প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩


জেলা খবর

টাঙ্গাইলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১৭ ১০:৩৮:১৩

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য র‌্যলি, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট, ২০২৬) টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন।

কর্মসূচির শুরুতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং জলজ পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।

পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলাশয় ও মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে জলজ জীববৈচিত্র্যও রক্ষা করা যাবে।

 

পরে সদর উপজেলা পরিষদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি।

 

আলোচনা সভায় দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু সংরক্ষণ, জলজ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য খাতের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, নদী, খাল, বিল, হাওর, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ের পরিবেশ সুরক্ষিত না থাকলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

তারা আরও বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মৎস্যচাষি, জেলে, মৎস্যজীবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জলাশয় দূষণ রোধ, মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বক্তারা বলেন, মৎস্য খাতের উন্নয়নকে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাছ উৎপাদন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে অবদান ও সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিতদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীল ও টেকসই মৎস্যচাষে আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখন থেকেই কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ খাতকে আরও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।

 

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।