শনিবার ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-৩১ ০০:০৪:১৭
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি নাটোর জেলার সিংড়া থানার অন্তর্গত হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২ টায় পরিদর্শনকালে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিচালনার কমিটির সদস্যগণ ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিচালনার কমিটির সদস্যগণ তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। কমিটির সদস্যগণ জানান যে-
বাংলাদেশের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও ব্যতিক্রমী এক মডেল গ্রাম হুলহুলিয়া। ১২টি পাড়ায় বিভক্ত, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হুলহুলিয়া গ্রাম। এ গ্রামের সকলের মধ্যে রয়েছে ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অবিচ্ছেদ্দ্য বন্ধন। যে গ্রামের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে। হুলহুলিয়ায় আলোকবর্তিকা হিসেবে ১৯৪০ সাল থেকে কর্মকান্ড পরিচালনা করছে সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ। নিজস্ব সংবিধানে চলে গ্রামের সকল কার্যক্রম ও বিচার ব্যবস্থা। এ গ্রামে নেই নিরক্ষর মানুষ, নেই বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা ও অসামাজিক কর্মকান্ড। গ্রামের সবাই সমাজবদ্ধ। গ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে নেই কোন কোন্দল, নেই হিংসা বিদ্বেষ। শতভাগ মাদকমুক্ত ও স্যানিটেশন সম্পন্ন গ্রামের নাম হুলহুলিয়া। স্বাধীনতার পর বিশেষ কোন কারণ ছাড়া গ্রামের কেউ মামলা করতে থানায় যায়নি। নিজেদের অনুদানে চলছে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ক্লাব সহ অনেক প্রতিষ্ঠান।
সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিচালনার একটি কমিটি রয়েছে। কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানসহ সদস্য রয়েছেন আরও ২১ জন। তারা সবাই গ্রামের পুরুষ ভোটারদের দ্বারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন তারাই সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এছাড়াও পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও রয়েছে তাদের। এছাড়া গ্রামের বিচার বিভাগীয় আটটি পাড়াতেও আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে।
গ্রামের কোনো সদস্যের কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে ওই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। তারা না পারলে বাকিরা চেষ্টা করেন। তারা না পারলে তখন পাড়ার যে কমিটি আছে, সেই কমিটি বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে। তারাও ব্যর্থ হলে তখন সামাজিক উন্নয়ন পরিষদে বিষয়টি তোলা হয়। সেখানে যে রায় দেওয়া হয় সেটি সবাই মেনে নেয়। সেই রায় কোন পক্ষের পছন্দ না হলে ২৯ দিন পর নিয়মিত আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে কেউ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন এমণ ঘটনা এখনও ঘটেনি।
পরিদর্শন শেষে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন।
পরিদর্শনকালে ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ এর সহধর্মীনি, নাটোর জেলার পুলিশ সুপার, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার ও তাঁদের পরিবারবর্গসহ সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ও বিশিষ্ট বগুড়ার সাংবাদিক এম আব্দুর রাজ্জাক সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।