প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১১-০৮ ১৫:৫০:৩৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:
‘করবো সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৮ নভেম্বর ২০২৬ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, টাঙ্গাইলের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায়ী সংগঠনের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দিবসটির আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। র্যালি শেষে একই স্থানে জাতীয় সমবায় দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, বিপিএম-সেবা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনাব আবু সাঈদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার হোসাইন খান সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে সমবায় ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমবায়ের মূল দর্শন হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীলতা ও সম্পদের সুষম ব্যবহার। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমবায় কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, সমবায় সংগঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন ও বিপণনসহ বিভিন্ন খাতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্য সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় সমবায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সমবায় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা মনে করেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত সমবায় উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত হয়। দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমবায়ের গুরুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতার চেতনা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে তুলে ধরা হয়।