প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-১০ ০০:১৯:১৭
টাঙ্গাইল দর্পণ ডেস্ক:
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খতিবকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে; এমন অভিযোগ তুলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন একদল মুসল্লি। এ সময় জামায়াত-শিবির ও জামায়াতের আদর্শিক গুরু মওদূদীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তবে খতিবের অপসারণ নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা থাকার অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব মিম্বারে থাকবেন এবং মুসল্লিদের নামাজ পড়াবেন। তিনি বলেন, ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; ইসলাম আল্লাহর, তৌহিদীদের এবং মুসলমানদের।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনে জয় পায়নি দলটি।
সম্প্রতি বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানাতে গিয়ে তাঁকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।
খতিবের এসব মন্তব্যের পর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগানের ঘটনা ঘটে। তবে খতিবকে অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে জামায়াতের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।