শুক্রবার ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-২৯ ২২:৪৮:৫০
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য আয়োজিত পরীক্ষায় প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে সারা দেশে এসব পদে প্রায় ১১ হাজার ১৫০টি শূন্য পদ রয়েছে এবং সেগুলো পূরণে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করছে। যদি তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারিগরি ত্রুটি বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পরীক্ষাটি বাতিল করে আবারও পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে চায়।
শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাতে ছিল। সেই ব্যবস্থায় নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এখন সেই পদ্ধতি বাতিল করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন মানেই সরাসরি চাকরি নিশ্চিত হওয়া নয়; এটি একজন প্রার্থীর যোগ্যতার স্বীকৃতি মাত্র। ২০০১ সালে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতাকে পেশাগত মানদণ্ডের আওতায় আনতেই এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন চিকিৎসক বা অন্যান্য পেশাজীবীদের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও মানসম্মত যোগ্যতা নিশ্চিত করাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন এবং পরিচালনা কমিটি তাদের নিয়োগ দিত। কিন্তু নিয়োগের সেই পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ ছিল। বর্তমানে সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন শূন্য পদে সরাসরি এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিয়োগের পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রেও বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের এক প্রান্তের শিক্ষককে শুরুতেই অন্য দূরবর্তী অঞ্চলে নিয়োগ দিলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এজন্য বদলির সুযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষক বদলির পুরো প্রক্রিয়াকে সফটওয়্যারভিত্তিক করা হচ্ছে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ না থাকে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলি সম্পন্ন হবে এবং একই ব্যবস্থা অন্যান্য শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
তদবির বা সুপারিশের সুযোগ থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবে নানা পক্ষ থেকে অনুরোধ আসতে পারে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ পদ্ধতি কার্যকর হলে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না। পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনছে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধাও ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষকদের শতভাগ বেতন সরকার বহন করছে। উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে এবং চলতি বছরে তা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতা শতভাগ করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধাও ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল নির্ধারণ ও বদলির ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।