প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩


জেলা খবর

যশোরে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: নারীসহ গ্রেপ্তার ২, অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশিত: ২০২৬-১১-০৩ ১৬:২৫:১০

News Image

মোঃ উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত আলেক নুর ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম জোড়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের জেরে ঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জেসমিন বেগম (৩৮) নামের এক নারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

 

পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ওই দম্পতির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কেশবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অপর আসামি মোস্তফা কামালকেও আইনের আওতায় আনা হয়।

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি জেসমিন বেগম জানান, তিনি ও নিহত মাজেদা একই এলাকার আকিজ জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে মাজেদার সঙ্গে মাঠে ঘাস কাটতে যান জেসমিন।

 

পূর্বপরিচিত মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের বিগত ৪-৫ মাস ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন মাঠের মধ্যে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন নিহত মাজেদা বেগম। বিষয়টি জানাজানির ভয়ে আসামি জেসমিন ও মোস্তফা কৌশলে মাজেদা এবং তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী আলেক নুর ইসলামকে কলমি শাক তোলার কথা বলে একটি ঘেরের পাশে নিয়ে যান।

 

একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোস্তফা তাঁর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেক নুর ইসলামের বগলের নিচে ও মাথায় আঘাত করে একটি পুরোনো সেচ মেশিনের গর্তে ফেলে দেন। একই সময়ে অপর আসামি জেসমিন বেগম মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেন। মাজেদাকে নিস্তেজ মনে হলেও নিঃশ্বাস সচল দেখতে পেয়ে আসামি কাঁচি দিয়ে তাঁর তলপেটে ও পায়ে পোচ দিয়ে তাঁকেও সেচ মেশিনের গর্তে ফেলে দেন।

 

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর মোস্তফা আলেকের শরীরের ওপর গামছা ঠিকঠাক করে দেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেন।

 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক জেসমিন কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামে নুর ইসলামের স্ত্রী ও মোস্তফা কামাল কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।