বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-১৪ ১৬:৩০:৫২
মোঃ অলি উদ্দিন মিলন:
জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি ৪৪১ জন সাংবাদিককে ক্লাবের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ১২ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি তালিকায় এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকের নাম আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিতর্কের মূলে যা রয়েছে;
সাধারণ সাংবাদিকদের অভিযোগ, এই সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের চেয়ে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পেশাদারদের অবমূল্যায়ন: দীর্ঘ বছর ধরে সাংবাদিকতা করা অনেক সিনিয়র ও যোগ্য সংবাদকর্মী সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দলীয়করণ:
নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিদের গণহারে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে ৪৪১ জনের সদস্যপদ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সাংবাদিক তাদের টাইমলাইনে এই তালিকা শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রেসক্লাবের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন "পাইকারি হারে" সদস্যপদ প্রদান এর ঐতিহ্য ও গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করবে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের অবস্থান;
যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে এই বাছাই প্রক্রিয়াকে 'নিয়মতান্ত্রিক' দাবি করা হয়েছে, তবে সদস্য পদের সংখ্যার আধিক্য এবং বাছাইকৃতদের যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো ধামাচাপা পড়ছে না। সমালোচকদের মতে, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতেই এই বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার (সদস্য) তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের দ্বিতীয় নিবাস হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সদস্যপদ প্রদান নিয়ে বারবার ওঠা অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাধারণ সাংবাদিকদের দাবি, সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে যেন কঠোরভাবে পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতাকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।