প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩


জেলা খবর

টাঙ্গাইলে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক দূষণ রোধে বর্জ্য পৃথকীকরণ ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-০২ ২২:৪২:২৩

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি: 
প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনের এ কর্মসূচিতে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে শপথ নেন।

 

প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পের আওতায় গত ৩১ আগস্ট বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬৫ জনের বেশি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন।

 

ক্যাম্পেইনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উৎসস্থলে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের একটি সমন্বিত শৃঙ্খল হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বর্জ্য কমানো, পুনঃব্যবহার, পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—‘৪আর’ (Reduce, Reuse, Recover and Recycle) কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে প্লাস্টিকসহ অপচনশীল ও পচনশীল বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণের জন্য দুই প্রতিষ্ঠানকে ১২০ লিটার ধারণক্ষমতার চার সেট করে মোট আটটি রঙিন বিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নীল বিনে প্লাস্টিকসহ অপচনশীল বর্জ্য এবং সবুজ বিনে পচনশীল বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

এ ছাড়া পৃথক করা প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসকে একজন স্থানীয় রিসাইক্লারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ওই রিসাইক্লাররা ক্যাম্পাস থেকে পৃথক করা প্লাস্টিক সংগ্রহ করবেন।

 

ক্যাম্পেইন থেকে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৃথক বিন স্থাপন, সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে প্লাস্টিক না মেশানো এবং সপ্তাহে অন্তত এক দিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

 

বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শ্রেণিকে সম্পৃক্ত করে প্রতি মাসে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহমুদা বিনতে লতিফ বলেন, ক্যাম্পাসে দেওয়া বিনগুলো যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত করা হবে।

 

প্রকল্পটি কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারত্বে ইউএনডিপি বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)।

 

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৪০টি বিন বিতরণ করা হবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় রিসাইক্লিং অংশীদারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের পরিমাণ নিয়মিতভাবে রেকর্ড করা হবে।

 

টাঙ্গাইলের পর আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার কমার্স কলেজে একই ধরনের ক্যাম্পেইন আয়োজনের কথা রয়েছে।