প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩


জেলা খবর

দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু; টাঙ্গাইলে উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক

প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-২৮ ১১:৩০:১০

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি: 
দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলেও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

আজ রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) সকালে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণের মাধ্যমে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যাপ্তসংখ্যক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

 

জেলা প্রশাসক অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জেলার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারণা, পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে নির্ধারিত সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্ধত্ব প্রতিরোধ, সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং শিশুর সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই কোনো শিশু যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।