প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩


জেলা খবর

যশোরে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীন খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-০১ ২০:৩০:২১

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
কোরআনের তাফসির ও ইসলামের দাওয়াতকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীন খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন যশোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মুফাস্সিরগণ ও ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী এই সম্মেলন হয়।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা ও তাফসিরের বিকল্প নেই। মুফাস্সিরদের দায়িত্ব শুধু মাহফিলে সীমাবদ্ধ না রেখে ঘরে ঘরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরআনের মর্মবাণী পৌঁছে দিতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীন, খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও হামদ-নাতের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

 

নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি পর্বে খুলনা বিভাগের নতুন সেকশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে পরিচিত হন মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদ। নতুন নেতৃত্বকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত মুফাস্সির ও অতিথিরা।

 

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, _"আমাদের দেশের মানুষ কোরআনপ্রিয়। কিন্তু কোরআনের সঠিক শিক্ষা থেকে অনেকেই দূরে। মুফাস্সিরগণই পারেন এই শূন্যতা পূরণ করতে। আপনাদের জবান আল্লাহর আমানত। সেই আমানতের হক আদায় করে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। সরকারও ইসলামের কল্যাণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। আলেম-ওলামাদের পরামর্শ নিয়ে আমরা দেশ গড়তে চাই।"

 

প্রধান আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাস্সিরীন বিভাগের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা নূরুল আমিন। বলেন, _"যশোর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চেতনার জেলা। এখানকার মানুষ দ্বীনকে ভালোবাসে। মুফাস্সিরীনদের সম্মেলন এই এলাকার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতির হাত থেকে বাঁচাতে হলে কোরআনের শিক্ষা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। আমরা সংসদে ও মাঠে সবসময় ওলামায়ে কেরামের পাশে আছি।"

 

সম্মেলনে আরও বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী ইনামুল হক, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজ উদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা,  বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন বিভাগের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দীন হেলালী।

 

খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাত শতাধিক মুফাস্সির, ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ।


বক্তারা তাদের আলোচনায় বলেন, মাজলিসুল মুফাস্সিরীন একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। এর মূল উদ্দেশ্য কোরআনের খেদমত করা, মুফাস্সিরদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং সমাজে কোরআনভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।

 

খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলায় তরুণ মুফাস্সিরদের জন্য আধুনিক তাফসির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য পরিহার করে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার জন্য মাহফিলে একটি নীতিমালা অনুসরণের সিদ্ধান্ত, ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে কোরআনের বিশুদ্ধ তাফসির প্রচারের জন্য বিভাগীয় মিডিয়া সেল গঠন। অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মুফাস্সিরদের সহায়তার জন্য বিভাগীয় কল্যাণ তহবিল গঠন। ওয়াজ মাহফিলের জন্য মাঠ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা সহজ করার বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো।

 

নবনির্বাচিত সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদ বলেন, "আমাদের ওপর যে দায়িত্ব এসেছে তা অত্যন্ত কঠিন ও পবিত্র। আমরা সকল মুফাস্সিরকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কোরআনের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

 

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, "খুলনা বিভাগে কোরআনের খেদমত আরও বেগবান করতে হবে। বিভেদ ভুলে এক প্ল্যাটফর্মে এসে আমরা যদি কাজ করি, তাহলে সমাজে শান্তি আসবে ইনশাআল্লাহ।"

 

সম্মেলনে অংশ নিতে সকাল থেকেই যশোরসহ আশপাশের জেলা থেকে মুফাস্সির ও ধর্মপ্রাণ মানুষ জড়ো হন। অনেকে বলেন, এ ধরনের সম্মেলন নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ কোরআনের সঠিক জ্ঞান পাবে এবং সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর হবে।

 

সম্মেলনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা ও বিভাগীয় মাজলিসুল মুফাস্সিরীনের নেতৃবৃন্দ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ হওয়ায় আয়োজকরা প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

 

দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়। মুনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং কোরআনের খেদমত কবুলের জন্য প্রার্থনা করা হয়।