শনিবার ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-০৩ ০০:১০:৪৯
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে গণভোটের রায় ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
আজ শনিবার (২ মে, ২০২৬) বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট জজ কোর্ট মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা সরকারের বর্তমান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন। এটি জনগণের মৌলিক অধিকার ও সুশাসনের পক্ষে এক বিশাল ম্যান্ডেট। অথচ সরকার এই জনমতকে উপেক্ষা করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কাজ করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সরকারের ভেতরে ও বাইরে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুক্তার আলী বলেন, জনগণের প্রত্যাশাকে তুচ্ছজ্ঞান করে কোনো শক্তিই টিকে থাকতে পারে না। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
যশোর এম এম কলেজের ভিপি আব্দুল কাদের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বলেন, রাষ্ট্রকে অবশ্যই নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হবে। তিনি দেশের তরুণ সমাজকে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি রাশিদুল ইসলাম, অধ্যাপক আশরাফ আলী ও মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে জজ কোর্ট মোড় থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মনিহার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। কর্মসূচি চলাকালীন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি শেষ হয়।
বক্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার যদি দ্রুত জনগণের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নেওয়া হবে।