সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১৭ ২২:৫৪:০৩
যশোর প্রতিনিধি:
‘মেধা ও সততায় গড়ব সবার বাংলাদেশ’—এই দৃপ্ত স্লোগান ও প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখার উদ্যোগে এক বিশাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সমাবেশে বক্তারা দেশগঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সৎ, যোগ্য ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উবায়দুল্লাহ হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং শহর সাংগঠনিক জেলার সেক্রেটারি খালিদ ইবনে খলিলের দক্ষ সঞ্চালনায় হাজারো তরুণের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি তাঁর সুচিন্তিত ও গতিশীল বক্তব্যে বলেন, “জাহেলি আঁধার পেরিয়ে আজ আমরা দিন বদলের নতুন এক ঐতিহাসিক বাঁকে এসে পৌঁছেছি। চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও অর্জিত নতুন স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ দেশের তরুণ সমাজকে কেবল একাডেমিক দিক থেকেই নয়, বরং মেধা, উন্নত চরিত্র ও নৈতিক সততার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে এক নতুন আজাদির ডাকে সাড়া দিতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কোনো বৈষম্য ও অন্যায়ের ঠাঁই এই নতুন বাংলাদেশে হবে না। একটি আত্মনির্ভরশীল, ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই দেশের সচেতন ছাত্রসমাজকেই মূল কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের কুরআনের আদর্শে গড়ে তুলে দেশ ও দশের সেবায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য উপস্থাপন করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, কেন্দ্রীয় স্কুল সম্পাদক ও যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহেদ আহম্মেদ এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, “ছাত্রসমাজই যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার বিপন্ন হয়েছে, তরুণরাই বুকে রক্ত দিয়ে সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিটি কর্মীকে পড়ালেখার ক্ষেত্রে সেরা মেধার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নৈতিকতার অধিকারী হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য আঞ্চলিক শিবিরের নেতৃবৃন্দও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন যশোর জেলা পশ্চিমের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন, যশোর জেলা পূর্বের সভাপতি মিজানুর রহমান, মাগুরা জেলা সভাপতি জুবায়ের এবং নড়াইল জেলা সভাপতি তাজ মোহাম্মদ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে এক কথা ব্যক্ত করেন যে, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজকে পড়াশোনার পাশাপাশি সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও সুচরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তরুণ সমাজ যদি ইসলামী আদর্শ ও জ্ঞানের আলোয় নিজেদের সুসজ্জিত করে, তবে কোনো অপশক্তিই এই দেশকে পিছিয়ে রাখতে পারবে না।
সমাবেশ শেষে মেধা, সততা ও কুরআনের আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করে প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিটি স্তরে ইনসাফ কায়েম এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বাত্মক আত্মনিয়োগ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। জোহরের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।