বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

যশোরে র‍্যাবের অভিযান: ভেজাল মধুসহ ব্যবসায়ী আটক, ৬ মাসের জেল ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৯ ১৭:৪৫:২০

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
যশোরের শেখহাটি এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল মধু ও খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে আসা আলোচিত প্রতিষ্ঠান ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ অভিযান চালিয়েছে র্যা ব। 

 

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাহাবুবুর ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বারবার সতর্ক করা এবং এর আগে একাধিকবার অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও সংশোধন না হওয়ায় এবার সরাসরি কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

র‍্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের নেতৃত্বে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই-এর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হন যে ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ কোনো প্রকার প্রাকৃতিক উৎস ছাড়াই সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপায়ে মধু তৈরি করা হচ্ছে। 

 

অভিযানে দেখা যায়: অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি, রং এবং রাসায়নিক ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল তথাকথিত 'খাঁটি মধু'। কালোজিরা ও সাদাতিলের মতো পণ্যগুলো বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই ভিন্ন ভিন্ন নামে অবৈধভাবে মোড়কজাত করা হচ্ছিল।প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ নকল মোড়ক ও লেবেল উদ্ধার করা হয়।

 

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কাসুন্দি তৈরির জন্য সেখানে গত বছরের পচে যাওয়া আম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।

 

অভিযান শেষে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ আইনের আওতায় ব্যবসায়ী মাহাবুবুর ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও মেয়াদের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। দণ্ড প্রদানের পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

র‍্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডারমেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর নজর রাখছিলাম। তারা মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিষাক্ত মিশ্রণকে মধু হিসেবে বিক্রি করছিল। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আমাদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহাবুবুর ইসলাম একজন অভ্যস্ত অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় অংকের জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই জরিমানা দিয়ে তিনি পুনরায় একই ব্যবসা শুরু করতেন। এবার সরাসরি কারাদণ্ড দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

 

বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে এমন অনেক নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা লোগো জালিয়াতি করে পণ্য বিক্রি করছে। সাধারণ মানুষকে মধু বা এ জাতীয় খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার এবং অনুমোদিত ডিলার বা বিশ্বস্ত উৎস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং-এর মতো অন্যান্য অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।# 
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭