প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-১০ ১৫:২৬:৫১
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
‘দক্ষ নারী শক্তি, খামারের উন্নতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্ট (বিডিএফপি) যশোরের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা ১০০ জন নারী খামারি প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় কর্মশালায় অংশ নেন।
ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্ট যশোরের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. মাহাবুব হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী খামারিদের ভূমিকা অপরিসীম। তবে রোগবালাইয়ের কারণে অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হন। গবাদিপশুর গুটি বসন্ত ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা প্রদান এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার। তিনি খামারিদের উন্নত জাতের ঘাস চাষ, সুষম খাদ্য তৈরি, দুধ দোহনের আধুনিক পদ্ধতি এবং দুধ সংরক্ষণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিকুর রহমান, ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্টের এলাকা ব্যবস্থাপক আসিফ মাহমুদ ও সোহেল রানা এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আফতাব উদ্দিন রুমি।
প্রশিক্ষণে গাভীর জাত উন্নয়ন, কৃত্রিম প্রজনন, বাছুরের যত্ন, রোগ প্রতিরোধ, খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুধের বাজারজাতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। খামারিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিক সমাধান দেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নাভারণ গ্রামের খামারি রাশিদা বেগম বলেন, “আগে না বুঝে গরু পালতাম। আজ অনেক কিছু শিখলাম। এখন রোগ হলে কী করব, কিভাবে বেশি দুধ পাব—সব বুঝতে পারছি।”
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহাবুব হাসান বলেন, “নারী খামারিদের দক্ষ করে তুলতে পারলেই খামারের উৎপাদন বাড়বে। ব্র্যাক নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একজন নারীও যেন তথ্য ও সেবার বাইরে না থাকে।”
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা পরবর্তীতে নিজ নিজ এলাকায় অন্য খামারিদের পরামর্শ দিয়ে ‘লিড ফার্মার’ হিসেবে কাজ করবেন। এতে পুরো এলাকার ডেইরি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।