সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এইচএসসিতে রাকিবের জিপিএ-৫ প্রাপ্তি, ঘরে আনন্দের বদলে কুলখানি

প্রকাশিত: ২০২৬-১১-০২ ২৩:৫৮:১৮

News Image

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অপহরণ করে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের শিকার সেই মেধাবী ছাত্র রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে ছেলের এমন চোখ ধাঁধানো সাফল্যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। 

 

রোববার (১ নভেম্বর) এতিম শিশুদের খাওয়ানো ও রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন তার বন্ধু ও স্বজনরা।

 

জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের পরিবার। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী সন্তান রাকিবুল ইসলাম পেয়েছেন জিপিএ-৫। কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবেন না তিনি। ফলাফলের সংবাদ পরিবারকে গর্বিত করলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে অসহনীয় কষ্ট। যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা। 

 

সরেজমিনে নিহত রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রাকিব যে ঘরে লেখাপড়া করত, সেই বই-খাতা ও টেবিল সাজিয়ে রেখেছেন তার মা জহুরা বেগম। সাথে রেখে দিয়েছেন রাকিবের ছবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার পাওয়া সম্মাননা স্মারক। এই স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরেই এখন বেঁচে থাকার লড়াই করছে তার পরিবার।

 

ছেলের অকাল মৃত্যু ও এমন অভাবনীয় ফলাফলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।’

 

রাকিবের মা জহুরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করছিলাম। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তির প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।’

 

একইভাবে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে রাকিবের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাকিব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াত। আমি চাই, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আজ ভাতিজার জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করে।’

 

ভাইকে হারিয়ে দিশেহারা বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই একসঙ্গে ঘুমাতাম, লেখাপড়া করতাম। আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবে। আজ ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও মিষ্টি খাওয়ানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। তাই এতিম শিশুদের খাবারের আয়োজন করেছি, যেন তারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে।’

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭