মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-২৮ ১৫:২৫:০২
অনালাইন নিউজ ডেস্ক:
নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। সেদিন ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন নাসিমা বেগম।
দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে এখন বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
তথ্যনুযায়, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।
ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান।
কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।