলম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক মুরুব্বির দিতে ইঙ্গিত করে।

ওনার কাছে যেতেই বলে ওঠে:- "তোগো কুনো নাম নাই খাতায়।দূর হ এহান থাইক্যা।"


আকুতি মিনতি করেও লোকটার মন গলাতে পারলো না ওরা।
শূন্য পলিথিনটা হাতে নিয়ে ব্যর্থ মনোরথে মসজিদের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য পথ ধরলো।


কাঁদো কাঁদো গলায় সাথীদের বললো:- "চল যাইগা।এই লিস্টি আমগো জন্যি না।বরনুকগো লিস্টি।"

 

নিজের অজান্তেই কপোল বেয়ে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।
যে অশ্রু বর্ষণের বিচার আরশে আজিমের মালিক ব্যাতীত পৃথিবীর কেউ করতে পারবে না।

 

মসজিদের গোশতো বন্টন।
আমরা আঞ্চলিক ভাষায় এককথায় যাকে "গামালী ভাগ" বলে থাকি।
এটা কতোটুকু যথার্থ?? 


এটা কি এক গড়িমসি প্রকৃয়া নয়??


এই প্রক্রিয়ায় বিলিকৃত গোশতগুলোর মূল প্রাপ্যধিকারী আসলে কারা??
সমাজ কিংবা মহল্লার সকল সদস্য??
নাকি গরিব ও মিসকিন??


আমরা ধনী-গরিব সকলে মিলেই এই ভাগের গোশতো নেওয়ার জন্য থালা নিয়ে লাইন ধরি।


তাহলে, আমরা সবাই কি গরিব ও মিসকিন??
যারা কোরবানি দেয় তারাও এই ভাগের গোশতো নিজেরা বগলদাবা করে নেয়।


তারাও কি গরিব কিংবা মিসকিন?? 
আপনাদের তরে প্রশ্ন রইলো।
প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে যাবেন।
আমার ক্ষুদ্র ও বিকৃত মস্তিষ্ক দিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি খুঁজে পাইনি।

 

মাঝে মাঝে মনে হয় ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো দিন দিন সুবিধাভোগীদের স্বার্থ-আলয়ে পরিণত হচ্ছে। 


তাইতো ময়নার গোশতের ঝুলি আজ শূন্য।


বিদ্রোহী বীর কবি নজরুল তাঁর অমর সৃষ্টি "মানুষ" কবিতায় বলে গিয়েছেন:
"হায়রে ভজনালয়, 
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়।"
আজকাল এই পঙক্তির সাথে এসবের সাদৃশ্য খুঁজে পাই।

 

দু'চার বাড়ি ঘুরে মোট কয়েক টুকরো গোশতো পেলো ময়না।
এই অল্প অংশ দিয়ে তো পূর্ণ আহার সম্পন্ন হবে না।
মাকেই দিবে কি আর নিজেই বা খাবে কি?

 

এক বুক হতাশা নিয়ে ওরা খালের ধারে বসে পড়লো।
সাথীরাও সব চুপ।


জলাধারে ছোঁড়া ঢিলের গতির সাথে ওর হৃদপিণ্ডের গতিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।


নিজেকে আজ বড়ো দুর্ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
ছোট্ট এই মনটাতে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে বারংবার। 
হরেক রকম প্রশ্ন।
সমাজে সবাই তো মানুষ, কিন্তু সবাই কেন তৃপ্তিসহকারে খেতে পায় না??


কেন ওদের কোন মূল্য নেই এই সমাজে?
কেন ওরা ঘৃণার পাত্র?? 
খুব জানতে ইচ্ছে হয় ওর।
কিন্তু কে দেবে এর উত্তর?? 
সমাজ??
হা হা হা।
না।

সমাজ কখনো এর উত্তর দেবে না।
কারণ, সমাজ নিজেই চোখে স্বার্থ কায়েমের ঠুলি পরে বসে আছে।
তাই, ওর প্রশ্নের জবাবদিহিতাকারী কেউ নেই।
প্রশ্নোত্তরের দায় কেউ নিতে চায় না।

 

হঠাৎ খালের ওপার হতে কেউ একজন বলে ওঠলো: "মুন্ডলবাইত গুশতো দিতাছে।
মেল্লা বরো বরো ডুইমে।
যাবি নাহি তোরা??"

কথাটি শুনে এক মুহূর্ত কালক্ষেপণ না করে সবাই খালের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো।
দ্রুত সাঁতার কেটে ওপারের ডাঙায় ওঠে এক দৌড়ে মন্ডলবাড়ির আঙিনায়।

 

মূল ভবনের সামনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিড়।
এলাকার সকল দরিদ্রের দল মনে হয় এখানেই ভিড় জমিয়েছে।

 

অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও কেউ গোশতো নিয়ে আসছে না।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনাহারী লোকের সংখ্যা। 
হঠাৎ, চতুর্থ তলার ব্যালকনির অ্যালুমিনিয়ামের গ্রিলের সাথে চুড়ির টুংটাং শব্দ শুনে উপরের দিকে তাকালো সবাই।

 

একটি নারী হাত গোশতের দলা নিচের দিকে ছুড়ে মারলো।
যার পরিমাণ এই ভিড়ের তুলনায় অতি সামান্য। 
সবার দৃষ্টি তখন উর্ধ্বাকাশের দিকে।
পড়িমড়ি করে মাংসের দলাটি নিজের করে পাবার আশায় ছুটতে লাগলো সবাই।


মুহুর্তেই জমাটবদ্ধ ভিড় চলন্ত রুপ ধারণ করলো।
পড়িমরি করে সবাই হাত বাড়ালো।
কার ওপর কে এসে দাঁড়ায় বোঝা মুশকিল।
আমাদের ময়নাও এই ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেছে। 
ওই যে দেখা যাচ্ছে গোশতের দলা।
আর একটু সামনে এগোতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো সে।
কেউ একজন ওর তলপেটের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলো।
দাঁতে দাঁত কামড় দিয়ে পলিথিনটা মেলে ধরলো।
ধীরে ধীরে গোশতের দলাটি ওর দৃষ্টি সীমানায় আবদ্ধ হলো।
দলাটির গোশতোগুলো সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। 
ওই যে, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে টুকরোগুলো।
একেবারে স্পষ্ট।
ময়নার মুখে হাসির ঝিলিক।

 

গোশতো।
বহু প্রতীক্ষিত গোশতো।
আর তো মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
তারপর ওর ঝুলি ভরে ওঠবে কাঁচা গোশতের ঘ্রাণে।
কেউ একজন ওর বুকের পাজরের ওপর দৌড়ে গিয়ে সামনে দাঁড়ালো।
ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠলো ময়না।
মনে হলো কেউ যেন তার পাজরের অস্থি টেনে ভেঙে তুলছে।
তবুও সে হাল ছাড়লো না।
দুহাত দিয়ে পলিথিনটাকে আরো প্রসস্থভাবে মেলে ধরলো।
এবার একজন ওর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো।
হাত থেকে ছিটকে গেলো পলিথিনের ব্যাগ।
ততক্ষণে মাংসের দলাটি ভূপতিত হয়েছে। 
সবাই মাটি হাতড়ে ময়লাযুক্ত গোশতো খুঁজতে ব্যস্ত।
এক দলা মাটি মাখানো গোশতের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ বেঁধে গেলো।
ময়নার শরীরের ওপর দিয়ে পদদলিতের সাইক্লোন বেড়েই চলছে।
সবাই কাঁচা গোশতের সুঘ্রাণে মত্ত।
মাংসের ডেলা সবার হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নিয়েছে।
পেটের ক্ষুধার কাছে হেরে গিয়েছে সবার বিবেক।

 

ওর আর্তনাদ কেউ শুনছে না।
তবুও সে হামাগুড়ি দিয়ে রক্তমাখা হাতে অনবরত খুঁজে যাচ্ছে এক টুকরো গোশতো।

 

হঠাৎ, ধূলো মাখানো কয়েক টুকরো গোশতো ওর হাতবন্দী হলো।

 

শত যন্ত্রণার মাঝেও মুখে তৃপ্তির হাসি।
মা এখন অনেক খুশি হবে।
দুজন মিলে পেট পুরে খেতে পারবে। 
কিন্তু ততক্ষণে বড্ডো দেরি হয়ে গেছে। 
মুখ দিয়ে অনবরত ফিনকি দিয়ে ঝরছে তাজা রক্ত।
নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না সে।
কিছু বুঝে ওঠবার আগেই মূর্ছা গেলো।
মাটির সাথে মিশে গেলো নিস্তেজ দেহটি।
মালাকুল মউত বের করে নিয়ে গেলো ওর প্রাণবায়ু।
তখনো ওর হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা এক টুকরো গোশতো,
যা দিয়ে সে পরম তৃপ্তিতে এক থালা ভাত খেতে চেয়েছিলো !

 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭