বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১৩ ২১:৩৮:৫৯
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিট সংস্থার অফিসে এ আয়োজনে করে।
ইউনিটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি কবি ইমাম হাসান সোহান।
প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদুর রহমান মিলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে তিনি তাঁর ভাষণের একপর্যায়ে স্পষ্টভাবে বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের দর্পণ ও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই এই পেশার মর্যাদা ধরে রাখতে হলে সংগঠিত ও নৈতিক সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া-এগুলোই নৈতিক সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সংবাদকে বিকৃত করা বা প্রচারের গতি বাড়ানোর জন্য সত্যকে উপেক্ষা করা পেশার প্রতি বৈরী আচরণ, যা কখনোই কাম্য নয়।সভাপতি মিলন ধনবাড়ী উপজেলার সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই উপজেলার সংবাদকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার আদর্শ ধরে রেখে জনগণের পক্ষে কাজ করে আসছেন।
তাঁরা শুধু সংবাদই পরিবেশন করছেন না, বরং স্থানীয় নানা সমস্যা, দুর্ভোগ ও উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি ও সামাজিক সচেতনতামূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁরা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন-যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নিরপেক্ষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কখনো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পিছপা হননি, যা একজন সত্যিকারের সাংবাদিকের পরিচায়ক। ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের সদস্যরা যদি আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন অনেক সহজ হবে। ঐক্যের মাধ্যমে যেমন পারস্পরিক দক্ষতা বিনিময় সম্ভব, তেমনি যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও প্রচার আরও কার্যকরী হয়।
তিনি সকল সাংবাদিককে পেশাগত প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা মেনে চলা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে তরুণ সাংবাদিকদের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইনি সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার মতো উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এককভাবে নয়, যৌথ প্রচেষ্টায়ই সাংবাদিকতা পেশার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব এবং সমাজের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি সকল সাংবাদিককে পেশার প্রতি অটুট থাকার, জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার এবং কোনো প্রকার চাপ বা প্রলোভনে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ধনবাড়ী উপজেলার সাংবাদিকরা যদি এভাবেই নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করে যান, তবে তাঁরা শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও আদর্শ স্থাপন করতে সক্ষম হবেন। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সকল সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে এবং পেশার প্রতি নতুন উদ্যম যোগায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি ও আনন্দ টিভির টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি আল আমিন শোভন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম। সংবাদ মাধ্যমই হলো সমাজের আয়না, যা অসঙ্গতি তুলে ধরে, শাসক-শোষিতের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং জনমত গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রায়ই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন-কখনও হুমকি, কখনও মামলা। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং তথ্য অধিকার নিশ্চিতে যুগ যুগ ধরে যে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, তা অনস্বীকার্য।
আমি গর্বের সাথে বলতে চাই, টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট এই সংগ্রামের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। আমাদের সংস্থা কেবল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতার চর্চা এবং আইনি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমেও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি ধনবাড়ী উপজেলার নেতৃবৃন্দের বিশেষ প্রশংসা না করে পারছি না। তাঁদের আন্তরিকতা, কর্মঠতা এবং সংগঠনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা জেলা পর্যায়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সঠিক নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়েও সাংবাদিকতার মান উন্নীত করা সম্ভব। তাঁদের এই উদ্যোগ আমাদের সকলের জন্য প্রেরণা-এটি শুধু ধনবাড়ী বা টাঙ্গাইলের জন্য নয়, গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আজও হুমকির মুখে। কখনও গুজবের জালে, কখনও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগে, আবার কখনও মালিকপক্ষের চাপে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা যদি সত্যিই জনগণের কণ্ঠস্বর হতে চাই, তাহলে এই বাধাগুলোকে সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তার ইতিহাসে যেমন সবসময় অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক সাংবাদিকতার পক্ষে কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মো. ইউসুফ আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও একতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন মধুপুর ও ধনবাড়ী ইউনিটের সকল সদস্যবৃন্দ। দ্বিতীয় পর্বে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি ও রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
মো. সোলায়মানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় নতুন নেতৃত্বকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সবার ঐকান্তিক অংশগ্রহণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সভার সমাপ্তি ঘটে।