প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জেলা খবর

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৬০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-২৭ ১৩:১৬:৪৮

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ ২৭ মে, ২০২৬ বুধবার অবিরাম বৃষ্টি এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরমুখী হাজার হাজার যাত্রী এই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকায় যথাসময়ে বাড়ি ফেরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা কোনোমতে যমুনা সেতু পার হতে পারলেই পরবর্তী রাস্তায় আর কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন না।

 

বর্তমানে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে শুরু করে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতুর মাঝামাঝি পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়েই যানবাহনের এই দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

 

গাজীপুর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার এই অঞ্চলের বেশিরভাগ পোশাক ও শিল্পকারখানা একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র জটলা তৈরি হয়। সারারাত চরম দুর্ভোগ পোহানোর পর আজ বুধবার ভোর থেকে গাজীপুর অংশের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। হাইওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ ইতিমধ্যে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

 

গাজীপুর অঞ্চলের নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম জানান, একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহনের ঘাটতি এবং সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এখন গাজীপুর অংশে জটলা অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে চন্দ্রা থেকে কালিয়াকৈরের সূত্রাপুর পর্যন্ত গাড়ির গতি কিছুটা ধীর রয়েছে, যা দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এদিকে আজ বুধবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের গোড়াই থেকে শুরু করে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনের চাকা থমকে আছে। অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পিচ্ছিল সড়ক এবং মাঝরাস্তায় হুটহাট গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলমুখী তিন লেনের এই মহাসড়কে তীব্র জটলা তৈরি হয়েছে। গণপরিবহনের পাশাপাশি যারা বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে চড়ে রওনা হয়েছেন, তারা বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে যাত্রীরা তীব্র ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

 

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকার জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সীমানার পুরোটা জুড়েই এখন যানবাহনের চাপ রয়েছে। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও রাস্তায় গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেই এই জটিলতা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই যানজট সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

 

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ প্রান্ত থেকে স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। যমুনা সেতুর পশ্চিম পার থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে যাওয়ার পথে কোনো যানজট নেই। মূলত সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা থেকে শুরু করে সেতুর মাঝখান পর্যন্ত কিছু গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেই ঢাকামুখী লেনে কিছুটা জটলা রয়েছে। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, সেতু পার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গগামী সড়ক একদম পরিষ্কার। দুপুরের পর থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।