শুক্রবার ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

খেলাধুলা

বিপিএলে দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের দায়ে ক্রিকেটারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিসিবির

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-০৭ ২৩:৫৬:৩০

News Image

টাঙ্গাইল দর্পণ স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএলে দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের অভিযোগে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ম্যাচ বেটিং, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রমাণ গোপনের মতো গুরুতর অনিয়ম।

 

বৃহস্পতিবার বিসিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িতদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই তালিকা প্রকাশ করে বোর্ড।

 

বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে আসে ২০২৫ ও ২০২৬ বিপিএল ঘিরে নানা অনিয়মের চিত্র। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব, ডিমান্ড নোটিশ উপেক্ষা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

 

বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ মালিক মোহাম্মদ তৌহিদুল হক তৌহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান।

 

তাদের মধ্যে অমিত মজুমদার ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা বা বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লাবলুর রহমান ও তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।

 

বিসিবির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তি ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি, বরং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ধ্বংস করেছেন।”

 

সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। বিসিবি জানিয়েছে, নবম, দশম ও একাদশ বিপিএলসহ একাধিক আসরে তিনি দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।

 

বোর্ড আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচজনকে আপাতত সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ১৪ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। ক্রিকেট প্রশাসনের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

 

ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি, তবে বিস্তৃত এই তদন্ত ভবিষ্যতে বিপিএল পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭