প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জেলা খবর

প্রাইভেটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ রাকা, কয়েক ঘণ্টা পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার; গ্রেপ্তার -৩

প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-১৩ ০১:৩৪:৩০

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়া মহল্লায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৭ বছর বয়সী শিশু রাকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

 

এ ঘটনায় প্রতিবেশী আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বণ্যা বেগম (৩০) ও প্রতিবেশি আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় তারা আহত হন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সে শিক্ষিকার কাছে পৌঁছেনি। পরে রাকার ফুফু খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন সে পড়তে যায়নি।

 

এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও কোনো সন্ধান না মেলায় রাকার বাবা রায়হানকে খবর দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মরত। বাড়িতে ফিরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

 

এদিকে রাকাকে খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় যুবক প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন।

 

এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। ঋণগ্রস্ত অবস্থায় থাকার পরও ঘটনার দিন তিনি বিপুল পরিমাণ বাজারসদাই এবং স্ত্রীর জন্য নতুন কাপড় কিনে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

 

সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজন যুবক আমজাদের বাড়িতে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে একটি কক্ষে ব্রয়লার মুরগির খাঁচার পাশে রাখা পোল্ট্রি ফিডের একটি বস্তা তাদের নজরে আসে। বস্তার মুখে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। কাপড় সরিয়ে ভেতরে শিশু রাকার মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়।

 

এ খবর পেয়ে অতি দ্রুত আদমদীঘি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর পর খবর পেয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান।  পরে আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে পৌঁছান। 

 

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।  অভিযুক্ত আসামি স্বামী ও স্ত্রী বর্তমান নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

 

এ সময় সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় রাত ১টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের নিরাপদে আদমদীঘি থানায় নেওয়া হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, জনতার মারধরে আহত হওয়ায় আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 

আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো এলাকা।