রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভোমরাদহ গ্রামে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, বিপাকে ক্ষুদ্র মৎস্যচাষি

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-১১ ১৭:৩০:০৬

News Image

মো. খাদেমুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ গ্রামে শত্রুতার জেরে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুদ্র মৎস্যচাষি আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাছ মরে যাওয়ায় এনজিওর ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোমরাদহ গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাড়ির পাশের প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সীমিত পুঁজি নিয়ে মাছ চাষই ছিল তাঁর আয়ের অন্যতম অবলম্বন। মাছ চাষের জন্য তিনি এনজিও থেকে ঋণও নিয়েছিলেন। মাছ বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধসহ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষ প্রয়োগ করে। পরদিন ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে মাছের খাবার দিতে পুকুরে গিয়ে আবুল কালাম আজাদ দেখতে পান, পুকুরের মাছ মরে পানির ওপর ভেসে উঠেছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই তাঁর মাছ চাষের স্বপ্ন ও পরিশ্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

 

ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুকুরের মাছ চাষের ওপর নির্ভর করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাছ নিধনের ঘটনায় তাঁর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন এনজিওর ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। পুকুরে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আয়েশা আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত চাষির ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা
একজন ক্ষুদ্র মৎস্যচাষির কাছে একটি পুকুরের মাছ শুধু ব্যবসার পণ্য নয়; এটি তাঁর জীবিকা, পরিবারের ভরণপোষণ এবং ঋণ পরিশোধের অন্যতম ভরসা। পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এ ধরনের ঘটনা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তাই অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি যাতে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭