বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২৯ ১৬:৩৫:৫৫
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
তার সঙ্গে আরও চারজনকে বুধবার (২৯ জুলাই) অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের ডিডিএন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। গত ১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেওয়া হয়।
এর দুদিন পর সোমবার দুপুরে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র নিয়ে অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজা ভাঙচুর করে। তারা অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতনের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইলের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে বলতে শোনা যায়, "আমরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছুরি-কিরিচ নিয়ে হামলা করি না। আমাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।"
ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গত রোববার রাতে চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতেই ডেভিড ইমনের যশোরে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এরপরই যশোরের ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে র্যািব-পুলিশের আরেকটি অভিযানে আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ বলেন, "আমরা ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তের জন্য গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম দিয়ে কাজ করছিলাম। তার চক্রের বাকিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমনকে গ্রেফতারের ফলে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।