প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-২৫ ১৭:৪৭:৩২
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে হরেক রকমের শীতকালীন সবজি। পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহও বেশ ভালো; তবে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। শীতকালীন সবজির খুচরা বাজারে প্রায় প্রতিটি সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
রবিবার শহরের বড় বাজার, পালবাড়ি ও রেলস্টেশন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও দাম চড়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া মানভেদে প্রতি কেজি ফুলকপি ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি বেগুন ও গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গার মতো কিছু সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের মধ্যে কেবল পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুরোনো আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যশোর ১নং সেক্টর উপশহর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী মিনিয়ারা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শীতের মৌসুমের শুরুতেই তো সবজির দাম কিছুটা সহনশীল থাকার কথা। কিন্তু পেঁপে আর আলু ছাড়া ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বললেই চলে। বাজারে ফুলকপি, শিম বা টমেটোর কাছে যাওয়ার উপায় নেই। আমাদের আয় বাড়েনি, অথচ প্রতিদিন বাজার খরচ বেড়েই চলেছে।
একই সুরে কথা বলেন যশোর মোল্যাপাড়ার বাসিন্দা শেখ নুর জালাল। তিনি বলেন, শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটোর দাম ঢের বেশি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসান আলী ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শীতের আগমন কেবল শুরু হচ্ছে। খেতের ফসল বাজারে আসতে আরও একটু সময় লাগবে। সবজি পুরোপুরি বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম এমন চড়া থাকতে পারে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। কোথাও কোনো অনিয়ম দেখলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।”