সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৬ ২৩:৪৮:৫৮
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিলম ২০২৬) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর বাড্ডার বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার নানা দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পাশে পাওয়া চিরকুটে এক শিক্ষকের নাম উল্লেখ ছিল। সেখানে কিছু ব্যক্তিগত বার্তার পাশাপাশি “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে” এবং “স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া” কথাগুলো লেখা ছিল বলে জানা গেছে। এ সূত্র ধরেই সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক ও মিমোর এক সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বাড্ডা থানার পুলিশ বলছে, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, “মিমো খুব মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী ছিল। এমন ঘটনায় আমরা শোকাহত।” তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাওয়া হয়েছে। মিমোর মা তাহামিনা আক্তার বলেন, মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এখন এই মৃত্যুর পেছনের বাস্তবতা সামনে আনবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।