প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-১৯ ০৪:৪১:৪৭
নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর-খিদির এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারটিকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বাড়িছাড়া এবং জীবিকার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর-খিদির এলাকার ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে ফেরার পথে একই এলাকার হাসান মিয়া জোরপূর্বক তাকে নিজ ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
ঘটনার পর ৪ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সালিশ চলাকালীন সময়ে মজিবুর রহমানের নির্দেশে হাসান মিয়া, ঈমান আলী, জামাল, কাশেম, হালিমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বাবুল হোসেনের ১৬ বছর বয়সী ছেলে রাকিবের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। হামলার সময় কয়েকজন নারীও শ্লীলতাহানির শিকার হন এবং নগদ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা তাদের নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
তাদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির বাবা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল শহরের সার্কিট হাউসের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ সময় আহত জাহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, "মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। মামলার এক নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"