বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জাতীয়

আইএমএফ এর শর্ত পূরণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর হিসাব শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-১৬ ১১:১৭:৪৪

News Image

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দাতা গোষ্ঠি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের সাথে বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে তার হিসাব শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে হিসাব বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন হিসাব কষছেন। 

 

ওই হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা ভর্তুকি কম লাগবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কতো ভাগ কোন গ্রাহকের বাড়ালে কতো টাকা আয় হবে তার হিসাবও করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুতের প্রাথমিক হিসাব করা হচ্ছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। মূলত আইএমএফের কাছে ওই হিসাব তুলে ধরা হবে। যদিও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। 

 

আগামী ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে উঠবে বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ। আর ওই কারণেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম (বিতরণ কোম্পানির জন্য নির্ধারিত) সাড়ে ৮ শতাংশ বিগত ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ানো হয়েছিল। তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আর বর্তমান বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে জানিয়েছে, আগামী দুই বছর (২০২৬-২০২৭) তারা বিদ্যুতের কোনো দাম বাড়াবে না। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কয়েকবাজার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াতে আইএমএফের চাপে পড়তে যাচ্ছে ।

 

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে বিপাকে আছে সরকার। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দেয়া হয়েছে। তারপরও গত অর্থবছরে পিডিবি ১৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। তার মধ্যে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে এ বছর ভর্তুকি কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৩৬ পয়সায় কিনে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা বিক্রি করে। যে কারণে বেড়েই চলেছে বিপিডিবির লোকসানের বোঝা। এ বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি পিডিবির লোকসান হবে। যা গত বছর ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটির বেশি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে। তার মধ্যে আড়াই কোটি হচ্ছে স্বল্প ব্যবহার বা লাইফ লাইন গ্রাহক। যারা মাসে মাত্র ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

 

সূত্র আরো জানায়, দাতা সংস্থা আইএমএফের শর্তানুযায়ী জ্বালানি বিভাগ প্রতি মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। বাংলাদেশ এখন  আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৮০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। তেল বিক্রিতে সরকারের প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। তবুও সরকার তেলের দাম বাড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জ্বালানি তেল আমদানি করতে যুদ্ধের আগে সরকারের বছরে ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হতো। এখন তা ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি কার্গো এলএনজি পেট্রোবাংলার কেনা পড়তো ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই কার্গো এখন কেনা পড়ছে ১০০০ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছর গ্যাস বিক্রি করে পেট্রোবাংলা লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন মার্চ, এপ্রিল এবং জুন ওই তিন মাস এলএনজি এনে ১৫ হাজার কোটি টাকা পেট্রোবাংলার লোকসান হতে পারে। 

 

অন্যদিকে গত ২৪ থেকে ২৬ মার্চ আইএমএফের একটি দল ঢাকা সফর করেছে। ওই দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আইএমএফের শর্ত এবং ঋণের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে দলটি বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বিগত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মঞ্জুর করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে আইএমএফ ওই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করে। তার মধ্যে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।

 

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধের কারণে এখন প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে ৫ হাজার কোটি লোকসান হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭