প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩


জেলা খবর

যশোরে শিশুখাদ্যের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: তানসীপ ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-২৪ ২০:১৬:৩৬

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ভুয়া বিএসটিআই লোগো ব্যবহার এবং কারখানার ঠিকানা ছাড়া পণ্য সংরক্ষণের দায়ে যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাটে ‘তানসীপ ট্রেডার্স’ নামের একটি শিশুখাদ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

 

সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) সকালে সদর উপজেলার পুলেরহাট বাজারের রাজগঞ্জ রোড এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।

 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, রাজগঞ্জ রোড এলাকার শিশুখাদ্যের ডিলার ‘তানসীপ ট্রেডার্স’-এ তদারকি চালানোর সময় ভোক্তা-অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধ দৃশ্যমান হয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া শিশুখাদ্য গুদামজাতকরণ ও বিক্রি করে আসছিল। এ ছাড়া পণ্যের গায়ে কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার এবং উৎপাদক কারখানার কোনো সুস্পষ্ট ঠিকানা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

 

শিশুখাদ্যের মতো স্পর্শকাতর পণ্যে এমন মারাত্মক অনিয়মের সত্যতা মেলায় আইন লঙ্ঘনের দায়ে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর তিনটি পৃথক ধারায় তানসীপ ট্রেডার্সকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

 

অভিযান পরিচালনাকালে সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা ও বাজারব্যবস্থা তদারকিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর স্থানীয় প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল।

 

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অধিদপ্তরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাজারে ভেজাল, মেয়াদউত্তীর্ণ কিংবা নিয়মবহির্ভূত পণ্য বিক্রি বন্ধে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এবং বাজার ব্যবস্থা সুসংহত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

পুলেরহাট বাজারের এই অভিযানের পর স্থানীয় সাধারণ ক্রেতা ও অভিভাবকদের মাঝে সন্তোষ দেখা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শিশুখাদ্য নিয়ে এ ধরনের অসাধু ব্যবসা বন্ধে নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।