শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির তদারকি; ৩৭৪০পূজামণ্ডপে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সফল

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-২৩ ১৬:৪৫:৪৯

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহী রেঞ্জের ৮টি জেলায় ৩ হাজার ৭৪০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ।

 

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 

 

এ লক্ষ্যে রেঞ্জজুড়ে মোট ৫ হাজার ৪৭৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ৬৬৯টি টহল টিম, দুটি কুইক রেসপন্স টিম (QRT), বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

 

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, পিপিএমের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পূজা শুরুর প্রায় এক মাস আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম শুরু করা হয়। পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক সভার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী রেঞ্জের ০৮ টি জেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। 

 

এ দায়িত্ব পালনে শুধু পুলিশ সদস্য মোতায়েনের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, চলমান টহল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, জরুরি সাড়াদান এবং অনলাইন পর্যবেক্ষণকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়।

 

নিরাপত্তা কার্যক্রমে সাদা পোশাকে ৩৬৯ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) ১৩২ জন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে সতর্কতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। প্রচলিত পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি যুক্ত করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

 

রাজশাহী রেঞ্জ এর দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  ০৮ টি জেলায় মোট ৫ হাজার ৪৭৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা হয়।

 

এর মধ্যে সাদা পোশাকে ৩৬৯ জন এবং আরআরএফের ১৩২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক জনসমাগমের কারণে সৃষ্ট ট্রাফিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩৮৭ জন পুলিশ সদস্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন।

 

নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন দায়িত্বে জনবল বণ্টনের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

রাজশাহী রেঞ্জ এর ০৮ টি জেলার জন্য দুটি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে রাজশাহী রেঞ্জের আটটি জেলার জন্য দুটি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি দলে ৩৩ জন করে মোট ৬৬ জন সদস্য ছিলেন।

 

কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। নিয়মিত দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দ্রুত সাড়াদানকারী দল প্রস্তুত রাখার ফলে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজশাহী রেঞ্জজুড়ে মোট ৬৬৯ টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এসব টিমের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বজায় রাখা, সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। টহল কার্যক্রমের সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে আট জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহী রেঞ্জের ০৮ টি জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি ডিজিটাল পরিসরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলাকেও পূজার নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ করা হয়।

 

পূজার এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম:
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কার্যক্রম শুধু পূজার দিনগুলোতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। পূজা শুরুর প্রায় এক মাস আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পূজাকেন্দ্রিক নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এ সময় নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ে পুলিশি তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে পূজার আগে, পূজাকালীন সময়ে এবং সংশ্লিষ্ট জনসমাগমের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা পরিদর্শন,

নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা পরিদর্শন করেন।

 

এ ধরনের পরিদর্শনের মাধ্যমে জেলার নিরাপত্তা প্রস্তুতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।

 

রাজশাহী রেঞ্জ পর্যায়ের নির্দেশনা ও জেলা পর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ছিল এ তদারকির গুরুত্বপূর্ণ দিক।

 

জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে তদারকি: 
শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়।

 

অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), রাজশাহী রেঞ্জ নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার মনিটরিং কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, রাজশাহী রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার মনিটরিং কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন।

 

মনিটরিং টিমগুলো নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন তদারকির পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এভাবে জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হয়।

 

পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়:
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সভা করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। এসব সভায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা, স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় এবং পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

 

ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় স্থানীয় পর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭