মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জোরালো ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেঞ্জজুড়ে বিশেষ নজরদারি, রাতব্যাপী টহল ও নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
রেঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি থানাকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক পাচার রোধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং বহু মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদক ব্যবসার জন্য একসময় আলোচিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের মাদক চোরাচালান বা অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত না হতে পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুলিশের টহলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের ফলে মাদক কারবারিদের তৎপরতা আগের তুলনায় অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও ইতিবাচক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু মাদক নয়, জুয়া, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন এবং রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন ৯৬টি থানাকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন থানার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতেও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে নতুন প্রজন্ম মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাং এবং সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।