বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Logo
Add Image

আবহাওয়া

গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস রাজধানী, নাকাল দেশের জনজীবন

প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-০৪ ১২:০৩:২৮

News Image

ফাইল ফটো

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ভ্যাপসা গরমে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। মৃদু তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারী জেলায় চলছে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপপ্রবাহ। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি। তাপমাত্রা ঠেকেছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। 

 

প্রচণ্ড তাপের কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ দিনের বেলা বাইরে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমজীবীরা। গরম আর যাত্রীর সংকটে ভ্যান ও রিকশাচালকদের দিন কাটছে চরম কষ্টে।

 

জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল বুধবার নীলফামারীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বেশি থাকায় দুপুরের পর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেক এলাকায় দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়ক প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।

 

এ বিষয়ে নীলফামারী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মিয়া জানান, নীলফামারী ও আশপাশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে একটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৪ জুনের পর থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও রংপুর বিভাগের দুয়েকটি স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

 

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড দাবদাহে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে কাঁচা তালের শাঁসের কদর। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে বসছে তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান। তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে এসব দোকানে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সুস্বাদু এই মৌসুমি ফলে যেমন মিলছে শীতল প্রশান্তি, তেমনি রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। অন্যদিকে মৌসুমি এই ফল বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

 

উপজেলার বালিজুড়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা তাল কেটে শাঁস বের করেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অনেক ক্রেতাকে তালের শাঁস নেওয়ার অপেক্ষায় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কে আগে শাঁস কিনবেন, তা নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে ছিল এক ধরনের প্রতিযোগিতা।

 

ফলে তাল কাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শাঁস। এতে বিক্রেতাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েক গুণ। একই চিত্র মিলেছে জোনাইল বাজার, মিলন বাজার, কয়ড়া বাজার, মহিষবাথান বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে।

 

বালিজুড়ী বাজারের ক্রেতা আলমগীর হোসাইন বলেন, তালের শাঁস খুবই সুস্বাদু ও প্রশান্তিদায়ক একটি ফল। গরমের সময় প্রায় প্রতিদিনই কিনে খাই এবং ছেলে-মেয়ের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাই।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তালের শাঁসে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ রয়েছে। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিনসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

 

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র গরমে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে রোগীর চাপ।

 

বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় জানান, গরমজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।

 

তিনি জানান, বর্তমানে তীব্র ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রোএন্টারোটাইটিস, শ্বাসনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হিট এক্সহসশন এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। দূষিত পানি ও গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও পেশিতে টান নিয়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ হাসপাতালে আসছেন। হিট স্ট্রোকের বিষয়ে ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত কোনো রোগীর ডকুমেন্টেশন পাওয়া যায়নি।’


লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, জ্যৈষ্ঠের খরতাপে পুড়ছে নাটোরের লালপুর। তপ্ত রোদ, গরম বাতাস ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার বিকালে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে গরমের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়।

 

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল ৩টায় লালপুর অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলালউদ্দিন। দেশের অন্যতম উষ্ণ জনপদ লালপুরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম, আর বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। লালপুরের বিভিন্ন হাটবাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

 

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরুজ্জামান শামীম বলেন, ‘তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

 

তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে বাইরে না যাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭