শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-০৪ ১৩:৪৯:৫৩
নিজস্ব প্রতিনিধি:
“ন্যায় বিচার সকলের অধিকার—আমাদের অঙ্গীকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর কার্যক্রম সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিদের অবহিতকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ২টায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে BLAST-এর আইনগত সহায়তা কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ এবং তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজের অনেক মানুষ আইনগত অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কিংবা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বিনামূল্যে বা সহজলভ্য আইনগত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তারা আরও বলেন, কোনো নাগরিক আইনগত সমস্যায় পড়লে তাকে সঠিক সময়ে যথাযথ পরামর্শ ও সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা গেলে অনেক জটিলতা শুরুতেই নিরসন করা সম্ভব। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও BLAST-এর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন BLAST টাঙ্গাইল জেলা কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট খন্দকার আমিনা রহমান, স্টাফ লইয়ার অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার এবং প্যানেল লইয়ার অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান মিন্টু, ৩ নম্বর ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সচিব এবং সকল ইউপি সদস্য।
নেটওয়ার্কিং সভায় স্থানীয় পর্যায়ে আইনগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা, জনগণের মধ্যে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও আইন সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাটি শুধু BLAST-এর কার্যক্রম সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তৃণমূলের মানুষকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনতে জনপ্রতিনিধি ও আইন সহায়তা সংস্থার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।