সোমবার ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

যশোর সংস্কৃতির আতুর ঘর, পাঠাগারমুখী করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেব: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-১৭ ১৯:৫৪:৫৫

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরকে ‘সংস্কৃতির আতুর ঘর’ আখ্যা দিয়ে পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল ও আধুনিক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রবিবার আজ সকালে তিনি যশোর শিল্পকলা একাডেমি, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি, টাউনহল ক্লাব পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

 

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “যশোর সংস্কৃতির আতুর ঘর। আমি নিজেও যশোরের মানুষ, যশোরকে ছোট থেকেই যশোরকে হৃদয় লালন করি এবং খুব ভালোবাসি। আপনারা জানেন আমাদের দেশের কোন প্রধানমন্ত্রী নিজে এই যশোর ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করে গেছেন। আমি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে পারিনি, কিন্তু সেই দায়িত্ববোধ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেকই আমার আজকের এই সফর।”  

 

তিনি আরও বলেন, “যশোর ইনস্টিটিউট ও বর্তমান প্রজন্মকে পাঠাগারমুখী করতে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করব। আপনারা জানেন, বিগত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা আমাদের সংস্কৃতিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। আমরা চাই আবার নতুন করে সেই সব পিছিয়ে পড়া কাজকে এগিয়ে নিতে।”  

মন্ত্রী জানান, পাঠাগারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম গতিশীল করতে বরাদ্দ ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। 


এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং আমাদের ইনস্টিটিউটের একগুচ্ছ দাবি আমরা অফিশিয়ালি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রী মহোদয় ইতোমধ্যেই আমাদের বড় একটি সুখবর দিয়েছেন। আমরা ভালো কিছু আশা করছি। আমরা যশোরকে সুন্দর, সুস্থ সংস্কৃতির বলয় তৈরি করতে পারব।”  

 

জেলা প্রশাসক জানান, পাঠাগারের পুরনো ভবন সংস্কার, পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ, শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা কর্নার এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে যশোরের সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

 

সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে পৌঁছে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাডেমির কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কোর্স, নাটক, সংগীত ও চিত্রকলা বিভাগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির পুরনো বই সংগ্রহ, পাঠক উপস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সমস্যা সরেজমিনে দেখেন। টাউনহল ক্লাবে গিয়ে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।  

 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতি ছাড়া একটি জাতি এগোতে পারে না। যশোরের মাটি গুণীজন, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের জন্ম দিয়েছে। এই ধারাকে আবার সচল করতে হবে। তরুণদের বইয়ের কাছে, সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।” 

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্প কলা অ্যাকাডেমির মহা পরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, যশোর জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনিস্টিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুজন সরকার, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেনে খোকন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর ইনিস্টিউটের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক, সহ সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুর জামান পিন্টু সহ স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তারা মন্ত্রীর কাছে দীর্ঘদিনের অবহেলিত শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম সংস্কার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু এবং পাঠাগারে আধুনিক রিডিং জোন স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।  

 

মন্ত্রী আশ্বাস দেন, উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত যাচাই করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া। যশোরকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”  


পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা জানান, যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা ও বরাদ্দ সংকটে এর কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ে। মন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে নতুন আশা দেখা দিয়েছে।  


মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই পাঠাগার শুধু বইয়ের ঘর না থাকুক, এটি হোক জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সংলাপের কেন্দ্র। শিল্পকলা একাডেমি হোক তরুণ শিল্পীদের মঞ্চ।”  

 

দিনব্যাপী এই পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে যশোরের সংস্কৃতিচর্চাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর বার্তা দেন মন্ত্রী। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রীর এই উদ্যোগ যশোরের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭