প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩


জেলা খবর

হাসপাতালে সরকারি ওষুধ নেই, আছে মহাসড়কে; জনমনে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-২৫ ১৪:৩৯:৫৭

News Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ওষুধ রোগীদের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে অবহেলায় পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি ওষুধের সংরক্ষণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও ঘটনাস্থলের চিত্রে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে পড়ে রয়েছে সরকারি ওষুধের প্যাকেট। যেসব ওষুধ অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের কথা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, সেসব ওষুধ এভাবে পড়ে থাকার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

জনসাধারণের অর্থে কেনা এসব ওষুধ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রোগীদের মধ্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের পরিবর্তে সেগুলো যদি রাস্তার পাশে পড়ে থাকে, তাহলে সরকারি সম্পদের অপচয় ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

তাদের মতে, সরকারি ওষুধ কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এগুলো জনগণের অর্থে কেনা এবং জনসেবার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়। ফলে ওষুধগুলো কীভাবে এখানে এল, কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল, কেন নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো হয়নি এবং দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পড়ে থাকলে এর জন্য দায়ী কে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

 

এ ঘটনাকে শুধু সরকারি ওষুধের অপচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, একদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, অন্যদিকে জনগণের অর্থে কেনা ওষুধ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে তা জনস্বার্থের প্রতি চরম অবহেলার শামিল।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওষুধগুলোর উৎস, বরাদ্দ, পরিবহন ও বিতরণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি ওষুধ এভাবে পড়ে থাকার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

জনস্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ওষুধের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ মূল্যায়নের স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।