প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩


জেলা খবর

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২৫ ২৩:০৬:০৬

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া’র সার্বিক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় বিগত অর্থবছরের সম্পাদিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রমের পর্যালোচনাসহ আগামী অর্থবছরের কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ণের লক্ষ্যে বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য একটি কার্যকর কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ের লক্ষ্যে ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন ২৫-২৬ জুলাই, ২০২৬ আরডিএ, বগুড়ার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমপি।

 

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক, মো.তৌফিকুর রহমান, মো. রেজাউল করিম বাদশা, সংসদ সদস্য, বগুড়া-৬ (বগুড়া সদর),  মো,. মোশারফ হোসেন, এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম),  কাজী রফিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) ও সুরাইয়া জেরিন (রনি), সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য (জয়পুরহাট-বগুড়া)। 

 

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ, এমপি,  সংসদ সদস্য, বগুড়া-০৫ (শেরপুর-ধুনট), ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব), রাজশাহী বিভাগ, ড. রফিকুল ই মোহামেদ, সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় ও মো. এহছানুল হক, সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান 

 

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাডেমী’র কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। 

বর্তমান বিশ্ব-সংঘাত, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলা করছে। এসব সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উন্নয়নশীল দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর। জাতীয় পর্যায়েও বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে।

 

এই বাস্তবতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে বৈশ্বিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া নিয়মিত গবেষণা, প্রায়োগিক গবেষণা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ সেবা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আরডিএ’র উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য মডেল ও প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে পানি-সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, পল্লী জনপদ, সম্পদ হস্তান্তর মডেল, কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস, সৌরচালিত সেচ, দ্বিস্তর কৃষি, নারী বীজ উদ্যোক্তা মডেল, রুরাল প্ল্যান্ট ক্লিনিক, ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তি, চরাঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, আইওটিভিত্তিক সেচ ও মৃত্তিকা স্বাস্থ্য পরিবীক্ষণ, কমিউনিটি ভিত্তিক বাণিজ্যিকভাবে দেশি মুরগি পালন এবং গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম।

 

প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমপি,  মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তার বক্তব্যের শুরুতে ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজপথে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি সংবিধান অনুসারে প্রতিটি নাগরিক ও পেশাজীবী মানুষের উপযুক্ত মর্যাদা এবং সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে বক্তব্যে তুলে ধরে। তিনি একটি সুশীল, শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলার ক্ষেত্রে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বর্তমান আধুনিক যুগের সাথে তালমিলিয়ে বিভিন্ন নীতিমালা সংশোধন, তরুণদের জন্য সঠিক নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশিদের অবারিত কাজের সুযোগ প্রসারিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নেয়ার আহবান জানান। 

 

তার বক্তব্যে কাজের সফলতা অর্জনে নিয়মতান্ত্রীক পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ কে সফল করা উদ্যোগ গ্রহণ করার উপর জোর দেন। এছাড়া তিনি তরুণ ও যুব সমাজের জন্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে সবাই কে সামনে এগিয়ে আসার আহবান জানান। 

 

এছাড়া  প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকল কাজ ও উদ্যোগ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উদার মানসিকতা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করার উপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

 

তিনি পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা ও সঠিক বাজেট প্রণয়ন করার উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। এছাড়া তিনি সরকারের উন্নয়ন দর্শন অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত জনতার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ জনগনের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান।

 

তিনি রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষাকে মানসম্মত ও সার্বজনীন করার উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা পর্যাপ্ত না পাওয়ার কারণে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি সবার জন্য একটি সহজলভ্য ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে বক্তব্যে তুলে ধরেন।

 

এছাড়াও প্রধান অতিথির তার বক্তব্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস এর সমন্বয়ে সামাজিক উন্নযন নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগে গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শ্রমজীবী মানুষের সঠিক শ্রমমজুরী নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তার বক্তব্যে ন্যায় ভিত্তিক এবং বাসযোগ্য সমাজ গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

 

এছাড়াও  প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে হলে আমাদের প্রতিটি গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি ও শহুরে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রূপান্তর করতে হবে আরডিএ বগুড়া সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আরডিএ  বগুড়া গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পাশাপাশি লালিত স্বপ্ন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হাতে গড়া আরডিএ নিরলস কাজ করছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টাকে বাড়িয়ে তুলতে এবং গ্রামীণ উন্নয়নে একটি “সেন্টার অব এক্সিলেন্স” বা উৎকর্ষ কেন্দ্র হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনের জন্য প্রগতিশীল কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নে তিনি সরকারের 8ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা: পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও নির্দেশিকাগুলি মনে রাখার জন্য আরডিএ বগুড়া’র অনুষদ সদস্যদের এবং অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ দেন।

 

একাডেমীর ৩৬ তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন জনাব মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আরডিএ, বগুড়া। অনুষ্ঠানে আরডিএ বগুড়া’র বোর্ড অব গভর্নরস (বিওজি), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষকবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আগত অতিথিবর্গ, গবেষক, বিশেষজ্ঞসহ একাডেমীর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগত বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা বিষয়ে বিভিন্ন রকম পরামর্শ গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া’র উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনী, গবেষণা প্রবন্ধ এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।