বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০৮ ১১:৫২:৪৪
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে শিশুকে যৌন নিগ্রহের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ (২৩) এবং একই এলাকার আয়নালের ছেলে রুবেল (২৩)। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ:
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের অমতে তার প্রেমিককে বিয়ে করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। এ সময় অভিযুক্ত আরিফ ও রুবেল সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরে দুই আসামি পালাক্রমে ভুক্তভোগী শিশুটির ওপর যৌন নিগ্রহ চালান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর আসামিরা সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার ছয় দিন পর, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ১৪ নভেম্বর আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
পরবর্তীতে আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
আদালতের রায়:
সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য:
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান। তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট হারাধন চন্দ্র সিংহ।
আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলাটির নিষ্পত্তি হলো।