প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩


জেলা খবর

তুলির আঁচড়ে দেবীর প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত বগুড়ার কারিগররা!

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০৯ ১৯:৫৫:০৫

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
শরতের আবহে বগুড়ায় বাজতে শুরু করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আগমনি সুর। আর কয়েকদিন পরই ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও আরাধনায় মুখরিত হবে পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। সময়মতো প্রতিমা হস্তান্তরে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। অন্যদিকে মণ্ডপসজ্জা, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।

 

পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং গমন করবেন নৌকায়। এরই মধ্যে উৎসবের ক্ষণগণনা শুরু করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা।

 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা। কেউ প্রতিমায় কাদামাটির শেষ প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ আবার শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন।

 

কারখানাটির স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, এ বছর বগুড়া সদর ও আশপাশের উপজেলা ছাড়াও জামালপুর ও নওগাঁ থেকে ২০টি প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছেন। গতবারের তুলনায় এবার অর্ডার কম। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি কাঁচামাল ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। প্রতিমা সেটগুলো ২৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে অর্ডার নেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের গেট, প্যান্ডেল, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কারিগররা। জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় এবার ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৮১টি। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তাকর্মী রাখা হবে।

 

এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকবে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

 

এখন শুধু অপেক্ষা মহালয়ার। 

 

এরপর ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর আরাধনার মধ্য দিয়ে বগুড়ার মণ্ডপগুলোতে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।