রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রীর ক্ষোভ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলির নির্দেশ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১৬ ২৩:৩৬:৫৯

News Image

জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সংরক্ষিত বনভূমিতে ঘর উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল—৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। তিনি বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলির জন্য টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) নির্দেশ দিয়েছেন।

 

আজ রবিবার (১৬ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জের হলুদিয়াচালা এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ করা ঘর পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি মুঠোফোনে টাঙ্গাইলের ডিএফওর সঙ্গে কথা বলেন এবং রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে বদলির নির্দেশ দেন।

 

ফোনালাপে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ করা ঘরটি মূলত একটি ছোট চা—স্টল ছিল, যা হয়তো কিছুটা বড় করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী ঘরটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে নিজের দায় এড়াতে ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। 

 

ডিএফওকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলি করবেন—এটি আমার অনুরোধ। একই সঙ্গে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের পর স্থানীয় মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন। 

 

আটিয়া বন আইন প্রসঙ্গে আহমেদ আজম খান বলেন, এ আইন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আইনটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো ঘরবাড়ি সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের হয়রানি না করার জন্য বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উচ্ছেদ করা ঘরটি পুননির্মাণের বিষয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট বগা মৌজার সংরক্ষিত বনভূমির সিএস ৪৫ নম্বর দাগের এমএম চালা বিটের হলুদিয়াচালা এলাকায় অভিযান চালায় বন বিভাগ। অভিযানে নির্মাণাধীন প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি ঘর উচ্ছেদ করে বন বিভাগ। টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেবের নেতৃত্বে ওই অভিযানে ধলাপাড়া, বাঁশতৈল ও হতেয়া রেঞ্জের বন বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।

 

রবিবার পরিদর্শনের সময় সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রীমহোদয়কে কেউ হয়তো ভুল বুঝিয়েছে। আমি কোন অর্থ নেইনি। বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে যেখানেই দেওয়া হোক আমি সেখানে যেতে রাজি আছি। 

 

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ নাজমুল আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭