শনিবার ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জাতীয়

ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতি

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-৩০ ১৮:৫৪:৪৫

News Image

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে লক্ষাধিক লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও বেপরোয়া গতি। ওসব বাসের কারণে মুখথুবড়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। কারণ সড়কে চলাচলরত ওসব লক্কড়ঝক্কড় বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায়ই সড়ক, ফ্লাইওভার ও সেতুর ওপর বিকল হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। তাতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা। 

 

তাছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে মানুষ। সরকারের নানা উদ্যোগেও সড়কে কমানো যাচ্ছে না ২০ বছরের বেশি পুরোনো এবং ক্রটিপূর্ণ বা ফিটনেসবিহীন বাস। আইন অনুযায়ী বাস-মিনিবাসের  ২০ বছরের ইকোনমিক  লাইফ ধরা হয়। কিন্তু ওই সময়ের পরও দেশের সড়ক দাবিয়ে বেড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ বাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই পুলিশ অভিযানে নামতে যাচ্ছে। বিআরটিএ এবং পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বাস ও মিনিবাসের আয়ষ্কাল ২০ বছর এবং ট্রাক ও কার্ভাড ভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর ধরা হয়। বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যে ৩৯ হাজার ১৬৯টি বাস ও মিনিবাস এবং ৪১ হাজার ১৪০টি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকারের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করেছে। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের চাপে সড়ক পুরোনো যানবাহনের দখলেই রয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সড়ক-মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়ঝক্কড় মোটরযান অবাধে চলাচলে যাত্রী এবং পথচারী নানাবিধ ঝুঁকিতে পড়ছে।  যখন তখন স্টার্ট বন্ধ হয়ে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে কিছু বাস এতোটাই আনফিট যে, যাত্রী বহনে একেবারেই অনুপযোগী। কিন্তু গণপরিবহনের স্বল্পতার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ওসব বাসে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেও। এসব বাসের অধিকাংশই রং চটা, জানালার কাচ ভাঙা, সিট ভাঙাচোরা এবং নোংরা। এমন অবস্থায় খুব শিগগিরই পুলিশ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনকে জরিমানা, ডাম্পিংয়ে পাঠানোসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে ওই অভিযান জোরদার করা হবে। 

 

এদিকে এ বিষয়ে  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস আহাম্মেদ খোকন জানিয়েছেন, ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতিও উদ্বিগ্ন। লক্কড়ঝক্কড় বাসের বিষয় সমিতি জিরো টলারেন্সে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনী অভিযানকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

 

অন্যদিকে এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি :বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, লক্কড়ঝক্কড় মেয়াদোত্তীর্ণ বাসের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমানে নতুন বাসের কোনো বিনিয়োগ নেই। মূলত সড়কে চাঁদাবাজি, নিবন্ধন, রোড পারমিটসহ নানা জটিলতায় পরিবহন সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আসছে না। সড়কে নামছে না নতুন বাস। ফলে  দিন দিন বেড়েই চলেছে লক্কড়ঝক্কড় বাসের সংখ্যা। পরিস্থিতি উন্নয়নে পরিবহন সেক্টরে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে মুক্তি মিলবে না লক্কড়ঝক্কড় বাসের জঞ্জাল থেকে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭