সোমবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

Logo
Add Image

জাতীয়

আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

প্রকাশিত: ২০২৫-১১-০৭ ২০:১৬:১৪

News Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

এ উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর, ২০২৫ টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্ত মঞ্চে মিলিত হয়। এ সময় র‌্যালীতে অংশগ্রহণকারী সকল নেতাকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি, হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক, ফরহাদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি এবং স্থানীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ ৭ই নভেম্বর—একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল এমন এক রাজনৈতিক ঘটনা, যা দেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসেবে পালন করে। 

 

সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর হলো দেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সেদিন সিপাহি-জনতার ঐক্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে দেয়।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। এদিন থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশ এক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে। একের পর এক পরিবর্তন ও সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল ঘটে।

 

৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যার পর সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ তীব্র হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই ঘটে ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা।

 

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সেনা সদস্য ও সাধারণ জনগণ মিলে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফকে ক্ষমতাচ্যুত করে। বন্দী অবস্থায় থাকা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়।

 

এই দিনটি পরবর্তীতে “সিপাহী-জনতার বিপ্লব” হিসেবে খ্যাতি পায়। বিএনপি এ দিনকে জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখে, কারণ এই ঘটনার পর জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্বে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হন।

 

ইতিহাসবিদদের মতে, ৭ই নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। কেউ একে জাতীয় ঐক্যের দিন বলে মনে করেন, আবার কেউ বলেন এটি ছিল সামরিক শক্তির উত্থানের সূচনা।

 

এই দিনকে ঘিরে আজও নানা বিতর্ক, মতভেদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলমান।

 

দিনটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, র্যা লি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। 

 

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জাতীয় সংহতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকা কতটা জরুরি। এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক জটিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭