রবিবার ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

Logo
Add Image

সাহিত্য দর্পণ

রাংগামাটির পথ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-০২ ২০:৪৩:৫৯

News Image

রাংগামাটির পথ
— আকবর হায়দার কিরন

আমি কি আগন্তুক?

আহসান হাবিবের মতো করে
পাখিরা কি এখনো আমাকে চেনে?

যে পুকুরের জলে
একদিন আমার ছেলেবেলার ছায়া ভেসেছিল,
সেই পুকুর কি আজও
নীরব দুপুরে আকাশের মুখ দেখে?
নাকি চৈত্রের দীর্ঘ খরায়
তার সমস্ত জল নেমে গেছে
তেপান্তরের অচেনা নিঃসঙ্গতায়?

আজ এই দূর দেশের শীতল রাতে
চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে
রাংগামাটির সেই লাল মাটির পথ।

বৃষ্টি পড়লে
এখনো কি তার বুক থেকে উঠে আসে
ভেজা মাটির সেই চিরচেনা গন্ধ—
যেন মায়ের হাতের ধোঁয়া ওঠা ভাত,
যেন শৈশবের বিকেল,
যেখানে কোনো দুঃখের ভাষা ছিল না।

পথের দু’ধারে
শুধুই সবুজের বিস্তার।
ধানক্ষেত, ঘাস, গাছের ছায়া—
সব মিলিয়ে এক অনন্ত শ্বাস।

গ্রীষ্মের দগ্ধ দুপুরেও
খালি পায়ে হাঁটলে
মাটি যেন বলত—
“ফিরে এসো, তুমি তো আমারই।”

সেই পথের পাশে জলের ধারে
আজও কি শাপলা ফোটে?

ফুটলেও,
সেই শাপলার পাপড়িতে
আমার জন্য কি একফোঁটা অপেক্ষা রয়ে গেছে?

নাকি আমিই
এক দূরদেশে হারিয়ে যাওয়া পথিক,
যাকে স্মরণ করে শুধু
বিকেলের বাতাস আর নিঃশব্দ জল?

আজ আর কোথাও যাই না।

মনে মনে
রাংগামাটির কাদা মেখে নিই শরীরে,
পুকুরের জলে হাত ডুবিয়ে
ধুয়ে ফেলি জমে থাকা ক্লান্তি।

তারপর আকাশের দিকে তাকাই।

দেখি—
সেই গ্রামের আকাশেও
যে তারারা জ্বলে,
এই বিদেশের আকাশেও
তারাই জ্বলে।

শুধু বদলে যায়
মাটির গন্ধ।

এক মুঠো জন্মভূমির মাটি
আর এক মুঠো প্রবাসের মাটি—
একই পৃথিবীর হলেও
তাদের গন্ধ কখনো এক হয় না।

আমি কি আগন্তুক?

না।

আমি সেই পথেরই
একফোঁটা ধুলো।

আমি সেই পুকুরের জলে ভেসে থাকা
এক টুকরো ছেলেবেলা।

আমি সেই লাল মাটির পথের
অমলিন পদচিহ্ন,
যাকে সময় মুছে ফেলতে পারেনি।

ফিরে যেতে চাই—
সেই পথের পাশে,
সেই পুকুরের ধারে,
সেই রাংগামাটির বুকে,

যেখানে একদিন
কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিল
আমার সমস্ত শৈশব
মায়ের আঁচলের ছায়ায়।

৩১ জুলাই, ২০২৬
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭