প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১৬ ২২:২৯:৫২
জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের ২০২৬ সালের এসএসসি পাশের খুশিতে মিষ্টি না কিনে শিক্ষার্থীরা একজন সহপাঠীর মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা সহায়তায় জন্য ওই পরিবারেরনিকট নগদ অর্থ দিয়েছেন।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ওউ স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী এসএসসি উত্তীর্ণ নাঈম সিকদারের পিতা সাত্তার সিকদারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ বিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ আরোও বিশ হাজার টাকা ওই শিক্ষার্থীর বাবার হাতে তুলে দিয়েছেন।
কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদল বলপন, শুধু এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই নয়, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সকলেই যার যার অবস্থান থেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়েট একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অসুস্থজনিত সংকটকালীন মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। একজন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো পরম সৌভাগ্যের। যখন একজন মানুষ বিপদে থাকে, অসুস্থ থাকে সে সময় যখন তার কাছে চিকিৎসার জন্য কোন আর্থিক সচ্ছলতা না থাকে তখন সেই মানুষটি বুঝে সে সময়ের কত যন্ত্রণা ও বেদনা।
সব মিলিয়ে নাঈমের মায়ের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দিয়েছেন ২০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দিয়েছেন আরও ২০ হাজার টাকা।
কলতান বিদ্যানিকেতন সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই-তিন দিন আগে নাঈমের মায়ের শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় কারণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এই পরিবারটি দুশ্চিন্তা ও টানাপোড়েনে পড়ে যায়। যেহেতু তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই সেহেতু কিভাবে ওই রোগীর পরিবারটি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করবে।
এ বিষয়টি জানার পর নাঈমের সহপাঠীরা সিদ্ধান্ত নেয় এসএসসি পাসের আনন্দে শিক্ষার্থীরা মিষ্টিমুখ না করে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াবে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর মা লাইলী বেগম সিরাজগঞ্জ খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল সাত্তার শিকদার প্রবাসে রয়েছেন (কাতার)। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর বাবার বর্তমান অবস্থা খুবই নাজেহাল (শারীরিক ও অর্থনৈতিক) ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ওই রোগীর সঠিক চিকিৎসার ব্যবহার বহন করতে পারছে না। তিনি যেখানে কর্মরত রয়েছেন সেখানে দীর্ঘদিন যাবৎ কষ্ট রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর দাদা আব্দুস সাত্তার শিকদার।
কলতান বিদ্যানিকেতনের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন বলেন, এসএসসি পাশ করার আনন্দে মিষ্টিমুখ করার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসার জন্য ওই পরিবারের বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত।
এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর দাদা আব্দুল লতিফ সিকদার (রোগীর শশুর ) বলেন, কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষক বৃন্দ সকলেই আমার পুত্রবধূর চিকিৎসার জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা করলেন তার জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এ বিষয়ে কালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের খান বলেন, কলতান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকবৃন্দ একটি মানবিক ও ভালো কাজ করেছে। ওই স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর মা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে। ওই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নেই ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করার। এসএসসি পাশের খুশিতে মিষ্টি না কিনে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ মিলে ওই পরিবারের হাতে চল্লিশ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। এটি মানবিক একটি কাজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ সকলকেই আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি একজন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য।