প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩


জেলা খবর

বীরগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী মনিরার স্বপ্ন থেমে গেল সড়কে, শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-২৫ ১৪:১৬:১২

News Image

মোজাম্মেল হক, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দরিদ্র পরিবারের কষ্টে গড়ে ওঠা এক মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে গেল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার আর নেই। তাঁর অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। যে মেয়েকে ঘিরে বাবা-মা দেখেছিলেন সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই মেয়ের নিথর দেহই এখন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিহত মনিরা আক্তার দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মকবুল ইসলাম ও মোছা. রুখসানা বেগমের মেয়ে। দুই সন্তানের মধ্যে মনিরা ছিলেন তাঁদের একমাত্র মেয়ে।  একমাত্র  মো. আরাফাত ইসলাম।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে বাড়িতে আসে, ফেরার পথে সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মনিরা। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি।

 

মনিরার শিক্ষাজীবন ছিল সাফল্যে ভরা। তিনি বীরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করেন। পরে রংপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

 

মনিরার বাবা-মা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। সীমিত সামর্থ্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। নিজেদের কষ্টকে আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস চেষ্টা করেছেন। তাঁদের আশা ছিল, একদিন মেয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হবেন, পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার নির্মমতায় সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার। যে মেয়েকে ঘিরে ছিল পরিবারের হাজারো আশা, যে মেয়ের সাফল্যে একদিন বদলে যেতে পারত একটি পরিবারের ভাগ্য, সেই মেয়েই আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। 

 

মনিরার শূন্যতা কোনো সান্ত্বনাতেই পূরণ হওয়ার নয়। সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা—যাঁদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, পরিশ্রম ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তাঁদের আদরের মেয়ে। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই গভীর বেদনার।