প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-২৩ ২২:০৮:৪৩
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
সবুজ ঘাসের মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে খুদে ফুটবলাররা। কারও পায়ে বল, কেউ গোলের উদ্দেশে শট নিচ্ছে, আবার কেউ উল্লাসে মেতে উঠছে সতীর্থদের সঙ্গে। শিশুদের এই প্রাণচাঞ্চল্যে শনিবার মুখর হয়ে ওঠে যশোরের হামিদপুরে অবস্থিত শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি।
ফিফা ও এএফসির নির্দেশনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়োজনে পালিত হয় ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’। দেশের পাঁচটি ভেন্যুর একটি ছিল যশোরের এই দৃষ্টিনন্দন একাডেমি।
দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেয় অসংখ্য বালক ও বালিকা ফুটবলার। মাঠজুড়ে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যেন জানান দিচ্ছিল— ভবিষ্যতের লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তৈরি হচ্ছে এখান থেকেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস এবং পাকিস্তানের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জায়ান আজিজও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
স্বাগত বক্তব্যে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। স্পিকার মহোদয়ের আগমনে এই একাডেমির শিশু ফুটবলাররা আরও অনুপ্রাণিত হবে। আমরা চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক।
শিশুদের খেলায় মুগ্ধ হয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন নিজের তারুণ্যের দিনগুলোর। তিনি বলেন, এখানে এসে আমি আমার তরুণ বয়সে ফিরে গেছি। যশোর আমার সবচেয়ে প্রিয় শহর। আমি যশোর ক্যান্টনমেন্টে যুদ্ধ করেছি, এখানে চাকরিও করেছি। শামসুল হুদার নামে স্টেডিয়াম ও একাডেমি হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, নাসের জাহেদীর মতো যদি দেশে আরও দশজন ক্রীড়ামোদী থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ হয়তো অনেক আগেই বিশ্বকাপের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। আমি আশা করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যশোরের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের মানও আরও উন্নত হবে।”
অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা থেকে কোচ আনার। যারা ভালো খেলবে, তাদের আর্জেন্টিনায় পাঠানোর বিষয়ও ভাবা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোসও একাডেমির সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিশুদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফুটবল তারকারা।
যশোর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হামিদপুরের শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি ইতোমধ্যেই ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই একাডেমি হয়ে উঠতে পারে দেশের ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনার কেন্দ্র।
খুদে ফুটবলারদের হাসি, দৌড় আর স্বপ্নে ভরা এই আয়োজন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল— বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে তৃণমূলেই।