প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩


জেলা খবর

জেলা পরিষদ ও সিনজেনটার এর যৌথ আয়োজনে যশোরে ‘নকল ও ভেজালকে না’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-৩০ ১৭:৪৯:০৭

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্-সামি, যশোর প্রতিনিধি:
কৃষিতে নকল ও ভেজাল সার, বীজ ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে যশোরে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

আজ ৩০ জুলাই, ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পরিষদ ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে ‘নকল ও ভেজালকে না’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

জেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান।

 

স্বাগত বক্তব্যে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, সিনজেনটা ও বাংলাদেশ সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে। নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে কৃষক প্রশিক্ষণ, ডিলারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন ফিচার নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কৃষকের আয় বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, নকল, ভেজাল ও দুর্নীতি সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষক ভেজাল বীজ ও সার ব্যবহার করলে ফলন কমে যাবে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই প্রশাসন, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

প্রধান বক্তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ভেজাল ও নকল পণ্য সম্পর্কে কৃষকদের জানাতে ও সচেতন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। কোনটি আসল আর কোনটি জাল—তা কৃষকদের চিনতে শেখাতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়; সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস বলেন, শুধু আইনের প্রয়োগ দিয়ে ভেজাল বন্ধ করা যাবে না। মানুষকে সচেতন করতে হবে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ নকল পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল সার, নকল কীটনাশক ও বীজ কৃষকদের সরাসরি ক্ষতির মুখে ফেলছে। একবার ভেজাল বীজ ব্যবহার করলে পুরো মৌসুমের ফসল নষ্ট হতে পারে। এতে মাটির উর্বরতাও কমে যায়। তাই কৃষকদের পণ্য কেনার সময় প্যাকেট, ব্যাচ নম্বর ও হলোগ্রাম ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। তিনি কৃষকদের জন্য সহজবোধ্য লিফলেট ও ভিডিও তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান।

 

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন যশোরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু, প্রেসক্লাব যশোরের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাদের, বাসসের যশোর জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের কৃষক রইচ উদ্দিন এবং সদর উপজেলার ইমামুল এন্টারপ্রাইজের রিটেইলার ইমরান হোসেন।

 

কৃষক রইচ উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে গিয়ে বুঝি না কোনটা আসল, কোনটা নকল। দোকানদার যা দেয় তাই কিনি। সরকার যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা উপকৃত হব।’

 

রিটেইলার ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরাও ভেজাল চাই না। কিন্তু কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান নকল প্যাকেট তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। এতে আমাদেরও লোকসান হয়।’

 

চেম্বার নেতা এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, ব্যবসায়ীদের সুনাম রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর কিশোর কুমার সাহা বলেন, বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।


বৈঠক শেষে বক্তারা কৃষক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত বাজার তদারকি, নকল পণ্য চেনার উপায় সম্পর্কে প্রচারণা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

অনুষ্ঠানে জেলার কৃষি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, ‘নকল ও ভেজালকে না’—এই বার্তা প্রতিটি গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তারা ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।