প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩


জেলা খবর

মাগুরার শ্রীপুরে এক পক্ষের খুন, অন্য পক্ষের বাড়িতে তাণ্ডব! ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার দুই পরিবার!

প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-২২ ২০:৫৭:৩১

News Image

মোঃ সাইফুল্লাহ,  মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা শ্রীপুরের গয়েশপুর ইউনিয়নের সভাশতডাঙ্গা গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে মধ্যরাতে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এক পক্ষের খুন, অন্য পক্ষের বাড়িতে তান্ডব! এমনকি আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে দুই পরিবার! পূর্ব শত্রুতার জেরে আমিরুল মোল্যা (৫০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর থেকেই এই প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। এরই মধ্যে হামলার সাথে জড়িতদের বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। 

 

তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িত না থেকেও এবং থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামি না হয়েও প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোক হওয়ায় মোতালেব বিশ্বাস ও আব্দুল হাই মাস্টারের বাড়িতে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সভাশতডাঙ্গা গ্রামের আমিরুল মোল্যা (৫০) নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন। পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল, ফরিদ বিশ্বাস, ফিরোজ বিশ্বাস ও মিরাজ বিশ্বাস দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমিরুলের বাড়িতে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা আমিরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার শ্যামলী ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিরুল মোল্যা মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারী ওই ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

 

২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১১ টার দিকে সভাশতডাঙ্গা গ্রামের মনছের, শহিদুল্লাহ, আশিক, হাসিব, আব্দুল্লাহ, সজিব ও রাজিবসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট চালায়। দলটির মূল টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় গ্রামের নিরিহ মোতালেব বিশ্বাস ও আব্দুল হাই মাস্টারের বাড়ি। অথচ শ্রীপুর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এই দুই পরিবারের কোনো সদস্যের নাম উল্লেখ ছিল না এবং তারা ঘটনার সাথে জড়িতও ছিলেন না। তা সত্ত্বেও সোমবার মধ্যরাতে তাদের বাড়িঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবি করেছে।

 

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওলি মিয়া জানান, সোমবার রাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।