বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অঙ্গীকারে মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬ উদযাপন

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-২৮ ২২:৪০:১৯

News Image

নিজস্ব  প্রতিনিধি:
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উদযাপিত হলো মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬।

 

‘শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা জোরদার করা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী তিন পর্বের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

 

দিনের প্রথম পর্বে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিক কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় ‘মাভাবিপ্রবি ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা-২০২৬’। এতে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও স্পট রিক্রুটমেন্টের সুযোগ রাখা হয়।

 

সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরপরই সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শিল্প-নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ক্যারিয়ারবিষয়ক বিশেষ সেমিনার। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেওয়া হয়।

 

প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সদর দপ্তর) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং আরপি ক্রিয়েশন অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র পাল।

 

দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় বিশিষ্ট অতিথিদের অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অ্যাকাডেমিক ও প্রায়োগিক মেলবন্ধনের বিশেষ আয়োজন ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’।

 

এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে এ পর্বে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মনোনীত ৩০ জন প্রথিতযশা শিক্ষক ও ১৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এছাড়া পাঁচ শিশুকে দেওয়া হয় ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিল্ড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

 

তৃতীয় ও সমাপনী পর্বে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় ‘নজরুল-সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।

 

সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিটি পর্বে সভাপতিত্ব করেন মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। স্বাগত সম্ভাষণ জানান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।

 

আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমকে সদস্য-সচিব করে ১৫টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম নিয়মিত এসব কমিটির কার্যক্রম তদারকি করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাভাবিপ্রবিকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মূল লক্ষ্য।

 

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির সংবাদচিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১’ পাস হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর দুটি বিভাগ—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইসি) এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি)—নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭