শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সবাইকে সচেতনতার আহ্বান

প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-২৬ ২৩:৫১:৪৯

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলাতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়।

 

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আশপাশের খোলা জায়গা, ড্রেন-নালা এবং বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্ব
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত এডিস মশার কামড়ে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে বাড়ির আশপাশে অল্প পরিমাণ পানি জমে থাকলেও তা ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরির একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে।

 

এ কারণে শুধু বড় জলাশয় বা নোংরা স্থান নয়, বরং ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, বোতল, নির্মাণসামগ্রী কিংবা যেকোনো ছোট পাত্রে জমে থাকা পানির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বাড়ির ছাদ ও বারান্দা পরিদর্শন, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পানি সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ কমানো সম্ভব।

 

বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকতে পারে। তাই একবার পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বাড়ির আশপাশ পরিদর্শন করা জরুরি। কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

সম্মিলিত সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম উপায়
টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে সম্পূর্ণভাবে সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসস্থান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ বাড়ির ভেতর কিংবা আশপাশে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার প্রজননের সম্ভাব্য ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

 

নাগরিকদের করণীয়
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিতভাবে—
•    বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পানি জমে আছে কি না দেখতে হবে;
•    ফুলের টব ও গাছের পাত্রের নিচে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে;
•    পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার, কৌটা ও প্লাস্টিকের পাত্র সরিয়ে ফেলতে হবে;
•    পানির ট্যাংক ও অন্যান্য সংরক্ষণ পাত্র ঢেকে রাখতে হবে;
•    নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকলে তা অপসারণ করতে হবে;
•    বাড়ির ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখতে হবে;
•    নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের ঘর, ছাদ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭