রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

সাত দফা মেনে নিন অন্যথায় একদফার ডাক দেয়া হবে: যশোরে ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-৩১ ২১:০২:০০

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে । সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নিন অন্যথায় এক দফার ডাক দেয়া হবে। শনিবার সন্ধার পর যশোরের গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের যশোরের মুড়লীর মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা.শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। 

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোরের মুড়লী মোড়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

বক্তব্যে সরকারি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ড. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কারা কারা কার্ড পেয়েছেন হাত তোলেন। কিন্তু কারও হাত দেখতে না পেয়ে তিনি বলেন,  ‘এই কার্ড কারও বাবার তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এখানে কেউই পাননি কেন। তিনি বলেন,  এই কার্ড সব পুকুরপাড়ে চলে গেছে।’ সরকারি সুবিধা জনগণের প্রাপ্য অধিকার উল্লেখ করে এর বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জাতিকে নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। গণভোটের গণরায় নিয়ে আপনারা বেইমানি করেছেন। যা মেনে নেওয়া হবে না। 

 

তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমেছে। এই দাবি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। 

 

সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে বলেন, এক দফার ওজন কেউ সহ্য করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না।’  দাবি বাস্তবায়নে অবিলম্বে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখনই মেনে নিন, ঘোষণা দিন। তারপরও আপনাদের বিশ্বাস করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

 

বক্তব্যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়েও সতর্ক করা হয়। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’ জনগণের ওপর জুলুম ও অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

 

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বক্তা বলেন, জাতির ঘাড়ে জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় নেমেছি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য।তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আলাদা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য নেই।  আমাদের নিজস্ব কোনো দাবি নেই।জনগণের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, অনিয়ম বন্ধ করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

 

এক দফার আন্দোলনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সরকারের প্রতি সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

 

এরআগে সমাবেশ শুরু হয় বেলা ২ টায়। তিনটা বাজতেই কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। একের পর  পথসভায় যশোর-১, যশোর-২, যশোর-৪, যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। রাত সাড়ে সাতটার দিকে লং মার্চটি যশোর থেকে ঝিনাইদহর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭